দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা প্রবন্ধ রচনা [PDF]

প্রথম যেদিন মানুষ পাথরে পাথরে ঠোকা লাগিয়ে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল, সেদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল বিজ্ঞানের জয় যাত্রা।তার পর আর ক্ষণিকের জন্যও থামেনি বিজ্ঞান।কঠিন রোগ জীবাণু থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্য

য়ের বিরুদ্ধে এক বিশেষ শক্তি হয়ে মানবজাতিকে আগলে রেখেছে বিজ্ঞানের অবদান।জটিল সব সমস্যার সহজ সমাধান করতে পেরেছে বিজ্ঞান।সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে বিজ্ঞান। এ নিয়ে আজকের বিষয় বিজ্ঞানের জয়যাত্রা প্রবন্ধ রচনা।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে আজ ক্রমশই এগিয়ে চলেছে আধুনিক মানুষ। মধ্যযুগের দেববিশ্বাস ও ভক্তি আধুনিক জীবনে মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং মর্ত্যময়তায় রূপান্তরিত হয়েছে।

এই মর্ত্যময়তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ। আধুনিক জীবনে যুক্তিবাদ এবং সাধারণ জ্ঞান থেকেই শুরু হল বিজ্ঞানের জয়যাত্রা।

প্রাত্যাহিক জীবনে বিজ্ঞান মানুষকে দিল মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে মুক্তি। মানুষ আর অযথা দেবতার ওপরে ভরসা না করে কিংবা প্রকৃতির ওপর আর শুধুমাত্র আস্থা না রেখে বিকল্পের সন্ধান করতে লাগলো।

ফলে ব্যাবহারিক জীবনে বিজ্ঞানের ব্যাবহারকে গ্রহণ করতে থাকলো মানুষ। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারে মানব সভ্যতার সুরম্য প্রাসাদ আজ প্রতিষ্ঠিত।

প্রাকৃতিক বিপর্জয়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা:

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের আকস্মিক বিপর্যয় হল প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যেমন -ভূকম্পন, অগ্নুৎপাত, সাইক্লোন, টাইফুন, টর্নেডো, বন্যা, ইত্যাদি। এই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাছে মানুষ বরাবরই ছিল অসহায়।

তবুও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কেও বিজ্ঞানের দৌলতে কিছুটা হলেও জয় করতে সক্ষম হয়েছে মানুষ। এখন বিজ্ঞানের দৌলতে আবহাওয়ার আগাম খবর আমরা সহজেই জানতে পারছি।

ফলস্বরূপ, সেই খবরানুযায়ী মানুষকে পূর্বেই সচেতন করা সম্ভবপর হচ্ছে। আবহাওয়ার অগ্রিম খবর জেনে যাওয়ায় ফলে, বিপদ সংকুল এলাকা থেকে, দুর্যোগের আগেই মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা:

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান এনেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। মানুষ বিজ্ঞানের দৌলতে বহু দুরারোগ্য ব্যাধিকে নির্মূল করতে পেরেছে। যেমন কলেরা, যক্ষা, বসন্ত, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি ব্যাধির চিকিৎসা করা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের জন্য।

এছাড়াও এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায়না। শুধু তাই নয়, সার্জারির ক্ষেত্রে আজ এসেছে যুগান্তকারী। হার্ট সার্জারি করে মানুষকে জীবন দানও সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের ফলেই।  

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা:

কৃষিক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের দৌলতে হয়েছে অনেক  উন্নয়ন। ভূমি কর্ষণ থেকে ফসল সংগ্রহ, ঝাড়াই-মারাই, সংরক্ষণ প্রভৃতি সর্ব ক্ষেত্রে কৃষকরা আজ গ্রহণ করেছে বিজ্ঞানের দানকে। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে কৃষকরা বুঝে যাচ্ছে কোন জমিতে কি রকম ফসল ফলবে।

ডিপ টিউবওয়েলবসিয়ে একই জমিতে তিন বার ফসল উৎপাদন করছে তারা। লাঙ্গলের পরবর্তী কৃষকরা ব্যবহার করছে ট্রাক্টর। কৃষি জমিতে তারা ব্যবহার করছে রাসায়নিক সার।

প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা:

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমোতে যাওয়া অবধি একজন মানুষের ক্ষেত্রে প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের অস্তিত্বকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে অফিস, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য।

শুধু একটি দিনের জীবনচর্চাকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাবো আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের অবদান কতটা। যেমন অ্যালার্ম শুনে রোজ ঘুম থেকে ওঠা, তারপর দাঁত মাজার পেস্ট ও ব্রাশ, ফোয়ারার জলে স্নান করা, কলিং বেল টিপে ডাকা, এয়ার কন্ডিশন ঘরে আরাম অনুভব করা, লিফটের  মাধ্যমে বহুতল বাড়িতে ওঠা, অবসর সময়ে বিনোদনের জন্য রেডিও শোনা বা টিভি দেখা, খাদ্য তৈরী করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করা, প্রভৃতি প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের সাহায্য ছাড়া আমরা চলতে পারিনা।

শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষরাও বৈদ্যুতিক আলো এবং বৈদ্যুতিক মাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছে। গ্যাসের উনুন, ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি ব্যবহার করছে মানুষ। অফিস আদালত কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ই-মেইল, প্রভৃতি সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অবদান অসীম।  প্রতিদিনের গৃহ কার্য থেকে শুরু করে, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বাছন্দ্য, আমোদ-প্রমোদ,  কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি সমস্ত ক্ষেত্রেই  বিজ্ঞানের অতুলনীয় অবদান রয়েছে। 

বিজ্ঞানের অপব্যাবহার:

কথায় আছে, “নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা “-অর্থাৎ কোনো কিছু প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল হয়, তাহলে সেই ভুলটা প্রয়োগকারী অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। সেরকম বলতে গেলে অপবিজ্ঞানকেও বিজ্ঞান বলে চালানো হয়।

যেমন আগ্নেয় অস্ত্রের অপপ্রয়োগ বিজ্ঞানের অভিশাপকে সূচিত করে। পরমাণু বিজ্ঞান মানুষকে শক্তি দিল। কিন্তু, তার অপপ্রয়োগ ঘটালো মানুষ। বিভিন্ন আগ্নেয় অস্ত্র নির্মাণ করে, তার দ্বারা অস্ত্র ব্যাবসায় লিপ্ত হল বিশ্বের ধনী দেশগুলি।

পরমাণু শক্তিবাহী ক্ষেপনাস্ত্রগুলি মানুষের মারণ যজ্ঞে ব্যাবহৃত হওয়ায় তা মানুষের কাছে অভিশাপ স্বরূপ নেমে এলো। এসব ক্ষেপনাস্ত্রের দ্বারা দুরারোগ্য রোগের জীবাণুও ছড়ানো হচ্ছে। সুতরাং, বিজ্ঞানের এই অপপ্রয়োগ যুদ্ধের মনোভাবকে উস্কে দিয়েছে। 

মানুষ আজও ভুলতে পারেনি সেই বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নের কঠিন অভিজ্ঞতা, ধ্বংসের বীভৎসতা, হিরোশিমা-নাগাসাকির পারমাণবিক হত্যালীলা। আজও যেখানে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয়। 

আজকের আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী মানুষেরা সভ্যতার মারণ যজ্ঞের দাবানলকে প্রজ্জ্বলিত করে চলেছে পারমাণবিক বোমা তৈরী করে। যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসাত্বক ক্ষমতা তীব্র হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আধুনিক নিউট্রন বোমার বিস্ফোরণ বহু দূরবর্তী স্থানে বসবাসকারী মানুষকেও মহা শ্মশানের চির নিদ্রায় মগ্ন করবে। আজ আনবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির দখলে যে বোমা আছে, তার সিকি ভাগই মানব সভ্যতাকে সমূলে বিনাশ করতে যথেষ্ট।

বিগত ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যে লঙ্কাকান্ড ঘটে গেলো, এবং তারপর আমেরিকা যে প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল, তাতে সমগ্র বিশ্বে বিজ্ঞানের অপব্যাবহার তীব্র হয়ে উঠেছিল। মারণাস্ত্রের মাধ্যমে যে হত্যালীলা চলছে, তাতে গোটা বিশ্বের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষেরা আজ আতঙ্কিত। 

উপসংহার:

বিজ্ঞানের যেমন সুফল আছে, তেমনি আছে কুফলও। সব জিনিসেরই ভালো মন্দ দুটো দিক থাকে। তা বলে আমরা বিজ্ঞানকে দায়ী করতে পারিনা তার কুফলের জন্য। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় : 

“আমরা আমাদের লোভের জন্য যন্ত্রকে দোষ দিই, 

মাতলামির জন্য শাস্তি দিয়ে তাল গাছকে। “

মনে হয়, এই লোভ ও বিকৃতি থেকে মুক্তি পেতে গেলে, সহজ সুখের ও সরল সৌন্দর্যের দ্বারস্থ হতে হবে। জীবনের মাধুর্যকে উপেক্ষা করে, প্রেম ভালোবাসাকে বাদ দিয়ে যে শক্তি সাধনা তা প্রাণহীন ও যান্ত্রিক হতে বাধ্য।

শক্তির কাছে যদি প্রাণের মাধুর্য নির্বাসিত হয়ে যায়, গলদ যদি আনন্দের চেয়ে বেশি মূল্যবান হয় এবং প্রতাপ যদি প্রেমের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, তবে যন্ত্র সভ্যতার ব্যার্থতা অবধারিত।


বিজ্ঞানের জয়যাত্রা প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো আপনার ব্যাক্তিগত মতামত কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানান।আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি সবার থেকে সুন্দর ও আপনার মনের মতো করে একটি রচনা তুলে ধরার।

এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনাটির নাম কমেন্ট করে জানান।দ্রুততার সঙ্গে আমরা উক্ত রচনাটি যুক্ত করার চেষ্টা করবো।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content