দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

আমার প্রিয় বন্ধু রচনা [সঙ্গে PDF]

জীবনে চলার পথে নতুন নতুন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আমাদের। সময়ের সাথে হারিয়ে যায় এই সকল বন্ধুদের অধিকাংশই। জীবনে নতুন বন্ধুদের আসা ও পুরনো বন্ধুদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কিছু কিছু বন্ধু আমাদের জীবনে ও মনে বিশেষ জায়গা দখল করে নেয়, এদেরই আমরা প্রিয় বন্ধু বলে থাকি। এমন এক প্রিয় বন্ধু আমাদের সকলেরই থাকে। এমন এক প্রিয় বন্ধুর উদ্দেশ্যেই আমাদের আজকের উপস্থাপন আমার প্রিয় বন্ধু রচনা।

ভূমিকা:

জীবনে বিভিন্ন বিভিন্ন সময়ে অনেক বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই অধিকাংশ সময় মনে থাকে না। তাদের সাথে আলাপও চিরস্থায়ী হয় না। সময়ের সাথে সাথে আমরা যখন নতুন স্কুল কিংবা ক্লাসে উঠি তখন পুরনো সেই বন্ধুত্বও ছিন্ন হয়ে যায়।

কিন্তু এদের সকলের মধ্যেও কয়েকজন বন্ধু আমাদের কাছে চিরস্থায়ী হয়। এ সকল বন্ধুদের সাথে সারা জীবন আমাদের আলাপ থাকে, বন্ধুত্ব থাকে, বজায় থাকে ভাব বিনিময়। এমন বন্ধুদের ছাড়া জীবন শূন্যতায় ভরে ওঠে। সেই কারণে কিছু কিছু ভালো বন্ধু থাকা জীবনে অত্যন্ত জরুরী।

সেই সকল ভালো বন্ধুদের মধ্যে কোন একজন আমাদের সবচেয়ে কাছের হয়ে ওঠে। সে হয় একপ্রকার সর্বক্ষণের সাথী। তার সাথে আমাদের এমন হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে যে মনের কোণে ঘুরতে থাকা কোন কথা তাকে না বললে মন হাঁসফাঁস করে। আমারও এমন একজন প্রিয় বন্ধু আছে। তার বিষয়ে কথা বলার উদ্দেশ্যেই এই প্রতিবেদন রচনা।

আমার প্রিয় বন্ধু:

আমার প্রিয় বন্ধু হলো অরিজিত। অরিজিতের সঙ্গে আমার আলাপ ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে। সেই দিনটির কথা আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি, কিন্তু তবুও আমি স্কুল যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে আছি।

কারণ সেদিন ছিল আমার ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম ক্লাস। যাইহোক বৃষ্টি থামলে কোনরকমে স্কুলে পৌঁছে নির্দিষ্ট কক্ষে ঢুকে বসার পর পাশে একজন অচেনা ছেলেকে বসে থাকতে দেখলাম। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম ওর নাম অরিজিত।

সেই দিন টিফিন বেলায় আমরা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলেছিলাম। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ওর সাথে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এখন আমরা স্কুলে সবসময় একসাথে বসি। এমনকি আমার সবকটি কোচিং ক্লাসেও আমরা একসাথে পড়াশোনা করি।

কেন আমার প্রিয়:

প্রতিটি প্রিয় বন্ধু বিভিন্ন কারণের জন্য আমাদের প্রিয় হয়ে ওঠে। আমি আর অরিজিত দুজন দুজনের প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও এরকম কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত আমরা দুজন দুজনকে বন্ধু হিসেবে ভীষণ ভালোবাসি।

পড়াশোনার বিষয়েও আমাদের উৎসাহ একই রকম। খেলাধুলার ক্ষেত্রেও আমি এবং অরিজিৎ দুজনেই ফুটবল খেলা পছন্দ করি। ফুটবলের মাঠে আমাদের দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ভীষণ রকম ভালো। তাছাড়া স্কুলে ও কোচিং ক্লাসে সব সময় একসাথে থাকার কারণে সময়ের সাথে সাথেই আমাদের এই বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হয়েছে।

