দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

বিশেষ্য পদ কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

Banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত জানাই। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ, প্রবন্ধ রচনা,পত্র লিখন pdf সহকারে পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। নিয়মিত নতুন নতুন লেখা আপডেট করা হয় এখানে।

আজকের উপস্থাপন বিশেষ্য পদ।

বিশেষ্য পদ কাকে বলে?

যে পদের দ্বারা ব্যাক্তি, জাতি,বস্তু,গুণ,কার্য ইত্যাদির নাম প্রকাশিত হয়,তাকে বিশেষ্য পদ বলা হয়।

উদাহরণ: হাতি,ঘোড়া,সোনা,লোহা,বাঙালি,কলকাতা, রবীন্দ্রনাথ,বাংলাদেশ,ভারতবর্ষ, দয়া,মায়া ইত্যাদি।

  • ভারতের উত্তর দিকে হিমালয় অবস্থিত।
  • বাঘ জঙ্গলে থাকে।
  • সাধুতা মহতের লক্ষণ।
  • বেদুইন দুর্ধর্ষ জাতি।

উপরে উল্লেখিত বাক্য গুলির মধ্যে ‘ভারত’ দেশের নাম,’হিমালয়’ পর্বতের নাম, ‘বাঘ’ পশুর নাম, ‘সাধুতা’ হল গুণের নাম, ‘বেদুইন’ জাতির নাম।প্রতিটি নাম বিশেষ করে বলা হয়েছে তাই এগুলি বিশেষ্য পদ।যেহুতু বিশেষ্য পদ নামকে প্রকাশ করে তাই একে নাম পদ ও বলা হয়ে থাকে।

বিশেষ্য পদের শ্রেণীবিভাগ:

বিশেষ্য পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।

  • সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
  • শ্রেনিবাচক বিশেষ্য
  • ভাববাচক বিশেষ্য
  • ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য
  • সমষ্টিবাচক বিশেষ্য

১. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য :

  • রবীন্দ্রনাথকে কবিগুরু বলা হয়।
  • বাংলাদেশের রাজধানীর নাম ঢাকা।
  • পৃথিবীর সর্ব্বোচ শৃঙ্গ এভারেস্ট

উপরের বাক্য গুলিতে ‘রবীন্দ্রনাথ’ ব্যাক্তির নাম, ‘বাংলাদেশ’ একটি দেশের নাম ও ‘ঢাকা’ তার রাজধানীর নাম, ও ‘এভারেস্ট’ পর্বত শৃঙ্গের নাম সুনির্দিষ্ট করে বুঝিয়েছে।

সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য পদ কাকে বলে?

যে বিশেষ্য পদ ব্যাক্তি,স্থান,পাহাড় পর্বত,সমুদ্র,নদনদী,পশুপাখি,গ্রন্থ,মন্দির মসজিদ,দেশ রাজধানী,পত্রপত্রিকা ইত্যাদি যে কোনো নাম সুনির্দিষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য পদ বলা হয়। যেমন –

  • ব্যাক্তির নাম – সুভাষচন্দ্র,রবীন্দ্রনাথ,চিত্তরঞ্জন, অমর্ত্য,শিবশঙ্কর,যিশু ইত্যাদি।
  • স্থানের নাম – কলকাতা,ঝাড়গ্রাম,ঢাকা,দিল্লি,লন্ডন ইত্যাদি।
  • নদনদীর নাম – গঙ্গা,যমুনা,ভাগীরথী,সিন্ধু,নীল,আমাজন ইত্যাদি
  • সমুদ্রের নাম – প্রশান্ত মহাসাগর,ভারত মহাসাগর, ইত্যাদি।
  • পত্রপত্রিকার নাম – আনন্দবাজার,বর্তমান,আজকাল,প্রতিদিন ইত্যাদি।

উপরের উদাহরণ গুলি থেকে খুব সহজেই বোঝা যায় সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য সাধারণ নামকে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে।

সাধারণ নাম [বিশেষ্য]সুনির্দিষ্ট নাম [সংজ্ঞাবাচক]
কবিকাজী নজরুল ইসলাম
মহাদেশএশিয়া
গ্রন্থআনন্দমঠ
ফলআম

২. শ্রেনিবাচক বিশেষ্য:

  • গরু উপকারী প্রাণী।
  • গাছ আমাদের পরম বন্ধু।
  • আমরা গর্বিত আমরা বাঙালি
  • একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান

উপরের প্রথম তিনটি বাক্যে ‘গরু’,গাছ,বাঙালি, এক একটি জাতির নাম এবং শেষ বাক্যে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায়গত শ্রেণীর নাম প্রকাশ করেছে।

শ্রেনিবাচক বিশেষ্য পদ কাকে বলে?

যে বিশেষ্য পদ জীব বা জড় পদার্থের জাতের শ্রেণীর নাম বোঝায় তাকে শ্রেনিবাচক বিশেষ্য বলে।

উদাহরণ: ধান,গম,গরু,ছাগল,খ্রিস্টান, বৌদ্ধ,ইংরেজ,ফরাসি ইত্যাদি।

শ্রেনিবাচক বিশেষ্য পদকে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হলে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হয়।যেমন –

শ্রেনিবাচক বিশেষ্যসংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
ধানপঙ্কজ ধান
মাছ ইলিশ মাছ
আমহিমসাগর আম
নদীগঙ্গা

৩. ভাববাচক বিশেষ্য:

  • গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে হয়।
  • সাধুতা মহতের লক্ষণ।

এখানে ‘শ্রদ্ধা’ হল ভাববাচক বিশেষ্য পদ। ‘সাধুতা’ এখানে ভাববাচক বিশেষ্য।

ভাববাচক বিশেষ্য পদ কাকে বলে?

যে বিশেষ্য পদ কোনো বিশেষ ভাব,ব্যাক্তির দোষ গুণ বা বস্তুর ধর্মের নাম নির্দেশ করে,তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বা গুন বাচক বিশেষ্য পদ বলে।

৪. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য:

  • আমার দুপুরে ঘুমোনো অভ্যাস।
  • আকাশের ডাকে আমার ঘুম ভাঙলো।

‘ঘুমোনো’ ও ‘ডাকে’ এখানে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য ।

ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য পদ কাকে বলে?

যে বিশেষ্য পদ ক্রিয়ার নাম নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।যেমন –
লিখন, পঠন,গমন,দেখা, চলা,খাওয়া ইত্যাদি।

৫. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:

  • সেনাদল যুদ্ধ জিতে দেশে ফিরছে।
  • বাবা একডজন কলা কিনে এনেছে।
  • একঝাঁক পাখি বসেছে গাছের ডালে।

উপরোক্ত বাক্য গুলিতে ‘সেনাদল’, ‘একডজন কলা’, ‘একঝাঁক পাখি’, ব্যাক্তি প্রাণী ও বস্তুর সমষ্টিকে নির্দেশ করেছে।তাই এগুলি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য কাকে বলে?

যে বিশেষ্য পদ বস্তু প্রাণী বা ব্যাক্তির সমষ্টির নাম বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন – দল,সমাজ,সংঘ,জনতা,সমিতি ইত্যাদি।

বিশেষ্য পদ সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার হয়ে থাকলে আপনার জন্য একটি সহজ প্রশ্ন রইলো।

বাঙালির এভারেস্ট জয় একটি মনে রাখার মতো ঘটনা। বাক্যটিতে কতগুলি বিশেষ্য পদ রয়েছে সেগুলি কিকি ও কি ধরনের বিশেষ্য পদ?? উত্তরটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানান।


বাংলা ব্যাকরণের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষ্য পদ। উদাহরণ স্বরূপ প্রত্যেক প্রকার বিশেষ্য পদ উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এরকম আরও নতুন নতুন ভাবসম্প্রসারণ ,প্রবন্ধ রচনা,পত্র রচনা, বাংলা ব্যাকরণ পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

রাকেশ রাউত

রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট