জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বা সংবাদপত্র রচনা [PDF]

লিখেছেন: Rakesh Routh

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু PDF সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।

তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। সংবাদপত্র পড়ার উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।বিশ্বের ঘটে চলা সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হল সংবাদপত্র।

সংবাদ পত্র পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি আগামী দিনের আবহাওয়া,জানতে পারি বিভিন্ন দেশের নতুন নতুন আবিষ্কার,জানতে পারি আমাদের গণতান্ত্রিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক খবর।এবার প্রশ্ন এখানেই যে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষদের মধ্যে জনমত গঠনে সংবাদপত্র কতখানি সক্ষম? সে নিয়েই আজকের বিষয় জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বা সংবাদপত্র রচনা।

জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

আধুনিক জীবনের একটা অঙ্গ হল সংবাদপত্র। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সূত্র ধরে মানবজীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচনার উল্লেখযোগ্য  ভূমিকা পালন করে এই সংবাদপত্র। দৈনন্দিন জীবনের ঘটে যাওয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রতিফলিত হয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে।

সংবাদপত্রের পরিধি শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জ্ঞানচর্চা, জনমত গঠন, রাজনীতি ও সরকারের ব্যবস্থায়ও সংবাদপত্রের রয়েছে ইতিবাচক ভূমিকা। সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যে দর্পণের মাধ্যমে ভেসে ওঠে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রতিবিম্ব, সেই দর্পণই হলো সংবাদপত্র। 

সংবাদপত্রের ইতিহাস:

সংবাদপত্রের ইতিহাস হল বহু প্রাচীন ইতিহাস। প্রাচীনকালে রোমের সরকারের সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পাথরের মধ্যে সংবাদ খোদাই করে তা দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এরপরই চীন দেশে সংবাদপত্রের প্রচলন হয় বলে খবর পাওয়া যায়।

ভারতে মুসলিম শাসনকালে সরকারের কর্মীদের মধ্যে খবর আদান প্রদানের জন্য হাতে লিখে সংবাদপত্র আদান-প্রদান করা হতো। ১৭৮০ সালে ইংরেজ সরকারের মধ্যে খবরের প্রচলনের জন্য 'বেঙ্গল গেজেট' নামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রচলন শুরু করা হয়। পরে ইন্ডিয়া গেজেট, ক্যালকাটা গেজেট, প্রভৃতি ইংরেজি সংবাদপত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

১৮১৮ সালে এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র ‘দিগদর্শন’। একই বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয় বাংলাভাষার প্রথম সংবাদপত্র বলে বিবেচিত ‘সমাচার দর্পণ’।

১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সংবাদ প্রভাকর’। ১৮৫৮ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'সোমপ্রকাশ' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশ করেন। ১৮৬১ সালে প্রথম বাংলার ছাপাখানায় সংবাদপত্র প্রকাশ হয়। যার নাম 'ঢাকা প্রকাশ'। ২০০৭ সাল থেকে ইন্টারনেটে সংবাদপত্র পরার প্রচলন শুরু হয়। 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিষয়সমূহ:

পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যার, মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা রকম ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবরাখবর সংবাদপত্র আমাদের জানিয়ে দেয়। সংবাদপত্রে দুর্ঘটনার খবর পড়ে নিহত আহতের সন্ধানে ছুটে যেতে পারে তাদের আত্মীয় পরিজন।

বিশ্বের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলো, আমোদ প্রমোদ সকল ক্ষেত্রেই সংবাদপত্রের অবাধ পদচারণা। দৈনন্দিন জীবনের নানা অপরিহার্য তথ্যও প্রতিদিন আমাদের সামনে তুলে ধরে এই সংবাদপত্র। এভাবে দেশ এবং বিশ্ব বাসীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

সম্রাজ্যবাদী কিংবা আগ্রাসী তৎপরতা যখন সভ্যতাকে গ্রাস করে, তখন সংবাদপত্র তার বিরুদ্ধে মানবতার জাগরন ঘটায়। পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতায় পৃথিবীতে ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিলে সংবাদপত্র শান্তির সপক্ষে নেয় সচেতন দায়বদ্ধ ভুমিকা।

দেশে সামরিক ব্যবস্থা, স্বৈরতন্ত্র, জনগনের টুটি চেপে ধরলে সংবাদপত্র তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের পটভুমি রচনা করে এবং গণআন্দোলনের পক্ষে নেয় কার্যকর অবস্থা। যেখানেই মানবতার লাঞ্ছনা , মূল্যবোধের অবক্ষয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিবেকের কন্ঠরোধ, সেখানেই সংবাদপত্রের কন্ঠস্বর নেয় প্রতিবাদী ভূমিকা।

