মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা [With PDF]

লিখেছেন: Rakesh Routh

মাদক বা ড্রাগস হল যুব সমাজের জন্য এক অন্যতম মারণ অসুখ। এই অসুখ একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ধীরে ধীরে তার দংশনে নিঃশেষ করে দেয়। ড্রাগস বা মাদক কিভাবে সমাজকে গ্রাস করছে, কেন ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষা অর্জনের বয়সে বিপথে চলে যাচ্ছে,দেশের ভবিষ্যৎ যুব সমাজকে এই কঠিন অসুখের থেকে দূরে সরাতে কি কি করণীয় এ সমস্ত বিষয় তুলে ধরে আমাদের আজকের বিষয় মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা।

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা:

সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে মানুষ প্রকৃতির সাথে নিয়ত সংগ্রাম করে করে তুলেছে সভ্যতা। এই সংগ্রামের পথে বারবার এসেছে নানা ধরনের প্রতিকূলতা। সমস্যা এবং প্রতিকূলতাকে নানা উপায়ে জয় করে মানুষ সভ্যতার পথে এগিয়ে গিয়েছে। তবে এমনও বহু সমস্যা রয়েছে আদি লগ্ন থেকে যার সমাধান আজও মানুষ খুঁজে পায়নি এবং সেই সমস্যাগুলি এখনো সভ্যতার উন্নতিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

সমাজের এই রকম সমস্যা গুলির মধ্যে অন্যতম হলো মাদকাসক্তি। সভ্যতার আদি লগ্ন থেকে সমাজের মধ্যে প্রোথিত এই সমস্যাটি সমাজকে কলুষিত করে, সভ্যতার ধারক ও বাহক মানুষের কার্যকারিতা হ্রাস করে, যুবসমাজকে অকর্মণ্য করে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজের অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। আদিম যুগ থেকে এখনো অবধি মানুষ এই সমস্যাটির কোন সার্বিক এবং স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায়নি।

তবে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিকার সম্ভব। এই জ্বলন্ত সমস্যাটি বহু ক্ষেত্রে আজও সমাজকে পঙ্গু করে রেখেছে। তাই আজ বিজ্ঞানের এই বিশ্বব্যাপী জয়যাত্রার লগ্নে সমাজের সমস্যা জর্জরিত এই দিক এবং তার প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া একান্ত জরুরী। এই প্রবন্ধ দ্বারা সেই প্রচেষ্টা দি অবতারণা করা হয়েছে।

আসক্তি কি?

মাদকাসক্তি কি তা বোঝার পূর্বে আমাদের প্রথমে আসক্তির স্বরূপকে বুঝতে হবে। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য মানুষ যখন কোন কাজ করে মানুষের মস্তিষ্ক সেই কাজে মানুষকে প্রেরণা যোগায় বা উৎসাহিত করে। এই প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় মস্তিষ্কের দ্বারা এক প্রকার হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে। এই হরমোনটির পোশাকি নাম হল ডোপামিন। এটি ক্ষরিত হলে মানুষ অদ্ভুত আনন্দ লাভ করে।

এই কারণেই আমরা যখন কোন আকাঙ্ক্ষিত জিনিস অর্জনে সক্ষম হই তখন আমরা আনন্দিত হয়ে উঠি। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি সভ্যতার বিবর্তনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ এটাও উদ্ভাবন করেছে যে কোনো কিছু অর্জন না করেও কিভাবে মস্তিষ্কের মাধ্যমে হরমোন ক্ষরণ করিয়ে আনন্দ লাভ করা যায়।

সময়ের বিবর্তনে এই বিশেষ আনন্দের অনুভূতির সহজলভ্যতাই মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়, এবং এক সময় মানুষ নিজের সেই আকাঙ্ক্ষার উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মানুষের এই আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতাই হলো আসক্তি। 

এক কথায় আসক্তি হল এক প্রকার মানসিক বা শারীরিক আকর্ষণ যার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা জন্মানোর কারণে মানুষ সেই কাজটি বারবার করে এবং এক পর্যায়ে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

মাদকাসক্তি:

আসক্তি প্রধানত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো কার্যমূলক আসক্তি, এবং দ্বিতীয়টি দ্রব্যমূলক আসক্তি। মাদকাসক্তি হল বিশেষভাবে একটি দ্রব্যমূলক আসক্তি। পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ভেষজ এবং রাসায়নিক দ্রব্য শরীরের ওপর প্রয়োগ করে মস্তিষ্ক দ্বারা হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে আনন্দের অনুভূতি লাভ করাই হলো মাদকাসক্তি।

