দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

শ্রমের মর্যাদা রচনা [With PDF]

বাংলা রচনার অদ্বিতীয় ঠিকানা banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত জানাই।প্রয়োজন ও পছন্দের রচনা নিয়মিত পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।আজকে আমাদের পক্ষ থেকে নতুন উপস্থাপন
“শ্রমের মর্যাদা” রচনা।

শ্রমের মর্যাদা রচনা

ভূমিকা:

বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প হয়না।সাফল্য ও উন্নতির চাবিকাঠি হল শ্রম। বর্তমান সভ্যতার এই বিশাল বিকাশের মূলে রয়েছে যুগ যুগান্তরের লক্ষ কোটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম।

জন্মের পর থেকে ব্যবহৃত সব কিছু,দৃশ্যমান বাড়ি ঘর,রাস্তাঘাট,খাদ্য পোশাক সবকিছুই অর্জিত হয়েছে শ্রমের বিনিময়ে।শ্রমের উপর নির্ভরশীল আমাদের সুবিস্তৃত ভবিষ্যৎ।শ্রমই হল আমাদের সৌভাগ্যের জননী – “Industry is the mother of good luck”।

শ্রমের প্রকারভেদ:

শ্রম প্রধানত দুই ধরনের।

১) শারীরিক শ্রম
২) মানসিক শ্রম

বেঁচে থাকার জীবন যুদ্ধে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় এই দুধরনের শ্রমেরই যথেষ্ট প্রয়োজন।গায়ে গতরে খাটা খাটুনি করে কাজ করা হল শারীরিক শ্রম। আর মাথার বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করা হল মানসিক শ্রম।আদিম যুগে মানুষ যখন জঙ্গলে,গুহায় বসবাস করতো তখন শারীরিক শ্রমের উপর নির্ভর করেই মানুষের জীবন চলত।

তখন অন্যান্য সব বন্য প্রাণীর মতো মানুষেরও আত্মরক্ষা আর খাদ্য সংগ্রহ করাই ছিল প্রধান কাজ।এর জন্য তখন মানুষের মানসিক শ্রমের প্রয়োজন ছিলনা।দিনদিন সভ্য হয়েছে মানুষ,সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়েছে উন্নতির পথে।এই অগ্রগতির পথে মানসিক শ্রম যুক্ত হল মানুষের জীবনে।দর্শন,সাহিত্য,শিল্প,জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে মানসিক শ্রমের বিশেষ ব্যাবহারে মানুষ একের পর এক নজির স্থাপন করেছে।

শ্রমের গুরুত্ব:

সেই আদিম কাল থেকে আজ আধুনিক সভ্যতার এই চরম বিকাশের মুলে রয়েছে অসংখ্য মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম।মানব সভ্যতার প্রত্যেক স্তরে রয়েছে শ্রমের অবদান। বেঁচে থাকার জন্য সবাইকেই পরিশ্রম করতে হয়, তা শারীরিক শ্রম হোক বা মানসিক শ্রম।

পরিশ্রমের মধ্যমেই মানুষ নিজেই তার ভাগ্যকে গড়ে তোলে। নিরন্তর শ্রমের মধ্যে দিয়েই বিকশিত হয় মানুষের সৃষ্টিশীল প্রতিভা।এই বিশাল পৃথিবীতে মানুষ প্রতিনিয়ত শ্রম দান করে চলেছে।

তাই মানব সভ্যতা আজ এতো উন্নত। বিভিন্ন বৃত্তির মানুষ বিভিন্ন কাজে রত। কেউ চাষ করে খাদ্যের জোগান দেয়,কেউ নির্মাণ করেন বসবাসের বাড়ি,রাস্তাঘাট, কেউ চিকিৎসা করে জীবনদান করেন, কেউ পরিবহনের জন্য গাড়ি চালান, ইত্যাদি।তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।

শ্রম বিমুখতা:

“আলস্য আনে দারিদ্রতা,
পাপে আনে দুঃখ।
পরিশ্রমে ধন আনে,
পুণ্যে আনে সুখ।”

শ্রমের মূল্য ও মর্যাদা বুঝতে শিখেও এমন কিছু অপরিণামদর্শী মানুষ রয়েছে যারা অলস,শ্রম বিমুখ, অদৃষ্টবাদী।এই অলসতার কারণেই তারা জীবনের প্রত্যেক পদক্ষেপে ব্যার্থ।শিকার যেমন শিকারির কাছে নিজে থেকে আসেনা ঠিক সেভাবেই পরিশ্রম ছাড়া কখনও সাফল্য অর্জন করা যায়না।

অদৃষ্ট কারো হাতে সম্পদ তুলে দেয় না।সম্পদ হোক বা সাফল্য তা কখনও নিজের থেকে এসে উপস্থিত হয়না ,নিরলস পরিশ্রম আর সংগ্রাম করে অর্জন করতে হয়।এই চলমান বিশ্বে কর্ম শক্তিকে হাতিয়ার করে যতক্ষণ পা চলবে,ততক্ষণ প্রতি পদক্ষেপে ফুটবে ফুল।আর তা নাহলে ভাগ্যের দোষারোপ দুঃখে কষ্টেই দিন যাপন করতে হবে।

উপসংহার:

শ্রম আমাদের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে।মানব সভ্যতা হোক,বিজ্ঞান প্রযুক্তিই হোক,শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতিই হোক,সবই হলো নিরলস শ্রমজাত।মানুষ হল কর্মবীর তাই মানুষ আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব।

দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার দ্বারা মানুষ বুঝেছে শ্রমের মূল্য ও মর্যাদা। এই মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্য লক্ষ্মীকে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে মানুষ মাবনসভ্যতাকে করেছে সার্থক।


শ্রমের মর্যাদা” রচনাটি আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।পরবর্তীতে এরকম আরও রচনা পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম কমেন্ট করে জানান।ধন্যবাদ।।

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব
গাছ আমাদের বন্ধু
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
স্বামী বিবেকানন্দ রচনা
Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content