যুদ্ধ নয় শান্তি চাই প্রবন্ধ রচনা [PDF]

লিখেছেন: Rakesh Routh

যুদ্ধ আমাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।অতীতের নানান যুদ্ধে আমরা দেখেছি যুদ্ধের ভয়ংকর পরিণতি।সাধারণ মানুষ সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত তারা যুদ্ধ চায়না ,তারা চায় শান্তি।এই নিয়েই আজকের বিষয় যুদ্ধ নয় শান্তি চাই প্রবন্ধ রচনা।

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

হিংসা ও যুদ্ধ হল পাশবিক বৃত্তি। এই পাশবিক প্রবৃত্তির দ্বারা তাড়িত হয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষ কতই না হানাহানি করেছে। অনেক রক্তের বন্যা বইয়েছে। আমাদের প্রাচীন ইতিহাসের পাতায় পাতায় সেই রক্তপাতের খবর লুকিয়ে আছে।

বলা‌ বাহুল্য, এ খবর‌ গুলো সুখের নয়। গৌরবেরও নয়। সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। যারা ‌দার্শনিক,‌ কবি, সাহিত্যিক কিংবা মনিষী ও ধর্মনেতা,‌ তারা শান্তির বাণী যুগ যুগ ধরে প্রচার করে আসছেন।

যিশুখ্রীষ্ট, গৌতম বুদ্ধ, চৈতন্যদেব, গুরু নানক থেকে শুরু করে গান্ধিজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমূখ মহান মনিষীরা যুদ্ধকে বারবার ‌ধিক্কার জানিয়েছেন। কিন্তু তবুও যুদ্ধ থামেনি। গোটা বিশ্ব‌ জুড়ে তাই আজ স্লোগান উঠেছে-" যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।"

সমস্ত মানুষ ‌কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আজ বলছে-

"আর যুদ্ধ নয়, নয়।

আর নয় মায়েদের শিশুদের কান্না

রক্ত কি, ধ্বংস কি, যুদ্ধ- আর না, আর না।"

বর্তমান বিশ্ব ও যুদ্ধ আতঙ্ক:

অতীতে আমরা অনেক যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছি। দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ হতে দেখেছে আমাদের মানব সভ্যতা। এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে একবারে ধুলোয় মিশিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে। যুদ্ধ কোনো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।

এটি সত্যি যে মানুষ যেমন একা কখনও বসবাস করতে পারে না, তেমনভাবেই একটি দেশও কখনো একা চলতে পারে না। আমরা এক কথায় বলতে পারি যে এই সমগ্র বিশ্বটা একটা সংসার এবং প্রতিটি দেশ হল তার সদস্য।

পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ঠিক রেখে সমগ্র বিশ্ব সঠিক পথে পরিচালিত হবে এটিই সবার কাম্য। তবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যেন এই হিসাব মিলছে না। আজও একে অপরের শত্রু দুই দেশ।

বর্তমান সময়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আমেরিকা ও চীনের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব সর্বদা এক যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। এই দুই দেশের মধ্যে বানিজ্যিকগত দিক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশীরভাগ সময়ই লেগে থাকে। আবার অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইরানের  মধ্যে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব এক যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

বিশ্বশান্তি বর্ষ উদযাপন:

এই যুদ্ধ থেকে রেহাই পেতে প্রতি মুহুর্তেই সমস্ত মানুষ শান্তির বাণী কামনা করে। বিশ্ব জুড়ে যাতে শান্তির বাণী ধ্বনিত হয় সেটাই এখন সমগ্র মানব জাতির লক্ষ্য। সমস্ত রকমের যুদ্ধ ভুলে, ভেদাভেদ ভুলে আজ সমস্ত দেশকে একে অপরের প্রতি বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

তাদের পরস্পরের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। আজ তাই সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিশ্বশান্তি দিবস পালন করা হয়। সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের একমাত্র শ্লোগান হওয়া উচিত " যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই"।

আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ভয়াবহতা:

