দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা [PDF]

বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতায় মাত্রাহীন দূষণের আক্রমণে আমাদের পরিবেশ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।পরিবেশের ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট চিন্তিত।আমাদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আমাদের পরিবেশকে সুস্থ রাখা একান্ত প্রয়োজন।আমাদের নিজেদের স্বার্থে ও সমস্ত প্রাণী জগতের স্বার্থে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে তোলা আমাদের সকলের কর্তব্য। এ নিয়ে আজকের রচনা পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা।

পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য সুস্থ পরিবেশ একান্ত প্রয়োজন। অথচ সেই পরিবেশে মানুষের অনন্ত চাহিদা আর অপরিমেয় লোভের শিকার হয়ে পরিবেশ ক্রমশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। বাতাস, জল, মাটিতে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

পরিবেশের বর্তমান অবস্থা:

বানিজ্যিক বাজার ও কাঁচামালের প্রভূত সম্ভাবনার ক্ষেত্র ভারতবর্ষে থাকায়, ভারতবর্ষ বিদেশীদের দ্বারা বারবার লুণ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বয়নের কুফলের ফলে সেই লুণ্ঠনের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

যে ভারতের পরিবেশ ও সংস্কৃতি বিশ্বের আঙিনায় নিজেকে প্রমাণ করে নিজেদের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই পরিবেশ ও সংস্কৃতি আজ লুণ্ঠিত। আমাদের দেশের নিমগাছ, হলুদগাছ, বাসমতি চাল, অবিশ্বাস্য হলেও আর আমাদের নেই, এমনকি আমাদের দেশের মাটিও আজ অপরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ।

ভারতের আকাশে , বাতাসে দূষণের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভারতের মাটিতে যে চাষ হয় তা নিয়ন্ত্রণ করে ধনী দেশ, আর সেই সব ধনী দেশ যে সব মারাত্মক গ্যাস উৎপাদন করে, তা পৌঁছে যায় আমাদের মতো গরীব দেশগুলিতে। সেই প্রেক্ষিতে পরিবেশ উন্নয়নে দেশের ছাত্র সমাজের বিশিষ্ঠ ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।

পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা:

পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, বন নিধন ও মরুকরণ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, জল দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, গ্রীন হাউজ এফেক্ট প্রভৃতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

যদি আমরা জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কথা বলি তাহলে তা অনেক বড় বিষয়। সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জল দূষণের কথা বলতে গেলে বর্তমানে ভারতের অবস্থা খুবই শোচনীয়।

কল-কারখানার বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা, মানুষের অসচেতনতা ও অসতর্কতার ফলে বর্তমানে আমরা আমাদের নদীগুলো হারাতে বসেছি। আবার মাটি দূষণ ও বায়ু দূষণও যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

পাহাড়-পর্বত কিছুই যেন রক্ষা পাচ্ছে না কতিপয় বিবেকহীন মানুষের আগ্রাসন থেকে। তার উপর আবার কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটি ও জল দূষণ বেড়েই চলেছে।

যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পলিথিন ব্যবহার, ইটভাটার ধোঁয়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া পরিবেশকে আরও বিষিয়ে তুলছে। পরিবেশ শিক্ষা দিয়ে শুধু পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তবসম্মত আইন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

আর তা না হলে পরিবেশ শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। সকল প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই, দীর্ঘমেয়াদী ও পরিবেশসম্মত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সকল প্রকার দূষণ সনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নিতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলার অভিযোজন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের যথাযথ উদ্যোগ। সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রাণীকুলের জীবন রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। সকলে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলে এ বিপর্যয় রোধ করা অবশ্যই সম্ভব।

পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের করণীয়:

সচেতনতাই পারে যে কোন উন্নয়নকে গতিশীল করতে। সেই উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। কারণ শিক্ষিত মানুষ ছাড়া সমাজ আজ অচল, কেউ কারো মুল্যবোধ বুঝবে না। কেউ কারো সাথে নম্র ব্যাবহার করবে না।

পরিবেশকে উন্নততর স্থানে নিয়ে যেতে গেলে যা করতে হবে সেটা হল –

  • পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সমন্ধে নিজেরা সচেতন হওয়া,
  • জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে, সেই বিষয়ে প্রচার করা,
  • সবরকম দূষণ ও তার কারণ সমন্ধে পারস্পরিক আলোচনা করে যথাসম্ভব তা বন্ধ করার জন্যে কর্মসূচি গ্রহণ করা,
  • নিজেদের বাড়িতে পয়ঃ প্রণালী ব্যবস্থা ঠিক রাখা,
  • যে সব কারণে ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বিঘ্নিত হয় সেসব কাজ না করা। আহার, নিদ্রা, পরিষ্কার – পরিছন্নতা সকল বিষয়ে সচেতন হওয়া। সুষম খাদ্য সমন্ধে চেতনা গড়ে তোলা,
  • অবৈজ্ঞানিক মানসিকতা ও কুসংস্কার দূরীকরনে সচেষ্ট হওয়া,
  • ঘর গৃহস্থালির বজ্য পদার্থ যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা,
  • হাসপাতাল , নার্সিংহোম, স্কুল, কলেজ প্রভৃতি জায়গা সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা, ঝ) ধূমপান, মদ্যপান, ড্রাগ সেবন প্রভৃতি থেকে বিরত থাকা। স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট , পার্ক, বাস, ট্রাম, ট্রেন, প্রভৃতি জায়গায় খাবারের পরিত্যক্ত প্যাকেট না ফেলা।

বাড়ির সংলগ্ন পরিবেশের পক্ষে উপযোগী গাছ লাগানো ও পুরানো গাছ না কাটা। রোগ প্রতিরোধে গাছপালার যে ভূমিকা আছে, সেই সব গাছ যে আমদের বন্ধু সেটা সবাইকে জানানো।

উপসংহার:

আজকের দিনে পরিবেশ দূষণ বিশ্বজগতের জন্য একটি বিরাট দুশ্চিন্তার কারণ। পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষের অস্তিত্ব আজ চরম সংকটে। তাই পরিবেশ দূষণরোধে ব্যক্তিগতভাবে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি সমষ্টিগতভাবে তা প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আগামী দিনের জন্য একটি সুস্থ ও বসবাস উপযোগী দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাই হোক সকলের অঙ্গীকার।


পরিবেশ উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content