জাতীয়তাবোধ জাগরণে সংবাদপত্র:

জাতীয় চেতনার উন্মেষ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিয়েছিল তত্কালীন সংবাদপত্র। যেসব জাতীয়তাবাদী পত্রপত্রিকা ব্রিটিশ বিরোধী জনমত গঠন এবং স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন পরিচালনায় সাহায্য করেছিল, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— সোমপ্রকাশ, বঙ্গদর্শন, সংবাদ প্রভাকর, সমাচার দর্পণ, সুলভ সমাচার, তত্ত্ববোধিনী, বোম্বে সমাচার, ফ্রেন্ডস অফ ইন্ডিয়া (বর্তমানে দি স্টেটসম্যান), ভয়েজ অফ ইন্ডিয়া, নেটিভ ওপিনিয়ন, মারাঠি, কেশরী, আজাদী, আহমদী, ইন্দুপ্রকাশ, স্বদেশমিত্রম, জাম-ই-জামশেদ, সুধাকর, অমৃতবাজার পত্রিকা, বেঙ্গলি, ইন্ডিয়ান মিরর, হিন্দু পেট্রিয়ট ইত্যাদি ।

সংবাদপত্র ও জনমত গঠন:

 সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব গণসচেতনতা সৃষ্টি যা অন্য কোনো মাধ্যম এত প্রবলভাবে তৈরি করতে পারে না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে জনগণের হাতে। ফলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভূমিকা জাতীয় অগ্রগতির পক্ষে কতটা সহায়ক এবং কতটা জনস্বার্থের পরিপূরক তা নিয়ে জনগণের মধ্যে অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

ক্ষমতাসীনরা সবসময় তাদের পদক্ষেপকে জোর গলায় ইতিবাচক বলে প্রচার করে এবং বিরোধীরা তাকে একেবারেই প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু সংবাদপত্র উভয় পক্ষের মতামত , যুক্তি ও তথ্যনির্ভর আলোচনা প্রকাশ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সূত্রের মাধ্যমে নিজেদের অভিমত গঠন করতে পারে।

সংবাদপত্রের পাতায় জ্ঞানীগুণী ও বিশেষজ্ঞদের লেখা প্রবন্ধ ও অভিমত, লেখকদের তর্কবিতর্ক , যুক্তিপ্রদান ও যুক্তি খন্ডন, পত্রিকার নিজস্ব সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়, চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি ইত্যাদি ঘটনার ক্ষেত্রে জনমত গঠনে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে।

উপসংহার:

সংবাদপত্র দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধ মানুষকে বিশ্বের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে উত্তীর্ণ করে দেয়। সংবাদপত্র হচ্ছে সভ্যতার অগ্রগতির প্রমাণপত্র এবং নির্যাতিতের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। বর্তমান সভ্য সমাজে সংবাদপত্রের অনুপস্থিতি কল্পনা করা যায় না।

নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের মঙ্গল সাধন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় সংবাদপত্রই রাখতে পারে বলিষ্ঠ ভূমিকা। দলীয় স্বার্থ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারলে সমাজজীবনে আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও বিজ্ঞানমুখী চেতনার বিকাশে সংবাদপত্রের ভূমিকা হবে আরো কল্যাণমুখী।


জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা বা সংবাদপত্র প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি
Rakesh Routh
রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

পরবর্তী পড়ুন

আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা [সঙ্গে PDF]

আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শনে সহয়তা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই […]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা [সঙ্গে PDF]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি আর কেউ নন,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু […]

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রচনা [সঙ্গে PDF]

মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নামের এক মহাযুদ্ধ। […]

ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি বা ছাত্রজীবনে রাজনীতি রচনা [সঙ্গে PDF]

ছাত্ররাজনীতি আসলে ভালো নাকি মন্দ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে বিগত এক শতাব্দী ধরে রাজনীতির নামে […]

বাংলার সংস্কৃতি রচনা [সঙ্গে PDF]

সভ্যতা ও সংস্কৃতি, আমাদের জীবনের এই দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে তা বিশ্লেষণ করা যায় না।সভ্যতার ক্রমবিকাশের […]

ভারতের স্বাধীনতা দিবস রচনা [সঙ্গে PDF]

ভারতমাতার বহু বীর সন্তান অনেক রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ইংরেজ […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Proudly Owned and Operated by Let Us Help You Grow Online ©️