বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন | প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ রচনা [PDF]

লিখেছেন: Rakesh Routh

আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার প্রায় সকল আবিষ্কার ও প্রযুক্তির মূলে রয়েছে বিদ্যুৎ।শিল্প,কৃষি,পরিবহণ,স্কুল, কলেজ,অফিস সহ বাড়ির দৈনন্দিন কাজে বিদ্যুতের অবদান অপরিসীম।প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুতের গুরুত্ব নিয়ে আজকের রচনা বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন বা প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ।

প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

বৈজ্ঞানিক ফ্যারাডেকে অসংখ্য ধন্যবাদ তার এই দুর্লভ আবিষ্কারের জন্য। তিনি আকাশের বিদ্যুৎকে মানুষের কাজে লাগিয়েছেন। সৃষ্টির আদিমযুগে আকাশে বিদ্যুতের অহংকার দেখে, ভয়ার্ত মানুষেরা তাকে কোনো অপদেবতার নির্দয় হাতের দুর্জয় অস্ত্র ভেবে নিরাপদ আশ্রয়ে করত আত্মগোপন।

আধুনিককালের বিজ্ঞানের বলে বলীয়ান মানুষেরা আজ সেই দেবরাজ ইন্দ্রের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে সেই দুর্জয় বজ্র, দুর্বার বিদ্যুৎ। সকল শক্তির উৎস বিদ্যুৎকে সেই আলাদিনের প্রদীপের দুর্ধর্ষ দৈত্যের মতো করেছে বশীভূত।

তাকে নিয়োজিত করেছে মানুষের একনিষ্ঠ সেবায়, সেটি হল সভ্যতার সার্বিক বিকাশ। আমাদের জীবনকে আরো প্রগতিশীল করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই বিদ্যুৎ। 

বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ইতিহাস:

বিদ্যুৎ হল শক্তির এক রূপ। এটি প্রকৃতির একটি রূপ। তাই এটিকে আর উদ্ভাবন করতে হয়নি। এই বিদ্যুতের আবিষ্কার ঠিক কে করেছিলেন, তা নিয়ে অনেক মত প্রচলিত আছে। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন নামক এক বিজ্ঞানী ছিলেন, যাকে বহু গবেষক বিদ্যুতের আবিষ্কারকর্তা বলে মনে করেন। পরবর্তীকালে সেই বিজ্ঞানীর গবেষণা বিচার করে জানা যায়, তিনি কেবলই বজ্রপাত এবং বিদ্যুতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন। 

যদিও এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের আবিষ্কারের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এই বিদ্যুৎ আসলে প্রায় ২০০০ বছরেরও আগে উদ্ভব হয়েছিল। জানা যায় যে, প্রাচীন গ্রিকরা অম্বার নামক এক প্রকার গাছের রজনের ওপরে পশমের সাহায্যে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ তৈরী করে।

বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পূর্বের অবস্থা:

এক সময়ে মানুষ ছিল অরণ্যবাসী। গুহা বা বৃক্ষশাখায় তার দিন কাটতো। তখন মানুষ ছিল সবচেয়ে দুর্বল জীব। প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপকে তারা ভয় পেতো। হিংস্র বন্য জানোয়ারের ভয়ে সে ছিল সদা সন্ত্রস্ত।

আকাশচুম্বি পাহাড়ের দৃঢ়তা তাকে মন্ত্রমুগ্ধ করতো। সমুদ্রের উত্তাল জলরাশির সীমাহীনতা সে বিস্মিত চোখে দেখতো। কিন্তু, মানুষ চাইল না জগতের দুর্বলতম জীব হিসেবে বেঁচে থাকতে। মানুষের ছিল এক অমূল্য সম্পদ, যা আর অন্য কোনো প্রাণীর ছিলনা।

তা হল মানুষের বুদ্ধি। আদিম মানুষ আবিষ্কার করলো আগুন। সেই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর মানুষকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মানুষ আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞান। আর, বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠতম আবিষ্কার হল বিদ্যুত। মানুষের বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিদ্যুতের অবদান অনস্বীকার্য।

বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন:

i) শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ

প্রাত্যহিক জীবনে আয়ের উৎস হিসেবে যেসব শিল্প বিরাজ করছে, সেগুলি বিদ্যুতের ব্যবহারকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রে সেটা তো বলাই বাহুল্য। দৈনন্দিন কাজে যে কোনো মিস্ত্রিরা বিদ্যুৎ চালিত মেশিনের সাহায্যে অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করতে সফল হচ্ছে।

যেমন রাজমিস্ত্রিরা আগে ঘরের দেওয়াল ফুটো করতে ছেনি হাতুড়ি দিয়ে অনেক পরিশ্রম করতো।  তারা এখন ইলেকট্রিক মোটরের সাহায্যে অনেক কম সময়ে এবং সুচারুভাবে কাজটি সমাধান করতে পারছে। কলকারখানা গুলিতেও বিদ্যুতের ব্যবহার অনস্বীকার্য।

ii) চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ: 

