বৃক্ষরোপন ও বনসংরক্ষণ [Brikho Ropon সঙ্গে PDF]

সমস্ত রকমের বাংলা প্রবন্ধ রচনার একমাত্র ঠিকানা banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত। নিয়মিত নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনা পাওয়ার জন্যে আমাদের অনুসরণ করুন।Banglarachana.com এর পক্ষ থেকে আজকের নতুন প্রবন্ধ রচনা – ” বৃক্ষরোপণ ও বনসংরক্ষণ”

বৃক্ষরোপন ও বনসংরক্ষণ রচনা

ভূমিকা:

আধুনিক নগরজীবনে ক্লান্ত বিধ্বস্ত কবি একদিন ব্যাকুল হয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর।”আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পৃথিবী জুড়ে গড়ে উঠছে অসংখ্য শহর,নগর ও বন্দর।দূষিত পরিবেশে মানুষ ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে কাজের সন্ধানে,আশ্রয়ের আশায়, প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে _এ যেন এক প্রতিযোগিতা, কে কার আগে পৌঁছাবে তারই কলরব।চারিদিকে শুধু দূষণ আর দূষণ।এই কঠিন
পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষ আজ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে তার আজ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মুক্ত পরিবেশ, সবুজ প্রান্তর।দূষণ প্রতিকার করতে ও সুন্দর শ্যামল পরিবেশ গড়ে তুলতে বনসংরক্ষণ করা ও বৃক্ষরোপণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

অরণ্য উচ্ছেদ:

প্রাচীনকালে পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক অংশ ছিল আরণ্যাবৃত।জনবসতির বিস্তার ও কৃষি জমি প্রসারের কারণে বনভূমির বৃক্ষ ছেদনের কাজে কোমর বেঁধে কুঠার ধরলো মানুষ। হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত বনভূমি এই ভাবেই শেষ হতে থাকলো। মোট বনভূমি বা অরণ্যের প্রায় অর্ধেক অংশ শেষ করে ফেলেছে মানুষ।শেষ পর্যন্ত যে অরণ্য পরিত্রাণ পেয়ে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করেছে,তার পরিমাণ হল পৃথিবীর মোট স্থলভাগের শতকরা মাত্র ২৭ ভাগ।

বৃক্ষরোপণ তথা বনমহোৎসব:

গাছ আমাদের একমাত্র অকৃত্রিম বন্ধু। গাছপালা বাদ দিয়ে পৃথিবীতে অন্য কোনো জীবের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না।কিন্তু চারা গাছ লাগানো নয়, গাছ কাটার দিকেই মানুষের মনোযোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই গাছ লাগানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত।আমাদের এই আধুনিক দূষিত যন্ত্র জীবনে বৃক্ষ রোপন করা একান্ত প্রয়োজন আমাদের নিজেদের স্বার্থে।বৃক্ষরোপণের কার্যক্রমই বনমহোৎসব নামে পরিচিত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে আশ্রমবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বর্ষার দিনে বনমহোৎসব পালন করতেন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বনমহোৎসব তথা বৃক্ষরোপণ করা হয়ে থাকে।

বৃক্ষরোপণ অভিযান:

বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে ও এর সম্প্রসারণের জন্য দেশে বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রত্যেক বছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দুএক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। বিনা মূল্যে চারা গাছ দেওয়া হয় লাগানোর জন্যে এছাড়াও প্রচার করা হয় গাছের প্রয়োজনীয়তা ও গাছ লাগানো ও সংরক্ষণের সঠিক উপায়।নিঃসন্দেহে বলা যায় বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা।গাছ বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে আমাদের তাই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করার জন্য সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা নয়,আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত।

বনসংরক্ষণ:

বনসংরক্ষণ না করে শুধু বৃক্ষরোপণ করা একবারেই অর্থহীন।গাছ লাগানোর সাথে সাথে বনভূমিতে যেসব গাছ রয়েছে তাদের বাঁচিয়ে রাখাটাও আমাদের দায়িত্ব।পৃথিবীকে দূষণমুক্ত সবুজ করে তুলতে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয় ,এর জন্য আগে গাছ কাটা বন্ধ করা প্রয়োজন।আজকাল অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে অনেক অনেক গাছ কেটে ফেলছে।এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের তাড়াতাড়ি আইনের আওতায় আনতে হবে।কোনো বিশেষ প্রয়োজনে একটি গাছ উচ্ছেদ করলে তার বদলে দশটি চারা গাছ লাগাতে হবে।শুধু সরকার নয় এব্যাপারে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে তবেই বন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যও সফল হবে।

বন সংরক্ষণের ব্যবস্থাদি:

বনসংরক্ষণের জন্য পালনীয় কিছু ব্যাবস্থা –

১) চারা গাছ লাগানো ও তার সঠিক পরিচর্চা করা।
২)অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ নিবারণ।
৩)অপরিণত বৃক্ষ ছেদন না করা।
৪)দাবানলের হাত থেকে বন জঙ্গল রক্ষা করা।
৫) অরণ্য গবেষণার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা করা।

উপসংহার:

আধুনিক যন্ত্র জীবনের দূষিত পরিবেশ মানুষকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় আরণ্যক সভ্যতার উদার প্রশান্ত জীবনের কথা।কিন্তু এই আধুনিক নগরজীবন ত্যাগ করে অরণ্যে ফিরে যাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।তাই আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই বনায়নের ওপর অর্থাৎ বৃক্ষরোপণের প্রতি আমাদের সকলকে মনোযোগ দিতে হবে।শুধুমাত্র সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়েই নয় বরং ব্যক্তিগতভাবেও সকলকেই যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে বৃক্ষরোপণের।দূষণমুক্ত সবুজ সুন্দর পরিবেশ গড়ার উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


“বৃক্ষরোপন ও বনসংরক্ষণ” রচনাটি আপনার কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার প্রয়োজন ও পছন্দের খেয়াল রাখি আমরা। এরকম আরও রচনা পাওয়ার জন্য follow করুন banglarachana.com
ধন্যবাদ।।

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব
বইমেলা

উল্লেখ: https://ecofri.webs.com/

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content