বর্তমান আণবিক ও পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের মানব সভ্যতা যুদ্ধের জন্য আবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়‌ করে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র। বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা হচ্ছে এই ভয়ংকর দানবীয় কাজে।

যে অর্থে সমগ্র বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য মোচন‌ করা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায়, স্বাস্থ্যের‌ দিক দিয়ে মানুষকে সমৃদ্ধ করা যায়, সেই অর্থ মানব সভ্যতা লোপের চেষ্টায় বর্তমানে নিমজ্জিত আছে। আজ মানব সভ্যতা নিজেরাই নিজেদেরকে অবনতির পথে টেনে নিয়ে চলেছে। বলা বাহুল্য, এর চেয়ে আর ভয়ংকর কিছু হতে পারে না।

যুদ্ধের সর্বনাশা পরিণাম:

এই বিংশ শতাব্দীতে আমরা চোখের সামনে দুটি বিশ্বযুদ্ধ হতে দেখেছি। এই যুদ্ধের ফলে বহু ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ধ্বংস হয়েছে। রক্তের নদী হয়েছে প্রবাহিত। সে ইতিহাস বড় মর্মান্তিক।

এখন‌ যদি আবার হঠাৎ বিশ্বযুদ্ধ বাঁধে এবং যুদ্ধবাজ হঠকারীরা যদি পারমাণবিক অস্ত্র ও তারকাযুদ্ধ আরম্ভ করে,‌ তাহলে ‌কয়েক মুহূর্তেই‌ পৃথিবী জনশূন্য হয়ে যাবে। এই ভয়ংকর সর্বনাশা আতঙ্কে মঙ্গলকামী মানুষেরা আজ আতঙ্কিত।

এই পরিস্থিতিতে সকল শান্তিকামী মানুষ সাধারণ জনমতকে শান্তির স্বপক্ষে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন এবং আজ সকল মানুষের একমাত্র প্রার্থনা‌ হল," যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই"।

উপসংহার:

যুদ্ধ মানে আজ এক কথায় সমগ্র মানব জাতির বিনাশ। আজ যুদ্ধের অর্থ হচ্ছে সমগ্র সভ্যতার অস্তিত্ব বিলোপ। সেই সমস্ত কারণে বিশ্বের সমস্ত জায়গায় আজ যুদ্ধ বিরোধী জেহাদ। আজ তাই সমস্ত মানুষ কল্যান চায়, শান্তির আশা প্রত্যাশায় শান্তির বাণী উচ্চারণ করে এক জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে। তবে এই জাতিসংঘও আজ পক্ষপাত দুষ্টে আক্রান্ত। সুকান্ত ভট্টাচার্য তাই বলে গেছেন--

" তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতিজ্ঞা প্রস্তুত ঘরে ঘরে,

দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে।"


যুদ্ধ নয় শান্তি চাই প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি
Rakesh Routh
রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

পরবর্তী পড়ুন

আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা [সঙ্গে PDF]

আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শনে সহয়তা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই […]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা [সঙ্গে PDF]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি আর কেউ নন,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু […]

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রচনা [সঙ্গে PDF]

মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নামের এক মহাযুদ্ধ। […]

ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি বা ছাত্রজীবনে রাজনীতি রচনা [সঙ্গে PDF]

ছাত্ররাজনীতি আসলে ভালো নাকি মন্দ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে বিগত এক শতাব্দী ধরে রাজনীতির নামে […]

বাংলার সংস্কৃতি রচনা [সঙ্গে PDF]

সভ্যতা ও সংস্কৃতি, আমাদের জীবনের এই দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে তা বিশ্লেষণ করা যায় না।সভ্যতার ক্রমবিকাশের […]

ভারতের স্বাধীনতা দিবস রচনা [সঙ্গে PDF]

ভারতমাতার বহু বীর সন্তান অনেক রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ইংরেজ […]

2 comments on “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই প্রবন্ধ রচনা [PDF]”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Proudly Owned and Operated by Let Us Help You Grow Online ©️