দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

আমার প্রিয় খেলা ফুটবল প্রবন্ধ রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু pdf সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

খেলতে আমাদের সকলেরই খুব ভালো লাগে।পছন্দের খেলার প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকে আমাদের।তবে আমাদের সকলের পছন্দ এক না,কারো ক্রিকেট ভালো লাগে কারো ফুটবল।আজকের রচনার বিষয় আমার প্রিয় খেলা (ফুটবল)।

আমার প্রিয় খেলা ফুটবল বৈশিষ্ট্য চিত্র

 ভূমিকা:

মানব মনের প্রশান্তি ও আনন্দ দানের জন্য যেকটি খেলার প্রচলন আছে তার মধ্যে ফুটবল খেলা হল অন্যতম। ফুটবল কথাটির উচ্চারণের সাথে সাথে মনে পড়ে মান্নাদের গাওয়া একটি গানের লাইন “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল”।

তবে ফুটবলখেলা শুধু আর বাঙ্গালীদেরই প্রিয় নয় সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে খেলাটি। এই খেলাটির জন্ম নিয়ে দ্বিমত আছে। ১৮৬৩ সালে এই খেলাটি প্রথম ইংল্যান্ডে চালু হয়। অনেকের মতে এই  খেলাটির প্রথম জন্ম হয় চীন দেশে।

আবার কেউ কেউ বলেন এই খেলাটি প্রথম জন্ম নেয় গ্রিক দেশে। তারপরে এই খেলা ইউরোপ মহাদেশ সহ সারা বিশ্বে তার পরিধি বিস্তার করে ফেলে। তবে ইতিহাস যাচাই করলে দেখা যাবে চীন দেশে প্রথম আধুনিক ফুটবল খেলার নিয়ম-কানুন স্থির করা হয়। 

ফুটবল খেলা কেন প্রিয়:

এ জগতে সব মানুষের পছন্দ এক নয়। মানুষ ভেদে পছন্দও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক। আমার প্রিয় খেলা হল ফুটবল। ছোট থেকেই ফুটবলের সাথে আমি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত এবং এই খেলা দেখে আমি খুবই আনন্দ উপভোগ করি। 

ফুটবল খেলার নিয়মাবলী ও মাঠের বর্ণনা:

ফুটবল হল অতি প্রাচীন একটি খেলা। অন্যান্য খেলার ন্যায় ফুটবলের ও কিছু নিয়মকানুন আছে। ফুটবলের সমস্ত নিয়ম প্রণীত হয়  ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার তরফ থেকে। ফুটবল খেলা হয় দুটি দলের মধ্যে। দুটি দল পরস্পরের সন্মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। বলটি রাখা হয় মাঠের মধ্যস্থলে।

রেফারি বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই খেলোয়াড়রা নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে যায়। ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে পাঁচজন সামনের ভাগে দাঁড়ায় এদেরকে ফরওয়ার্ড বলা হয়। এই পাঁচজনের পিছনে আরো  তিনজন খেলোয়াড় থাকে তাদেরকে বলা হয় হাফ ব্যাক।

এই তিনজন খেলোয়াড়ের পিছনে যে দুজন খেলোয়াড় থাকে তাদেরকে ফুল ব্যাক বলা হয়। গোলবারের সামনে থাকে গোলরক্ষক যিনি তার সর্বাঙ্গ দিয়ে গোল হওয়ার হাত থেকে বলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। বিরতি ব্যতীত ৪৫ মিনিট করে দুবার খেলা হয় অর্থাৎ একটি ফুটবল ম্যাচ হয় ৯০ মিনিটের।

ফুটবল খেলার সময় গোলরক্ষক ছাড়া কেউ বলে হাত দিতে পারবেন না। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলে  ফুটবলের নিয়মানুযায়ী হ্যান্ডবল হয়ে যায়। অর্থাৎ বিপক্ষ দলের দিকে বলটি ফ্রি কিক মারা হয়। এই ফুটবল খেলার সময় কোন খেলোয়ার অপর খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে লাথি মারতে পারবে না।

যদি কেউ এই কাজটি করে রেফারি সেই খেলোয়াড়কে শাস্তিস্বরুপ লাল বা হলুদ কার্ড দেখিয়ে দেন। খেলোয়াড়কে চেনার জন্য ১৯৩৫ সাল থেকে জার্সি নাম্বার চালু করা হয়। আর লাল এবং হলুদ কার্ড দেখানোর নিয়ম চালু করা হয় ১৯৮৪ সাল থেকে। 

ফুটবল খেলার মাঠকে অবশ্যই আয়তকার হতে হবে। ফুটবল খেলার জন্য মাঠের দৈর্ঘ্য  হতে হবে ১২০ গজ এবং প্রস্থ ৮০ গজ হওয়া উচিত। মাঠে দুই প্রান্তে একটি করে  মোট দুটি গোলপোস্ট থাকে। ওই পোস্ট দুটির উচ্চতা ৮ ফুট হওয়া উচিত। খেলার জন্য চামড়ার ফুটবলের প্রয়োজন হয় এবং ওই বলের ওজন ৪১০ থেকে ৪৫০ গ্রাম হতে হবে। তার সাথে বলটির পরিধি হতে হবে  ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার। 

ফুটবল খেলা ও আমাদের দেশ:

বর্তমানে ভারতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্বে আছেন ববি হাফটন। ববি হাফটনকে ২০০৬ সালের জুন মাসে নিয়োগ করা হয়েছিল। ভারতের  ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন।

অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন হল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং ফিফার সদস্য দল। ভারত ১৯৫৬ সালের অলিম্পিকে  চতুর্থ অবস্থান লাভ করে এবং এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক লাভ করেন ১৯৬২ সালে। এছাড়াও ইংরেজ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন এর অধীনে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত এলজি কাপ জয় করে  ভারত ২০০২ সালে এবং ববি হাফটনের অধীনে নেহেরু কাপ জয় করে ২০০৭ সালে।

ফুটবল খেলার উপকারিতা:

ফুটবল খেলা হলো একটি জনপ্রিয় ক্রিয়া। এই খেলা যেমন মনকে আনন্দ দেয় তেমনি দৈহিক দিক থেকেও এর অনেক উপযোগিতা আছে। ফুটবল খেলার জন্য প্রচুর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। 1 ঘন্টা এই খেলা করলে প্রায় 600 ক্যালোরি শক্তি ক্ষয় হয়।

নিয়মিত এই খেলা অভ্যাস করলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিসের সমস্যা এবং ব্লাড প্রেসারের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ কমে যায়। মানসিক দিক থেকেও এই খেলার প্রয়োজনীয়তা আছে। এই খেলার ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয় এবং ডিপ্রেশন দূর হয়। 

উপসংহার:

ফুটবল খেলা হল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মনে আনন্দ দেওয়ার এক উৎস। এই খেলার মধ্যে আছে হার-জিত, আনন্দ-বেদনা। এই খেলার সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকে নিজের দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির সাথে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চরম আকাঙ্ক্ষা। 


আমার প্রিয় খেলা ফুটবল প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content