দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক কর্তব্য প্রবন্ধ রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম।পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু pdf সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

সবাই পৃথিবীর এই বিশাল সুন্দরতা ও মাধূর্য্যকে সমান ভাবে উপভোগ করতে পারেনা।যারা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধতার কারণে পৃথিবীর নানান সুখ থেকে বঞ্চিত তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।এই নিয়েই আজকের বিষয় প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক কর্তব্য প্রবন্ধ রচনা।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক কর্তব্য রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

মানুষের জন্ম দৈবের অধীনে। বড়ো বৈচিত্র্যময় উপাদান নিয়ে এই মানব সমাজ গঠিত। সমাজের সদস্যদের মধ্যে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। সমাজে বসবাসরত মানুষদের মধ্যে পৃথক পৃথক সত্ত্বা বিদ্যমান।

অভ্যন্তরীণ গুণাগুণ, দোষ-ত্রুটি ছাড়া বাহ্যিকভাবেও রয়েছে অনেক পার্থক্য। মানুষের মধ্যে কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ ফর্সা, কেউবা কালো প্রভৃতি। আবার কিছু মানুষের হাত থাকে না অথবা পা থাকে না, থাকে না কথা বলার শক্তি, অর্থাৎ বিধাতার অভিশাপে যে সমস্ত মানুষের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে অপূর্ণতা বা বাধা বা প্রতিবন্ধকতা থাকে সেই সমস্ত মানুষকে প্রতিবন্ধি বলা হয়।

কেউ কেউ দুরারোগ্য ব্যাধি, যুদ্ধ বিগ্রহ বা কোনো দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে প্রতিবন্ধকতাকে বরণ করে নেয়। সমাজের মূকবধির, বিকলাঙ্গ, অন্ধ, মানসিক বিকারগ্রস্ত এরা সবাই প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত হয়।

প্রতিবন্ধী কারা:

স্বাভাবিক মানুষের বাইরে যেসব মানুষের শারীরিক ও মানসিক ত্রুটির কারণে জীবনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত, তাদের বলা হয় প্রতিবন্ধী। অন্যভাবে বলা যায়, জীবনে চলার পথে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চিন্তা করতে যাদের প্রতিবন্ধকতা আছে, তাদেরকেই প্রতিবন্ধী বলা হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর মতে “একজন প্রতিবন্ধী হচ্ছেন তিনি, যার স্বীকৃত শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিগ্রস্ততার দরুন যথোপযুক্ত কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা কমে যায়।”

জাতিসংঘের প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী প্রতিবন্ধীতা হলো এমন কোনো বাধা বা সীমাবদ্ধতা যা একজন মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে পুর্ণভাবে ব্যাহত করে। অন্ধ, বোবা, বধির, খোঁড়াদের বলা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী আর যাদের মানসিক ভারসাম্য নেই, বোকা, উন্মাদ তাদেরকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলা হয়। 

প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সমস্যা:

এই প্রতিবন্ধীরা জীবনের প্রতিটি পদে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পৃথিবীর রঙ, রূপ, রসের বিলাস বৈচিত্র তারা উপভোগ করতে পারে না। যারা মূকবধির তারা স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না।

যারা অন্ধ তারা এই পৃথিবীর রং গুলিকে নিজের চোখে দেখতে পায় না। যে সমস্ত প্রতিবন্ধী মানুষেরা পঙ্গু হয় তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করতে পারে না।

মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষেরা আনন্দ, দুঃখ কোন কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না। ফলে এই প্রতিবন্ধী মানুষেরা কখনো সুখী হতে পারেনা। জীবনে চলার পথে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব:

প্রত্যেক প্রতিবন্ধীই আমাদের সমাজের অন্তর্ভুক্ত। তারা অন্য কোন গ্রহের জীব নয়। অনেক প্রতিবন্ধী আছে যারা মানসিক ভাবে দুর্বল হলেও শারীরিক দিক থেকে বেশি সক্ষম। তাদের সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের বেঁচে থাকার আশ্বাস যোগাতে হবে।

তাদের পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি মানুষের একান্ত কর্তব্য। যে শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী যেমন অন্ধ, খোঁড়া তাদের প্রতি আমাদের সহৃদয় হওয়া একটা সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

‘অন্ধজনে দেহ আলো’ আলো না দিতে পারি কিন্তু ভালবাসা তো দিতেই পারি আমরা। তাদেরকে আমরা যদি স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলতে পারি তাহলে তারা নিশ্চই মানব জাতির গৌরবময় অধ্যায়গুলি উপভোগ করতে পারবে।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি ছাত্রদের কর্তব্য:

মানুষ হল সামাজিক জীব। আর এই সমাজের একটি সচেতন অংশ হচ্ছে ছাত্রসমাজ। বিশ্বমানবতা ও মানবিকতা ছাত্রদের হাতেই। তারা বুহুক্ষু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। আশাহীন বুকে জাগাতে পারে আশা।

বিভিন্ন ধরণের সংস্থা, স্কাউটিং এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা এই দায়িত্ব পালন করতে পারে। প্রতিবন্ধী মানুষেরা আমাদের সমাজের বাইরে নয় তারা আমাদের সমাজেরই অংশ তাই সমস্ত প্রতিবন্ধী মানুষদের অবহেলা না করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত ছাত্রজীবন থেকেই।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা উচিত। তাদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করা উচিত কারণ তারা স্বাভাবিক মানুষের মতই তাদের প্রয়োজনীয় কাজ কর্ম করতে পারেন।

শত দারিদ্রের মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী যে মানুষ সে মানুষ সুখী কিন্তু বিপুল ঐশ্বর্যের মধ্যে থেকেও একজন বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী মানুষ কখনই সুখী হতে পারে না।

উপসংহার: 

 জীব সেবা মানেই শিব সেবা। মানবসেবা হল পরম সেবা। কারণ ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ —একথা সকল মানব প্রেমিকেরাই বলে গেছেন। তাই প্রতিবন্ধীদের পাশে থেকে তাদের বন্ধুর মত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

যদি আমরা তাদের ভালোবেসে কাছে টেনে না নিই তাহলে তাদের চোখের জল আমাদের মসৃণ পথ পিচ্ছিল করে দেবে। কোন অবস্থাতেই তাদের সাথে রুক্ষ, নিষ্ঠুর, কঠিন, অমার্জিত ভাব বা ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা তাদের উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা ঠাট্টা-তামাশা করা আর ভগবানের সাথে তামাশা করা সমান স্বরূপ।


প্রতিবন্ধীদের প্রতি সামাজিক কর্তব্য প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content