এই ধরনের বিভিন্ন দ্রব্য যেগুলি শরীরে প্রয়োগ করলে অতিপ্রাকৃতিক আনন্দ বোধ হয় এবং আসক্তি জন্মায় সেগুলিকেই বলে মাদকদ্রব্য। এই ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে শরীর তথা মনের মধ্যে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের ফলে ওই বিশেষ দ্রব্যটির ওপর নির্ভরশীলতার পাশাপাশি দ্রব্যটি গ্রহণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মানুষ মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ে।

মাদকের প্রকারভেদ:

মাদক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। আদি তথা মধ্যযুগের বিজ্ঞান যখন আজকের মত এতটা উন্নত ছিল না তখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন জৈব ভেষজ উপাদান মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এগুলির মধ্যে গাঁজা, আফিম, তামাক, ভাঙ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে সময়ের সাথে সভ্যতা যত এগিয়েছে, সমাজের বুকে বিজ্ঞানের যতই উন্নতি হয়েছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষ উদ্ভাবন করেছে নতুন নতুন মাদকদ্রব্যের।

বিভিন্ন জৈব তথা রাসায়নিক উপাদানকে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের কৃত্তিম মাদকদ্রব্য। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যাধুনিক মদ, হেরোইন বা ব্রাউন সুগার, লাইসারজিক অ্যাসিড ডায়থ্যালামাইড বা এল.এস.ডি, কোকেন ইত্যাদি। মানুষের শরীরের উপর এই ধরনের মাদক গুলির প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় মাত্র পাঁচ গ্রাম হেরোইন তিনবার শরীরের মধ্যে প্রয়োগ করলে এই মাদকের প্রতি কোন মানুষের এমন নেশা জন্মাবে যা সে স্বাভাবিক অবস্থায় সারা জীবনে কখনো ছাড়তে পারবে না।  সুতরাং একটি উদাহরণ থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় মাদক কিভাবে কোনো মানুষকে তার জালে অতি সহজেই জড়িয়ে ফেলতে পারে। 

মাদকের কার্যপ্রণালী:

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে মাদক গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গায় অতিদ্রুত ডোপামিন হরমোন নামে একপ্রকার নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরিত হয়। ফলে মানুষ অতিপ্রাকৃতিক আনন্দ লাভ করে। ধীরে ধীরে আনন্দের প্রতি আকাঙ্ক্ষা জন্মায় এবং সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষ পরবর্তীতে পুনরায় মাদক গ্রহণে উৎসাহিত হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডোপামিন তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এই পর্যায়ে মানুষ আনন্দপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয় বরং তার দীর্ঘদিনের অভ্যাসবশত তথা তার স্বাভাবিক জীবনকে সচল রাখার জন্য মাদক গ্রহণ করে থাকে। প্রথম পর্যায়ে মাদক মানুষকে এতটাই আনন্দ দেয় যে খাদ্য, পানীয়, যৌনতা ইত্যাদির মত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় আনন্দের উপকরণগুলিও আসক্ত ব্যক্তির কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

মাদকই হয়ে ওঠে ব্যক্তির চিন্তা ও চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। মাদক গ্রহণের পরিমাণ এর ভিন্নতার কারণে শরীরে এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে সামান্য পরিমাণ মাদক শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে। আবার সেই মাদকই বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে তা অসহ্য যন্ত্রণা এমনকি মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মাদকাসক্তির কারণ:

এ পৃথিবীতে মাদকাসক্তির কারণ হিসেবে কোন একটি নির্দিষ্ট কারণকে চিহ্নিত করা যায় না। এর কারণ বহুমুখী। বহু সময় দেখা গিয়েছে পারিবারিক কিংবা পেশাগত জীবনে কলহ, অশান্তি মানুষকে মাদক গ্রহণের পথে ঠেলে দিচ্ছে। কখনো বা দেখা গিয়েছে জীবনে ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে মাদকের। কখনো আবার মাদকাসক্তির কারণ নিতান্তই উৎসাহ।

