দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা [PDF]

একঘেয়েমি জীবনের অবসরে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা।বছরের বিভিন্ন সময়ে পছন্দ মতো নানান জায়গায় ঘুরতে যায় আমরা।ঘুরতে যাওয়ার আনন্দের সেই সময় গুলোতে নতুন নতুন জিনিস দেখার ,অনেক কিছুর নতুন শেখার অভিজ্ঞতাও হয় আমাদের।সে নিয়েই আজকের বিষয় একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

বিপুল বিশ্বের অনেক দেশে ভ্রমণ করেও শেষ জীবনে রবীন্দ্রনাথ এই আক্ষেপ প্রকাশ করে গেছেন:

“বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি!

দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী,

মানুষের কত কীর্তি, কত নদী-গিরি-সিন্ধু-মরু,

কত-না-অজানা জীব, কত না অপরিচিত তবু

রয়ে গেল অগোচরে।”

বর্তমান যুগের দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্র্যহীন একঘেয়েমিতে মন যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে তখনই মানুষ বৈচিত্রের আকর্ষণে মনে প্রানে উৎসাহ জোগাতে ভ্রমণের তাগিদ অনুভব করে। ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভের মধ্যে মনে প্রফুল্লতা আসে, জ্ঞান অর্জন করা যায়।

অপরকে আপন‌ করার মনোবৃত্তি জন্মায়। দীর্ঘদিন সীমিত গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থাকলে মানুষের মন স্বভাবতই সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভ্রমণের মাধ্যমে সংকীর্ণতা ও মানসিক জড়তা দূর করা যায়। তাই যেকোনো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও গুরুত্ব অপরিসীম।

সুন্দরবন যাত্রা:

আমার চিরকালই ইচ্ছে ছিল কোনো এক স্থানে যাবার যেটি নদী ও গভীর অরণ্যের মাঝে হারিয়ে যাবে। যেখানে বন্যপ্রানী প্রতিনিয়ত চোখে পড়বে, ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দ এক আলাদা অনুভূতি দেবে। যেখানে জীবনের বাকি অর্ধেকটা কাটিয়ে উঠতে অসুবিধা হবে না। সেই নীল আকাশ, অরণ্য ও নদী দেখতেই আমার সুন্দরবন‌ ভ্রমণ।

মংলা বন্দরে এক বন্ধুর নিবাস। আগে সেখানে যাওয়া হবে এবং তারপরই‌‌ শুরু হবে সুন্দরবন যাত্রা। তাই আর অপেক্ষা না করে কোনো রকমে একটা ট্রলি ব্যাগে জামা প্যান্ট গুছিয়ে বাস ধরে রাতারাতি বেড়িয়ে গেলাম। সঙ্গে ছিল আরও কিছু বন্ধু। আমাদের ঘাঁটির নাম ছিল রয়্যাল বিল্ডিং।

সেখানে সবাই রাত কাটিয়ে ভোর হলেই সুন্দরবন যাত্রা।  আমাদের গন্তব্যস্হল প্রথমেই ঠিক করা ছিল কচিখালি, নীলকমল ও কটকা। প্রথমে আমাদের যাত্রা নীলকমল। সেখানে ‌ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশন‌ থেকে অনুমতি নেওয়া‌ হল বনে প্রবেশ করার জন্য। শান্ত-নীরব পরিবেশ, শুধু শোনা যাচ্ছে লঞ্চের ইঞ্জিনের আওয়াজ।

যে দিকেই দূর দূরান্তে চোখ যায় সে দিকেই শুধু সবুজ আর সবুজ। লঞ্চের পিছনে ছুটে আসা এক ঝাঁক নাম না জানা পাখির গমাগম আর বন্য জন্তুর ও নদীর রূপ দেখে বন্ধু শুভর স্ত্রী, সবিতা ভাবি যেন কবি হয়ে উঠেছেন ।

এভাবে কখন যে সকাল গড়িয়ে দুপুর চলে এল তা কেউ টেরই পেলাম না। দুপুরে যখন খাওয়া প্রায় শেষ তখন দূরে আবছা হয়ে ভেসে উঠল নীল কমল। তাকে  ‘হিরণ পয়েন্ট’ বলেও ডাকা হয়।

পরদিনের যাত্রা ছিল কটকা। সেখানে প্রতিনিয়ত চোখে পড়ল বিভিন্ন জাতের বক ও নাম না জানা পাখি। নানা রঙের মাছরাঙাগুলোই এপার ওপার যাচ্ছিল ও মাছ শিকার করছিল। আর অন্য দিকে খালের নীল জলে পানকৌড়ি ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।

কটকা পৌঁছতে বিকেল হয়ে গেল ।‌ সব চেয়ে বেশি কেওড়া গাছ বোধহয় এখানেই দেখা যায়। চারপাশে যে দিকেই চোখ পড়ে সে দিকেই দেখা যায় প্রচুর ভাঙা গাছের গুঁড়ি। তবে এই গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে বলে কটকার আগের দৃশ্যে ফিরে যেতে খুব একটা যে বেশি সময় লাগবে তা নয়।

কটকা সমুদ্র সৈকতে পৌঁছতেই আমরা দেখলাম সূর্য অস্ত যাওয়ার মুখে। আকাশে এক অপূর্ব রঙের খেলা আর লাল থালার মতো সূর্যের সমুদ্রজলে ডুব দেওয়ার দৃশ্য আমাদের মনে এক বিচিত্র অনুভূতির সৃষ্টি করে। তবে অন্ধকার নামার আগেই সবাই ফিরে এলাম লঞ্চে।

তারপর আমাদের যাত্রা কচিখালি যেখানকার সমুদ্র সৈকত আমাদের মনকে খুবই মুগ্ধ করেছিল।

সুন্দরবন দর্শনের অভিজ্ঞতা:

এটি এমন এক  যাত্রা যার অভিজ্ঞতা বলে বোঝানো যাবে না। পশু,পাখি, মাছরাঙা, বাঘের হুংকার, বিভিন্ন ধরনের মাছ ও অরণ্যের অপূর্ব দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করে। কোনো সময় নদী ও স্হলভাগ, কখনো বা নদী ও অরণ্য আবার কখনো বা চারিদিকে শুধু নদী ‌আমাদের মনকে ‌আকৃষ্ট করে। এ‌টি এক অপূর্ব মনোরম দৃশ্য যা নিজ‌ চোখে না দেখলে অনুভূতি করা যাবে না।

সুন্দরবন ভ্রমণকালে স্মরণীয় একটি ঘটনা:

সেখানকার এক স্মরনীয় ঘটনা বলতে গেলে আমাদের সব বন্ধুদের স্নান করার মজা। মোল্লাখালি পৌঁছে আমরা স্থানীয় একটি মিষ্টি জলের পুকুরে স্নান সারলাম। এটি হয়তো মনে থাকবে চিরকাল।

সেখানে স্নানের ঘাটেই কয়েকজন গ্রাম্য শিশুর সঙ্গে আলাপ, তারপর তাদের সাথে হই হুল্লোর করে স্নান করা ও আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো ‌আমার সারাজীবন মনে থাকবে।

উপসংহার:

সব শেষে এই বার বাড়ি ফেরার পালা। কচিখালি খালের ভেতরে এসে বোটের  ইঞ্জিন বন্ধ করে আমরা সবাই বেশ অনেকক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলাম। অনুভব করার চেষ্টা করলাম সেই অপূর্ব রঙিন পরিবেশের নিস্তব্ধতাকে।

অনুভব করার চেষ্টা করলাম এই নির্জনতা যাতে মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে আমাদের এই ভ্রমণ যাত্রা। এই অনুভূতি যেন কাউকে বলে বোঝানো যায় না। এই ভ্রমণের স্মৃতি আমার কাছে চির জাগরূক ও‌ পাথেয় হয়ে থাকবে সারাজীবন।


একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content