শীতের-সকাল

শীতের সকাল রচনা (Siter Sokal Rachana in Bengali) [PDF]

বন্ধুরা আশা করছি সকলে ভালো আছো| banglarachana.com এ স্বাগতম। Banglarachana.com এর পক্ষ থেকে আজকের নতুন প্রবন্ধ রচনা – “শীতের সকাল”|

চল তবে শুরু করা যাক আজ্কের এই রচনা|

শীতের সকাল রচনা

ভূমিকা:

ছয়টি ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রঙে রঙিন আমাদের প্রিয় দেশ।কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময়ই গরমে আমাদের জীবন কাটে।মাত্র দু তিন মাসের জন্য আমাদের বাংলার বুকে নেমে আসে এক আশ্চর্য শীতলতা।হমন্তের অন্তে শীতের কোমল ছোয়া লাগে সর্বত্র।পৌষ, মাঘ মাসে কয়েকদিনের জন্য শীতের প্রবল প্রকোপ পড়ে,আর সেটার টের পায় আমরা শীতের সকালে। শীতে আমরা একটু কাবু হয়ে পড়লেও এই শীতের সকালের রয়েছে এক অপরূপ রূপ।রাত্রির কালো পর্দা সরিয়ে এক রৌদ্র দীপ্ত সোনালী দিন উপহার করে শীতের সকাল।

শীতের দিন:

অন্যান্য ঋতুর তুলনায় শীতের দিন সময়ের বিচারে বেশ ছোটো।শীতকালে রাত ফুরিয়ে সকাল হয় একটু দেরিতে আবার সন্ধ্যাও নামে খুব তাড়াতাড়ি।দুপুরের রোদ বিকেলে কমে যাওয়ায় সাথে সাথেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসে আর সেই সাথে বাড়তে থাকে ঠান্ডা।বইএর টেবিলে বসে পড়ার ইচ্ছে করেনা,চাদরের বাইরের হাত বের করে অঙ্ক কষার চেয়ে শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়ার মধ্যেই সুখ খুঁজে পাওয়া যায়।এরপর রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে লেপের তলায় ঘুম,আর একটি নতুন সকালের আসন্ন প্রত্যাশায় মনে হয় রাতটা দীর্ঘতর হোক।প্রকৃতির চেয়েও শীতের সকালে মানুষের কাছে শীতের অনুভূতিটাই বড়ো হয়ে দেখা যায়।

শীতের সকালের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য:

অন্য আর পাঁচটি ঋতুর সকালের চেয়ে শীতের সকালের বিশেষত্ব একটু ভিন্ন প্রকৃতির।শীতের সকালে মাঠ ঘাট দিগন্ত সাদা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে।খুব সকালে সূর্য ওঠার পরও রোদ্দুর কুয়াশার চাদর ভেদ করে ছড়িয়ে পড়তে পারেনা।শিশিরে ভেজা মাঠের ঘাস গুলো, গাছ পাতা সব হিহি করে কাঁপতে থাকে উত্তুরে হিমেল বাতাসের হাড় কাঁপানো শীতে।কুয়াশার চাদর সরিয়ে অফুরন্ত রোদ্দুর যখন উকি মারে তখন প্রকৃতি ধারণ করে ভিন্ন রূপ।ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরের বিন্দু গুলো ঝলমল করে ওঠে রোদের সোনালী আলোয়।শীতের সকালের এই পরিবেশকে আরও রঙিন করে সাজিয়ে তোলে গাঁদা,ডালিয়া, চন্দ্র মল্লিকা ফুলের ঝকঝকে হাসি।

গ্রামীণ জীবনে শীতের সকালের প্রভাব:

শীতের সময়ে কৃষকের কুটিরের দরজায় দাঁড়ালে দেখা যায়, ভোর হতে হতেই গরম বিছানার সুখ ছেড়ে তারা কাজে হাত লাগিয়েছে।সকাল হতেই কৃষক চলে মাঠে,আর গৃহস্থালির কাজে হাত লাগায় গৃহবধূ।আর ছোট ছোট বাচ্চারা আঙিনায় বসে আছে রোদের অপেক্ষায়।গ্রামে গ্রামে শীতের সকালের আর এক আকর্ষণীয় উপকরণ হল খেজুর রস।সারারাত ধরে খেজুর রস জমা হয় হাঁড়িতে।যেমন তার স্বাদ তেমনই শীতলতা।কোথাও আবার চলে বৈষ্ণবের আখরা , খোল করতাল বাজিয়ে প্রভাতী নাম সংকীর্তন।গঞ্জের ঘাটে তখনও নৌকার পাটাতনে অকেজো হয়ে পড়ে থাকে দাঁড় ও পাল শিশির কুয়াশায় সিক্ত হয়ে।

শহুরে জীবনে শীতের সকালের প্রভাব:

গ্রামের থেকে শহরে ঠান্ডার প্রকোপ একটু কম। বাজারে সবজি ব্যাবসায়ীরা শাক সবজি সাজিয়ে বসে পড়ে সকাল সকাল। ভোরেই উনুনে আগুন দেওয়া হয় চায়ের দোকানে।তেলেভাজার দোকানের পাশে চপ,বেগুনি,কচুরির গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।রাস্তার ধারে আগুন জ্বালিয়ে হাত পা গরম করে গরম পোশাক না থাকা ফুটপাত বাসীরা। মধ্য বিত্তেরা থলি হাতে নিয়ে সকাল সকাল রওনা হয় বাজারে।স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের রাস্তায় মাঠে হাঁটতে ও ব্যয়াম করতে দেখা যায়। ধনী অভিজাত বাড়িতে শীতের সকালের এক অন্য রূপ।

উপসংহার:

সময় বহমান।সে কারো জন্যে থেমে থাকে না।খুব জলদি সকাল ফুরিয়ে আসে দুপুর।শীতের ছোটো বেলায় দুপুর শেষ হতে না হতেই নেমে আসে অন্ধকার।তখন আবার এক রোদ ঝলমলে সোনালী সকালের প্রতীক্ষা।প্রত্যেক ঋতুর সকালের ভিন্ন ভিন্ন রূপ।শীতের সকাল অন্য সব ঋতুর চেয়ে সেরা বলা না গেলেও,কিন্তু শীতের সকালের আবেদন যে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় স্বতন্ত্র তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।


শীতের সকাল রচনাটি আপনার কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার প্রয়োজন ও পছন্দের খেয়াল রাখি আমরা। এরকম আরও রচনা পাওয়ার জন্য follow করুন banglarachana.com

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব
গাছ আমাদের বন্ধু
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার
স্বামী বিবেকানন্দ রচনা

উল্লেখ: https://en.wikipedia.org/wiki/Winter

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি

Rakesh Routh

Facebook

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

এই লেখকের কাছ থেকে আরও পড়ুন

Post টি Share করতে ভুলবেন না

Comments 2

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।