ছাত্রজীবনে অজানা অনুভূতির প্রতি অদম্য উৎসাহ থেকে বহু যুবক-যুবতী মাদক গ্রহণে প্রবৃত্ত হয়। আবার নানা সময়ে মাদকাসক্ত বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবের সংসর্গের কারণেও অনাসক্ত ব্যক্তির মাদকের প্রতি আসক্তি জন্মায়। এইসবের উপরে বিভিন্ন অসাধু চক্রের প্ররোচনা তো রয়েইছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মাদক চক্র ক্রমাগত নিজেদের ব্যবসায়ীর সমৃদ্ধি এবং আর্থিক লাভের জন্য মানুষকে মাদক গ্রহণে প্ররোচিত করে চলেছে। 

ব্যক্তির ওপর মাদকের প্রভাব:

যেকোনো ধরনের মাদক মানুষের শরীর তথা মনের উপর ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘকালীন উভয় প্রকারের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ক্ষণস্থায়ী প্রভাব হিসেবে মাদক গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিন ক্ষরণের মাধ্যমে ব্যক্তি সাময়িক আনন্দ লাভ করতে পারে। তবে ধীরে ধীরে মাদকদ্রব্য যখন কারোর আসক্তি হয়ে দাঁড়ায় তখন তা মানুষের শরীরে নানা ধরনের জটিল সমস্যার উদ্রেক ঘটায়।

এই ধরনের জটিলতা গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হঠাৎ করে রক্তচাপের পরিবর্তন, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবহারের ফলে মানুষের চোখ মুখেও আসক্তির স্পষ্ট ছাপ পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবহারকারীদের মস্তিষ্কের কোষ গুলিতে ডোপামিনের স্বাভাবিক তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।

ফলে আসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে ব্যর্থ হয় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে মাদক সরাসরি ব্যক্তির মনকে আক্রমণ করে। এর ফলে তার পারিপার্শ্বিক উপলব্ধির ক্ষমতার হ্রাস পায়। মানুষের চেতনা লুপ্ত হয় এবং স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ব্যাহত হয়। 

মাদকের সামাজিক প্রভাব:

ব্যক্তিদের নিয়েই তৈরি হয় সমাজ। তাই মাদক দ্বারা ব্যক্তি প্রভাবিত হলে সমাজও সমান ভাবে প্রভাবিত হয়। প্রথমত মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জৈবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হওয়ার দরুন পরিবারে অশান্তির মেঘ নেমে আসে। অনেক সময় আসক্ত ব্যক্তি মাদকের অর্থ জোগাড় করার জন্য চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অসাধু কাজেও প্রবৃত্ত হয়। 

যুব সমাজের উপর মাদকাসক্তির প্রভাব:

মাদকের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব যদি কারোর ওপর পড়ে থাকে তবে তা হল এ পৃথিবীর যুবসমাজ। এই তরুণরা অতি সহজেই নতুন অজানা অনুভূতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। সেজন্য অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হয় এই যুবসমাজই। বিশ্বজুড়ে হাইপোটনিক সিরিঞ্জ দিয়ে নিজের শরীরের ভেতর ভয়ঙ্কর মাদক রস চালান করে তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ প্রতিনিয়ত নিজেদের ভবিষ্যতের যে অন্ধকার ডেকে আনছে তা রোধ করার ক্ষমতা হয়তো পৃথিবীর কোন প্রযুক্তির নেই।

এছাড়াও নানা ধরনের প্রচলিত সহজলভ্য মাদকের ব্যাপক প্রভাব তো রয়েইছে। শরীর তথা মনের ওপর মাদকের ভয়ঙ্কর প্রভাব নিয়ে ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। যুবসমাজ হল পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। এদের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে উন্নতির অনন্ত সম্ভাবনা। সম্ভাবনাময় এই ভবিষ্যতের শরীর তথা মন যদি মাদকের রসে বিষাক্ত হয়ে ওঠে তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র তথা পৃথিবীর ভাগ্য অন্ধকারের অতলে নিমজ্জিত হয়। স্বাভাবিকভাবে সভ্যতার উন্নতি ব্যাহত হয়।

প্রতিকার:

প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা:

সেই অতীত কাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারাও মাদকাসক্তির প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালিয়েছে সমাজ। এই অভিশাপ থেকে সমাজ তথা বিশ্বকে রক্ষা করতে গেলে সর্বস্তরে সার্বিকভাবে এর প্রতিকারের জন্য একান্ত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।