আমাদের বন্ধু জীবন:

আমার কাছে আমাদের দুজনের এই বন্ধু জীবন এককথায় অনবদ্য। আমরা স্কুলে এবং কোচিং ক্লাসে সবসময় একসাথে থাকি, একসাথে বসি এবং একসাথে পড়াশুনা করি। আমার এবং অরিজিতের বাড়ি খুব কাছাকাছি হওয়ার কারণে উভয়ের বাড়িতেই উভয়ের যাতায়াত রয়েছে। অরিজিতের বাবা ও মা আমায় অত্যন্ত স্নেহ করেন। আমরা প্রতিদিন একসাথে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাই এবং একসাথে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরি।

তারপর কোচিং ক্লাস থাকলে একসাথে পড়তে যাই আর কোচিং ক্লাস না থাকলে মাঠে যাই খেলতে। পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আমরা দুজন দুজনকে যথাসাধ্য সাহায্য করে থাকি। পরীক্ষার আগে আমরা একে অপরের বাড়িতে একসাথে পড়াশোনা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। আমাদের দুজনের ইচ্ছে আছে বড় হলে ভবিষ্যতে একসাথে দূরে কোথাও ঘুরতে যাব।

একটি স্মরণীয় ঘটনা:

আমাদের বন্ধু জীবনে প্রতিদিন এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলি মনে রাখার মত। কিন্তু সেই ঘটনাবলীর সংখ্যা এতই বেশি যে সব মনে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থেকে যায়। যেমন এখনো একটি দিনের কথা আমার মনে আছে। সেই দিন রবিবার; আমাদের সবার স্কুল ছুটি।

আমরা বিকেল বেলা রোজকার মতন মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছি। হঠাৎ খেলতে খেলতে মাঠে একটি গর্তে আমার পা পড়ে পা মচকে অসহ্য যন্ত্রণায় আমি মাঠে পড়ে গেলাম। অরিজিত সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামিয়ে কাছে এসে আমার পা দেখে দৌড়ে সামনেরই কোন দোকান থেকে বরফেনে আমার পায়ে লাগিয়ে দিতে দিল। তার খানিকক্ষণ পর আমায় তুলে ওর সাইকেলে করে বাড়িতে নিয়ে এলো।

মা যখন আমায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন অরিজিত তখনও আমার সঙ্গে। এক্স-রে পরীক্ষায় ধরা পরল আমার পায়ের একটি হাড়ে সামান্য চিড় ধরে গিয়েছে। তারপর থেকে আমি প্রায় একমাস খেলতে যেতে পারিনি, এমনকি স্কুলেও যেতে পারিনি।

সেই সময়ে প্রত্যেকদিন স্কুল থেকে অরিজিত সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসত, আমরা সারা বিকেল গল্প করতাম, সন্ধ্যেবেলা একসাথে পড়াশোনা করতাম, আর তারপর আমার বাবা রাতের দিকে ওকে ওর বাড়িতে পৌঁছে দিতেন।

উপসংহার:

আমি মনে করি আমার এবং অরিজিতের এই বন্ধুত্ব চিরন্তন। কোন দিন আমরা দুজন দুজনের থেকে মানসিকভাবে দূরে চলে যাব না। অন্যান্য সকল বন্ধুদের মতন আমরা কোনদিন নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে দেবো না। ভবিষ্যতে আমরা যখন বড় হব, নিজেদের পায়ে দাড়াবো, তখন মাঝেমধ্যেই একসাথে দূরে কোথাও বেড়াতে যাব।

আমরা সব সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে দুজন দুজনের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং সারা জীবন করবো। এইভাবে আমরা চিরকাল দুজন দুজনের পাশে থেকে বন্ধুত্বের আসল অর্থকে সার্থক করে তুলতে পারব এই আশা রাখি।


প্রিয় বন্ধুরা আমার প্রিয় বন্ধু রচনাটি পড়ে তোমাদের কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট করে জানাও। এরকম আরও রচনা পড়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকো। ভালো থেকো সুস্থ থেকো আর পড়তে থাকো banglarachana.com.

Print Friendly, PDF & Email

রাকেশ রাউত

রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট