বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা [PDF]

লিখেছেন: Rakesh Routh

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম।পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু PDF সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

যান্ত্রিক সভ্যতায় আমরা দিনদিন উন্নত হচ্ছি ঠিকই কিন্তু সেই সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবেশকে অসুস্থ করে তুলছি।প্রকৃতিকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের সকলেরই সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।তারই ভিত্তিতে আজকের রচনার বিষয় বিশ্ব উষ্ণায়ন।

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

"একটি গাছ একটি প্রান"

এই চিন্তা ভাবনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া মানব জাতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। মনুষ্য সৃষ্ট বা অন্যান্য যাবতীয় কার্যকলাপের দরুন বিষাক্ত গ্যাসগুলির জন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে সূর্যালোক প্রতিফলিত বা বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফেরত যেতে পারে না। ফলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে  এবং সেই সব গ্রীন হাউস গ্যাসের জন্য বিশ্ব উষ্ণায়ন দেখা যায়।

বিশ্ব উষ্ণায়ন কি:

বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে মূলত বোঝানো হয় জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশেষ ঘটনা। পরিবেশ গরম হবার পিছনে মনুষ্য কর্মই দায়ী।‌ মানব সৃষ্ট যন্ত্রপাতি, কারখানা দ্বারা সৃষ্ট গ্যাস ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত সূর্যালোককে ফেরত যেতে দেয় না।

কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড- এর মতন কিছু দূষণ সৃষ্টি কারী পদার্থ পরিবেশ তথা বায়ুমণ্ডলের ক্ষতি করে প্রচন্ড রকম ভাবে।

বিশ্ব উষ্ণয়নের কারণ:

গাছপালা উজাড় বা ধ্বংস হওয়ার ফলে বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে । ফলে শ্বাসরোধ করে এমন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অক্সিজেন- এর পরিমাণ হ্রাস পায় ক্রমাগত।

গাছপালার পচন, যে কোনো কৃষিজ বর্জ্য এবং জীব জন্তুদের বর্জ্য থেকে মিথেন নামক বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং সালফারের অন্যান্য অক্সাইডসমূহ, নাইট্রিক অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুওরো কার্বন ইত্যাদি গ্রীন হাউস গ্যাস গুলি পৃথিবী তথা ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণ করে।

পৃথিবীতে, স্বাভাবিকভাবেই গ্রিনহাউজ গ্যাসের জন্য তাপমাত্রা প্রায় 33 ডিগ্রি সেলসিয়াস (59 ডিগ্রি ফারেনহাইট) কম থাকে, যা তাদের অনুপস্থিতি কে কমাবে। ভূপৃষ্ঠর বায়ুমণ্ডল ছাড়া, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা জলের তাপমাত্রার চেয়ে কম হবে। প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাস গুলি হল কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি।

প্রকৃতি ও পরিসংখ্যান:

কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার, মিথেন ইত্যাদি গ্যাস বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধির দিক দেখতে গেলে  ১৮৮০-১৯৮৬ সালের মধ্যে ০.৬°‌ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল। 

বিজ্ঞানীদের অনুমান, এভাবে চলতে থাকলে হয়ত বিশ্বে ২.৫° তাপমাত্রা গড়ে আর‌ও বেড়ে যাবে  ২০৫০ সাল অবধি। তাদের পরিসংখ্যানের হিসেব‌ অনুযায়ী জানা যায় যে‌, বিগত কুড়ি হাজার বছরের আগে যা‌‌ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল বিগত কয়েক শতকে সেটা অনেক বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:

বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। এর ফলে গ্রীন হাউস প্রভাব দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসগুলি এক কঠিন স্তর সৃষ্টি করে যার ফলে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকরিত সূর্যালোক মহাশূন্যে ফেরত যেতে পারে না।

প্রবাল প্রাচীরে ২৫% সামুদ্রিক প্রজাতির জীবের আশ্রয়স্থল। মাছ, মোলাস্কা, স্পঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাণী প্রবাল প্রাচীরে বাস করে । বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই প্রবাল প্রাচীর বিপন্ন হয়ে পড়ছে । ১৯৮৮ সালে প্রায় ১৬% প্রবাল ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ।

ভারত মহাসাগরে জলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রবাল প্রাচীর গুলিতে মাছেদের আদর্শ বাসস্থান আর থাকছেনা । আবার লোভী মানুষ প্রবাল চুরি করে এদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে । মৃত প্রবালের সাদা বা রঙিন কঙ্কালের সৌন্দর্য আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করে ।

প্রতিকার ও আমাদের ভবিষ্যত:

পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সে দিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে। বিষাক্ত পদার্থের ব্যবহার কমাতে হবে যাতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে। আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের নিজেদেরই ঠিক করতে হবে। এক দূষণ মুক্ত সমাজ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

আর এর মূল প্রতিকার হল গাছ কাটা বন্ধ করা। আমাদের চেষ্টা করতে‌ হবে যতসম্ভব বৃক্ষ রোপন করা যায়। আমরা সকলেই জানি যে একটি গাছ একটি প্রান। তাই যে কোনো মানুষের সামাজিক কর্তব্য হিসেবে প্রাথমিক ভাবে বৃক্ষ রোপন করা উচিত।

অপরদিকে, মানুষের অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল যথা সম্ভব বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস করা। যত সম্ভব গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস পাবে তত সম্ভব ই বিশ্ব উষ্ণায়ন হ্রাস পাবে। ফলে পরিবেশ দূষণ মুক্ত হবে এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে।

উপসংহার:

প্রকৃতিকে যত্ন করে রাখা প্রত্যেকটি মানুষের কর্তব্য। অথচ সেই গাছপালা কেটেই  আমরা আমাদের বিপদ নিজেরাই টেনে আনি প্রতিনিয়ত। যার ফলে আমাদের পরিবেশে দূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে ক্রমাগত।

তাই নিজ পৃথিবীকে দূষণ মুক্ত রাখা এবং এক উৎকৃষ্ট পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের  প্রত্যেকটি মানুষের দায়িত্ব এবং নৈতিক কর্তব্য। এই বিষয়ে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আমাদের পৃথিবী বিশ্ব উষ্ণায়ন মুক্ত হয়। 


বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন। সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি
Rakesh Routh
রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

পরবর্তী পড়ুন

আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা [সঙ্গে PDF]

আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শনে সহয়তা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই […]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা [সঙ্গে PDF]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি আর কেউ নন,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু […]

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রচনা [সঙ্গে PDF]

মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নামের এক মহাযুদ্ধ। […]

ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি বা ছাত্রজীবনে রাজনীতি রচনা [সঙ্গে PDF]

ছাত্ররাজনীতি আসলে ভালো নাকি মন্দ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে বিগত এক শতাব্দী ধরে রাজনীতির নামে […]

বাংলার সংস্কৃতি রচনা [সঙ্গে PDF]

সভ্যতা ও সংস্কৃতি, আমাদের জীবনের এই দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে তা বিশ্লেষণ করা যায় না।সভ্যতার ক্রমবিকাশের […]

ভারতের স্বাধীনতা দিবস রচনা [সঙ্গে PDF]

ভারতমাতার বহু বীর সন্তান অনেক রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ইংরেজ […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Proudly Owned and Operated by Let Us Help You Grow Online ©️