দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

বিজ্ঞান সাধনায় বাঙালি রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু PDF সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

“বাঙালি ঘরকুনে” এমনই এক অপবাদ রয়েছে বাঙালির স্বভাবের উপর।কিন্তু খেলাধুলা,সাহিত্য রচনা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানচর্চা সব কিছুতেই রয়েছে বাঙালির উল্লেখযোগ্য অবদান।কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই বাঙালি। এ নিয়ে আজকের রচনা বিজ্ঞান সাধনায় বাঙালি

বিজ্ঞান সাধনায় বাঙালি রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

বর্তমানে আমারা যে পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছি, আজ থেকে ১০০ বছর বা তারও আগে আমাদের পৃথিবী এমন ছিল না। বহু পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আজকের এই পৃথিবী পেয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি যদি কোন কিছুর  অবদান থাকে তাহলে সেটি হল বিজ্ঞান।

পৃথিবীর বেশিরভাগ পরিবর্তন এসেছে বিজ্ঞানের হাত ধরেই। জীবন ও বিজ্ঞান যেন একই সূত্রে গাঁথা। বিজ্ঞানের কল্যাণে আমাদের জীবন হয়েছে সুন্দর, সহজ আর গতিময়। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কার এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। 

ইংরেজ শাসনকালে বাংলার বিজ্ঞান সাধনার সুযশ:

শুধু পরাধীন ভারতবর্ষেও থেমে থাকেনি বাঙলার বৈজ্ঞানিকদের চিন্তাভাবনা ও আবিষ্কার। বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৯৯ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত জীব ও জড় বস্তুর প্রতিক্রিয়ার ওপর গবেষণার কাজ করেছিলেন।

বিজ্ঞানের একজন অমর প্রতিভা জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম বেতার তরঙ্গের ওপর গবেষণা করে বেতার আবিষ্কার করেন। জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতে বিজ্ঞানচর্চ্চা ও গবেষণার প্রসার ঘটাতে কলকাতায় ১৯১৭ সালে যে বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটি ভারতের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র।

অপর একজন বাঙালি বিজ্ঞানী হলেন মেঘনাথ সাহা। ব্রিটিশ শাসনকালে মেঘনাদ সাহা ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বে একজন খ্যাতিমান পদার্থবিদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। মেঘনাথ সাহা তার তাপীয় আয়ন-তত্ত্বে আয়নীভবন সংক্রান্ত একটি সমীকরণ উপস্থাপন করেন যা সাহা আয়নীভবন সমীকরণ নামে পরিচিত। ১৯২০ সালে Philosophical Magazine–এ তা প্রকাশিত হয়।

একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি  হলেন প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করে। এটি তার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। তিনি  মোট ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন।

বাঙ্গালীর বিজ্ঞান সাধনায় দ্বিমুখী ধারা:

বাঙালি বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে আজ মানুষের জীবনধারা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বাঙালি বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রথম সারির বিজ্ঞানীরা হলেন জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাথ সাহা, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রমুখ।

জগদীশ চন্দ্র তাঁর বইগুলি মূলত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়েই লিখেছেন। জগদীশ চন্দ্র বসুর লেখা প্রথম বইটি বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ থেকে ১৩২৮ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে প্রকাশ পায়। তাঁর লেখা বইগুলি হলো নির্ব্বাক জীবন, নবীন ও প্রবীণ, বোধন, মনন ও করণ প্রভৃতি।

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয়, সমগ্র বিজ্ঞানের জগতে আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে কজন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের ওপর – অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর রচিত বই গুলি হল দ্য প্রিন্সিপ্‌ল অব রিলেটিভিটি, ট্রিটিজ অন হিট, ট্রিটিজ অন মডার্ন ফিজিক্স, জুনিয়র টেক্সটবুক অফ হিট উইথ মেটেরিওলজি।

বাঙালি বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় অনেকগুলি বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ লিখেছেন, সেগুলি হল সরল প্রাণিবিজ্ঞান, বাঙ্গালী মস্তিষ্ক ও তার অপব্যবহার হিন্দু রসায়নী বিদ্যা, এছাড়াও তাঁর গবেষণাপত্রের সংখ্যা মোট ১৪৫ টি। 

জগদীশচন্দ্র বসুর উল্লেখযেযাগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন, এবং ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায়। মেঘনাথ সাহার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো  তাপীয় আয়নের সমীকরণ।

১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ নামেই বিখ্যাত।

খ্যাতনামা বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁর জীবনে মোট ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন। তিনি ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে  মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করেন। তখন এই সমীকরণটি বিশ্বব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি করে। 

বাংলার প্রখ্যাত বিজ্ঞানীগণ:

বাংলার প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরা হলেন আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাথ সাহা, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রভৃতি। 

জগদীশচন্দ্র বসু : জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ২৩শে নভেম্বর বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেন ।একজন বাঙালি পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী। তার গবেষণার ফলে উদ্ভিদবিজ্ঞান শাখা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা হয়। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর। 

মেঘনাথ সাহা: মেঘনাথ সাহা জন্মগ্রহণ করেন ৬ অক্টোবর ১৮৯৩ সালে। তিনি ছিলেন একজন উচ্চ মানের পদার্থবিজ্ঞানী যিনি পদার্থবিজ্ঞানে তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাত। তার আবিষ্কৃত সাহা আয়নীভবন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলি ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। 

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় জন্মগ্রহণ করেন ২রা আগস্ট ১৮৬১ সালে। তার জন্মস্থান হলো বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, শিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কারি (I) নাইট্রেটের আবিষ্কারক। দেশি শিল্পায়ন উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু হয় ১৬ ই জুন ১৯৪৪ সালে। 

উপসংহার:

বিজ্ঞান চেতনা আমাদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের চাবিকাঠি যা দিয়ে সভ্যতার সব দিক উন্মোচন করা যায়। আগুনের আবিষ্কার একদিন যেমন মানুষকে শিখিয়েছিল অন্ধকার দূর করতে, হিংস্র পশুর হাত থেকে বাঁচতে, তেমনি বিজ্ঞান চেতনা আমাদের সমস্ত অন্ধকার, কুসংস্কার দূর করতে ও অজ্ঞতার অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছে । বিজ্ঞানে বলিয়ান মানুষ আজ আর অসহায় নয়, এখন সে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ।


বিজ্ঞান সাধনায় বাঙালি রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content