সমাজের নিম্ন স্তর থেকে আধুনিক রাষ্ট্রকেও এই ব্যাপারে অনেক বেশি কার্যকরী হয়ে উঠতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে গড়ে তুলতে হবে সচেতনতা। গঠনমূলক শিক্ষার বহুমুখী বিস্তার ঘটাতে হবে। মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিকগুলি মানুষের কাছে আরো বেশি করে তুলে ধরতে হবে। আধুনিক গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এই সচেতনতা গড়ে তোলা যেতে পারে।

তদুপরি মাদক ব্যবসা এবং চোরাচালানকারীদের চক্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রে পৃথিবীকে আরো অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে। যুবক যুবতীদের জন্য সৃষ্টি করতে হবে কর্মসংস্থান। সুস্থ বিনোদনকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রজন্ম তথা সমস্ত মানুষকে নেশার অমোঘ হাতছানি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। 

প্রতিকারমূলক প্রচেষ্টা:

অন্যদিকে যে সমস্ত মানুষেরা ইতিমধ্যেই নেশার কবলে জর্জরিত তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আরো বেশি করে গড়ে তুলতে হবে নেশা মুক্তি কেন্দ্র। মানুষকে শিখতে হবে মাদককে ঘৃণা করতে, মাদকাসক্তকে নয়। বুঝতে হবে মাদকাসক্তি কোন ট্যাবু নয়, নিছকই একটি সামাজিক রোগ।

মাদকাসক্ত ব্যক্তির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে উঠলে তবেই সে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসতে চাইবে। সমাজের সর্বস্তরে যোগব্যায়াম, জিমনাস্টিক, ধ্যানচর্চা ইত্যাদি শরীর গঠনমূলক কার্যক্রমের ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। 

উপসংহার:

সৃষ্টির সেই আদি লগ্ন থেকে মাদকাসক্তি সমাজের জন্য একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই অভিশাপ সমাজের অগ্রগতিকে প্রতিহত করে। সমাজে মূল্যবোধ গড়ে উঠতে বাধা দেয়। ফলে আমাদের সকলের সুন্দর ও নির্মল এক সমাজের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। আধুনিককালে বিজ্ঞানের এই সর্বময় জয়যাত্রার যুগে আমাদের চেষ্টা করতে হবে বিজ্ঞান কে কাজে লাগিয়ে সমাজের এই সমস্যাকে নির্মূল করার।

বিজ্ঞান যাতে আর এল.এস.ডি কিংবা কোকেনের মত ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের সকলের। সমাজের নিম্নতম স্তর থেকে সকলে একসাথে একত্রিত হয়ে এই অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়াই করলে নিশ্চয়ই একদিন আমরা মাদকাসক্তি মুক্ত পৃথিবী উপহার দিতে পারব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মেকে।


মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো আপনার ব্যাক্তিগত মতামত কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানান।আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি সবার থেকে সুন্দর ও আপনার মনের মতো করে একটি রচনা তুলে ধরার।

এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনাটির নাম কমেন্ট করে জানান।দ্রুততার সঙ্গে আমরা উক্ত রচনাটি যুক্ত করার চেষ্টা করবো।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি
Rakesh Routh
রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

পরবর্তী পড়ুন

আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা [সঙ্গে PDF]

আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শনে সহয়তা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই […]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা [সঙ্গে PDF]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি আর কেউ নন,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু […]

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রচনা [সঙ্গে PDF]

মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নামের এক মহাযুদ্ধ। […]

ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি বা ছাত্রজীবনে রাজনীতি রচনা [সঙ্গে PDF]

ছাত্ররাজনীতি আসলে ভালো নাকি মন্দ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে বিগত এক শতাব্দী ধরে রাজনীতির নামে […]

বাংলার সংস্কৃতি রচনা [সঙ্গে PDF]

সভ্যতা ও সংস্কৃতি, আমাদের জীবনের এই দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে তা বিশ্লেষণ করা যায় না।সভ্যতার ক্রমবিকাশের […]

ভারতের স্বাধীনতা দিবস রচনা [সঙ্গে PDF]

ভারতমাতার বহু বীর সন্তান অনেক রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ইংরেজ […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Proudly Owned and Operated by Let Us Help You Grow Online ©️