দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান রচনা [সঙ্গে PDF]

নমস্কার। banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত জানাই। নিয়মিত নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনার পাওয়ার জন্য আমাদের follow করুন। আজকের রচনা – দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

ভূমিকা:

শিক্ষা সভ্যতা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এনেছে এক অকল্পনীয় পরিবর্তন। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আশ্চর্যকর আবিষ্কার মানুষের জীবনধারাকে একদম বদলে দিয়েছে,বদলে দিয়েছে মানসিকতাকেও।কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাসের ঘন অন্ধকার হারিয়ে গেছে অনেকাংশেই।অসুস্থ মানুষ রোগ নিরাময়ে ওঝার কাছে ছুটে যায়না।প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মন্দিরে মাথা ঠোকেনা।ভগবানের ভূমিকায় এখন চিকিৎসক।রাত্রির কালো অন্ধকার আর এখন নেই,রাত্রি এখন আলোকজ্জ্বল।প্রতিদিনের জীবনে খুঁটিনাটি সমস্ত কিছুর মধ্যেই রয়েছে বিজ্ঞানের অবদান।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান:

আধুনিক জীবনের চরম উৎকর্ষের এবং অফুরন্ত ঐশ্বর্যের মূলে রয়েছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের অবদানে আমাদের জীবন আজ পূর্ণ।প্রতিদিনের জীবনের অভ্যেসকে পাল্টে দিয়েছে বিজ্ঞান।কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হলে আমাদের জীবন অচল হয়ে পড়ে।প্রযুক্তি বিজ্ঞানের নিত্যনতুন আবিষ্কার আমাদের জীবনকে কোন ধারায় নিয়ে চলেছে তা বলে শেষ করার মতো নয়।

সকালে ঘুম ভাঙ্গানোর অ্যালার্ম,বিছানা ছেড়ে টুথ পেস্ট,গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না , অফিস যাওয়ার গাড়ী,কম্পিউটার, ক্যালকুলেটর,মোবাইল ,টেলিভিশন, বাস ,ট্রেন,এরোপ্লেন সবকিছুর সাথেই জড়িয়ে রয়েছে বিজ্ঞান।বিজ্ঞান ছাড়া একটা মুহূর্ত কল্পনা করা যায় না।প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সহজ সরল আরাম দায়ক করে তুলেছে।অসহ্য গরমে তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে,মানুষের সুবিদার্থে বিজ্ঞানীরা ঘুরিয়ে দিয়েছে নদীর গতিপথ,উষ্ণ মরুকে করেছে শস্য শ্যামল। হাড় ভাঙা পরিশ্রমকে বিজ্ঞান অনেক সহজ করে দিয়েছে। আজকের কর্মব্যস্ত মানুষ বিজ্ঞান ছাড়া একপাও এগোতে পারে না ।

বিজ্ঞান বনাম মানুষ:

বিজ্ঞানের প্রভাবে বর্তমানে মানুষ যন্ত্রে পরিণত হয়েছে,তাকে অনুসরণ করে যন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয় না,যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সময়ের মানুষ চালিত হয়।জীবনকে সহজ ও সুখের করতে মানুষের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা তাকে নতুন নতুন আবিষ্কার করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইলেকট্রনিকস ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে রোবট ও কম্পিউটারের আবিষ্কার মানুষের জীবনধারার পট পরিবর্তন করেছে।বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যন্ত্রের দাসে পরিণত হয়েছে।বর্তমান সময়ে মানুষের একটা মুহূর্ত বিজ্ঞান ছাড়া অচল।প্রয়োজনের সমস্ত কিছু মুঠো বন্দি। মোবাইল ,ইন্টারনেট পরিষেবা এসব ছাড়া মানুষ এখন তার জীবন ভাবতেও পারেনা।

প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও দারিদ্র:

প্রযুক্তি বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ ও সুখের করে তুলেছে এব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে পৃথিবীর অনেক মানুষ এই সমস্ত উপভোগের উপকরণ থেকে বঞ্চিত।প্রযুক্তি বিজ্ঞানের নানান অভিনব আবিষ্কার উপভোগ করতে প্রয়োজন অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।অর্থের অভাবে আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছেই দৈনন্দিন জীবনে উপভোগের উপকরণ গুলো আজও গিয়ে পৌঁছাইনি।যন্ত্র বিজ্ঞানের নানান সুবিধা গুলো যেদিন গরীব মানুষ গুলোও পাবে সেদিন আধুনিক মানব সভ্যতা সার্থক হয়ে উঠবে।

বিজ্ঞানের অপকারিতা:

সকল মানুষের জীবন আজ ভীষণভাবে বিজ্ঞান নির্ভর।যন্ত্রের উপর নির্ভর করতে গিয়ে মানুষ দিনদিন শ্রমবিমুখ হয়ে পড়ছে,ক্রমশ কমছে যাচ্ছে মানুষের আত্মনির্ভরতা।বিজ্ঞান হল বর্তমান মানুষের হাতিয়ার।এই হাতিয়ারকে সৎ অসৎ যেকোনো কাজই করা সম্ভব।আসলে এটা নির্ভর করে প্রয়োগ কর্তার উপর।পরমাণু শক্তি যেমন মানবকল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে তেমনই এক মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে মানবসভ্যতা কে।মানুষের লোভ,হিংসার জন্য দিনদিন বিজ্ঞান নানান খারাপ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উপসংহার:

বিজ্ঞানের অবদান আজও সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমান ভাবে পৌঁছায়নি।দারিদ্রতা কারনে কোটি কোটি মানুষের জীবনে এখনও বিজ্ঞানের আলো গিয়ে পৌঁছায়নি।চেষ্টা চলছে প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার,ভালো রাস্তা বানিয়ে গ্রাম গুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার,উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার।একদিন নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষদের কাছে নিশ্চয় পৌঁছে যাবে প্রগতির বাহন প্রযুক্তি বিজ্ঞান।


আজকের রচনা – “দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান” আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানানোর অনুরোধ জানাই।বানান ভুল বা যেকোনো রকমের ভুল এড়িয়ে যাবেননা আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানান।আপনাদের মন্তব্য আমাদের লেখার জন্য উৎসাহিত করে। নিয়মিত নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আমাদের follow করুন।

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব
বইমেলা

উল্লেখ: বিজ্ঞান – উইকিপিডিয়া

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি

Rakesh Routh

Facebook

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

এই লেখকের কাছ থেকে আরও পড়ুন

Post টি Share করতে ভুলবেন না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।