সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি-রচনা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রচনা [With PDF]

অনলাইনে বাংলা প্রবন্ধ রচনার এক ও অদ্বিতীয় ঠিকানা banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত জানাই। নিয়মিত নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনা আপডেট করা হয়।এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম আমাদের কমেন্ট করে জানান। banglarachana.com এর পক্ষ থেকে আজকের নতুন উপস্থাপন “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” রচনা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

ভূমিকা:

“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” এই কথাটি আজ থেকে বহু শতাব্দী আগে চণ্ডীদাস বলে গিয়েছেন।যা বর্তমানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মূলমন্ত্র।প্রকৃতির সেরা জীব মানুষ।মানুষের মধ্যে রয়েছে বুদ্ধি,বিচার বোধ,বিবেক,মানবিকতা।তবুও কখনও কখনও মানুষ তার মনুষ্যত্ববোধ একবারেই ভুলে যায়।প্রকৃতির সৃষ্টি তত্ত্বে মানুষ মানুষে কোনো পার্থক্য বা ভেদাভেদ নেই।কিন্তু মানুষ নিজেই তার জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের বিভেদ সৃষ্টি করছে । মানুষ ঐক্যের আদর্শ ভুলে লোভ,হিংসা,পরমত অসহিষ্ণুতা,মৌলবাদী সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তার কারণে সংঘর্ষ আর রক্তক্ষয়ী হানাহানিতে মেতে উঠেছে যার ফলে অকালে ঝরে পড়ছে হাজার হাজার প্রাণ,ঐক্য ও সংহতির উপর পড়ছে চরম আঘাত।ধর্ম,বর্ন,সম্প্রদায় ভিত্তিক ভেদাভেদ ও সংঘাত ই হল সাম্প্রদায়িকতা। জাতীয় সংহতি বিপন্নের অন্যতম কারণ সাম্প্রদায়িকতা থেকে মানুষকে সুপথে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কি?

প্রত্যেক ধর্ম বা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ যে যার ধর্মকে সবার সেরা বলে মনে করে।কিছু এমন মানুষও থাকে যারা অন্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের ছোটো করে দেখে। এখান থেকে জন্ম নেয় হিংসার।নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে গিয়ে অন্য ধর্মের মানুষের সাথে খারাপ ব্যাবহার,অত্যাচার যে সংঘাতের সৃষ্টি করে তাকে এক কথায় বলে সাম্প্রদায়িকতা।আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে বোঝায় এমন এক সহবস্থান যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলে মিশে থাকে,যেখানে ধর্ম নিয়ে কোনো হিংসার যুদ্ধ চলেনা,কোনো ধর্মের মানুষ কোনো ধর্মকে ছোটো করে দেখেনা।যেখানে সব ধর্মের মানুষ সবাই সবার বন্ধু।

সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ:

এক দেশে এক জায়গায় একই সাথে বাস করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা একান্তই কাম্য।সমাজ দেহকে সুস্থ সবল রেখে সমাজের ভবিষ্যতকে বিকাশের পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সবার আগে ধ্বংস করতে হবে সাম্প্রদায়িকতার দুষ্ট জীবাণুকে।যার জন্য ভীষণভাবে প্রয়োজন সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ।ছোটো থেকে সঠিক শিক্ষায় পারে এমন শুভ বোধের জাগরণ করতে।তাই এ ব্যাপারে ছাত্র সমাজের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।হিন্দু,মুসলমান,শিখ,বৌদ্ধ নির্বিশেষে এক বিদ্যালয়ে পাশাপাশি বসে শিক্ষা গ্রহণ,বন্ধুত্ব,পারস্পরিক সহযোগিতা,সহমর্মিতা সম্প্রীতির বুনিয়াদকে মজবুত করে গড়ে তোলে। ছোটো থেকে ধর্ম নিরপেক্ষ বন্ধুত্ব স্থাপন ভবিষ্যত সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সাম্প্রদায়িকতার কুফল:

সাম্প্রয়িকতার কোনো ভালো দিক নেই,যা রয়েছে সবই খারাপ দিক।দেশের উন্নতির পথে এক বিরাট বাঁধা হল সাম্প্রদায়িকতা।সাম্প্রদায়িকতা সাধারণ মানুষের জীবনের সুখ শান্তিকে নষ্ট করে।পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্ধবিশ্বাস,ভেদাভেদ কে সমর্থন করেনা।তবুও মানুষ নিজের স্বার্থ রক্ষায় হিংসায় ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।যা সমাজের শুধু ক্ষতিই করে।সাম্প্রদায়িকতার জন্যে বিশ্ব সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা,ঐক্য সংহতি বিপন্ন হয়।সাম্প্রদায়িকতা ভবিষ্যত সমাজের উপরও খারাপ প্রভাব ফেলে থাকে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা:

দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের পথ থেকে উন্নতির পথে পরিচালিত করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একান্ত প্রয়োজন। দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে তারা পরস্পরের মধ্যে ঐক্য,সম্প্রীতি বজায় না রাখলে দেশ কখনই শক্তিশালী হয়ে উঠবেনা।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাবে সমাজের মানুষের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় যা সমাজের ব্যাপক ক্ষতি করে।দেশের নিরাপত্তা,দেশের ভবিষ্যত,দেশের সংহতিকে বিপন্ন হওয়ার থেকে বাঁচাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।শুধু দেশেরই ক্ষতি নয়,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উপসংহার:

আমরা সবাই এক দেশ মায়ের সন্তান।তাই আমরা যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ হই না কেন আমরা সকলে একই ভ্রাতৃ সম্পর্কে আবদ্ধ।আমাদের সব ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠানে অবাধ অংশ গ্রহণের দ্বার মুক্ত থাকলে মিলনের পথ প্রশস্ত হবে।তখন পারস্পরিক যোগসূত্র ও সহযোগিতা ,পরমত গ্রহণের উদারতা,পরের ধর্মকে মর্যাদা দেওয়ার মানসিকতা,বিভিন্ন ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির অবসান ঘটাবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে তাই বহুসম্প্রদায়ের মানুষ থাকা সত্বেও আমরা শক্তিশালী শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে সক্ষম হয়েছি।

“সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” রচনাটি আপনার কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না।আপনাদের কমেন্ট আমাদের কমেন্ট আমাদের লেখার জন্য অনুপ্রাণিত করে।পরবর্তীতে এরকম আরও নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনা পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।ধন্যবাদ।

আর পড়ুন

বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
মোবাইল ফোন রচনা
শ্রমের মর্যাদা রচনা
গ্রীষ্মের দুপুর রচনা
Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি

Rakesh Routh

Facebook

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

এই লেখকের কাছ থেকে আরও পড়ুন

Post টি Share করতে ভুলবেন না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।