বিদ্যুতের দ্বারা চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর উন্নতি সম্ভব হয়েছে। আজ এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব। অনুমান নির্ভরতা থেকে বিদ্যুৎ আজ চিকিৎসা বিজ্ঞানকে মুক্তি দিয়েছে।

তাছাড়া, বিদ্যুৎ রশ্মির সাহায্যে ক্যান্সার প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধির বর্তমানে চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। লেসার রে নিয়েছে আধুনিক শল্য চিকিৎসার ভার।একথা বলাই যেতে পারে যে চিকিৎসা ব্যাবস্থার উন্নতি সম্ভব হয়েছে কেবল বিদ্যুতের দৌলতে। 

iii) স্কুল,অফিস ও সাধারণ জীবনে বিদ্যুৎ:

আজকের দিনে মানুষকে প্রতি পদক্ষেপে বিদ্যুতের ওপরে নির্ভর করতে হয়। কোনো শহরের পথ দিয়ে হাঁটলেই আমাদের নজরে পড়বে বিদ্যুতের অসংখ্য ব্যবহার। চোখে পড়বে অসংখ্য দোকান, অফিস,  স্কুল, লাইব্রেরি - যেগুলি আজ উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত।

এই আলোও বিদ্যুতের দান। অফিসে চলছে কম্পিউটার। চিঠি লেখার বদলে চলছে মেইল করা। ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে, বই পড়া থেকে শুরু করে চলছে সিনেমা দেখা। এই অমিত প্রতিভার অধিকারী কম্পিউটার বিদ্যুতের শক্তিতেই বলীয়ান।

দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার রসদ যোগাচ্ছে বিদ্যুৎ। লাঙ্গলের বদলে এসেছে বিদ্যুৎচালিত মোটর, ট্রাক্টর, ধান ঝাড়ানো মেশিন, প্রভৃতি। ঘরকন্নার কাজেও বিদ্যুৎ অপরিহার্য। কাপড় কাচার বালাই নেই আর।

আছে বিদ্যুৎ চালিত ওয়াসিং মেশিন। বাথরুমে গরম জলের জন্য রয়েছে বৈদুতিক হিটার। এক কথায়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 

উপসংহার:

বর্তমানে বিদ্যুৎ আমাদের নিত্য সহচর। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের জীবনধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের জন্য বিদ্যুতের অবদানের শেষ নেই। কিন্তু বিদ্যুৎকে অপর্যাপ্ত ব্যবহার করে মানুষ আজ ক্ষতির সম্মুখীন।

মানুষ বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই সমাজ স্তব্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া, বিদ্যুতের সুফল এখনো পর্যন্ত ভারতের বহু রাজ্যে পৌঁছায়নি।

এখনো ভারতের অনেক প্রত্যন্ত গ্রামে বৈদুতিক আলো পৌঁছায়নি। একথা মনে রাখতে হবে যে, যতদিন না সমাজে সার্বিকভাবে বিদ্যুতের সুফল পৌঁছে দিতে পারা যাবে, ততদিন আমাদের দেশের উন্নতি অসম্পূর্ণই থাকবে। 


বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন বা প্রাত্যহিক জীবনে বিদ্যুৎ প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি
Rakesh Routh
রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

পরবর্তী পড়ুন

আমার প্রিয় শিক্ষক রচনা [সঙ্গে PDF]

আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক থাকেন, তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে জীবনের সঠিক পথ প্রদর্শনে সহয়তা করেন। তাঁরা প্রত্যেকেই […]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা [সঙ্গে PDF]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে যিনি অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি আর কেউ নন,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু […]

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রচনা [সঙ্গে PDF]

মানুষ যেদিন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পরিবেশ বনাম উন্নয়ন নামের এক মহাযুদ্ধ। […]

ছাত্র সমাজ ও রাজনীতি বা ছাত্রজীবনে রাজনীতি রচনা [সঙ্গে PDF]

ছাত্ররাজনীতি আসলে ভালো নাকি মন্দ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে বিগত এক শতাব্দী ধরে রাজনীতির নামে […]

বাংলার সংস্কৃতি রচনা [সঙ্গে PDF]

সভ্যতা ও সংস্কৃতি, আমাদের জীবনের এই দুটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে তা বিশ্লেষণ করা যায় না।সভ্যতার ক্রমবিকাশের […]

ভারতের স্বাধীনতা দিবস রচনা [সঙ্গে PDF]

ভারতমাতার বহু বীর সন্তান অনেক রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন আমাদের। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ইংরেজ […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Proudly Owned and Operated by Let Us Help You Grow Online ©️