দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

প্রাত্যহিক জীবনে জল প্রবন্ধ রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু pdf সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

শুধু মানবজাতি নয়, বেঁচে থাকার জন্য সমস্ত প্রাণীজগতে জল একান্ত প্রয়োজন।তাই জলের অপর নাম জীবন।কিন্তু আমরা জলকে দিনের পর দিন দূষণ করে চলেছি।তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের বিষয় – প্রাত্যহিক জীবনে জল প্রবন্ধ রচনা।

প্রাত্যহিক জীবনে জল প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

আমরা সকলেই জানি যে ‘জলের ওপর নাম জীবন’। পৃথিবীতে প্রায় শতকরা ৭১ ভাগ সুবিশাল সামুদ্রিক জলরাশি এবং বাকি ২৯ ভাগের কিছু পরিমান ভূগর্ভস্থ জল,  নদী-নালা, খাল-বিল রয়েছে।

পৃথিবীর সম্পূর্ণ জলরাশির পরিমান হল ১৪০ কোটি ঘন কিলোমিটার। সমস্ত জীব তাদের জীবন ধারণের জন্য স্থলভাগের জলভাগ এবং ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করে থাকে। সামুদ্রিক জলরাশি ঠিক সেই পরিমানে ব্যবহার করা হয়না। জলসম্পদের ৯৭.২% লবনাক্ত।

এই সুবিশাল জলরাশি চক্রাকারে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে প্রবাহিত হয়ে থাকে এবং তা আবার পরে বৃষ্টি হয়ে ফিরে আসে। আমাদের জলের উপযুক্ত ব্যবহার, জল দূষণ, জলের অপচয় এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিৎ, নয়তো পরবর্তীকালে জলের ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে।

জলের অপর নাম জীবন:

প্রতিটি জীব দেহ দুই তৃতীয়াংশ জল দ্বারা নির্মিত। জলের আপেক্ষিক তাপ এবং দ্রাব্যতা যথেষ্ট বেশি হওয়ার জন্য এবং জীব দেহের যে কোনো শারীরিক কার্যাবলীর জন্য জলের দরকার অত্যাবশ্যাক।

জল ছাড়া আমাদের জীবনধারণ অসম্ভব। আমাদের জীবনে বেঁচে থাকার জন্য জল হল অত্যাবশ্যাক একটি উপাদান। ভূগর্ভের জল দুই ধরণের, যথা: স্থির জলের উৎস এবং প্রবহমান জলের উৎস। আমরা সাধারণত ভূগর্ভের এবং ভূপৃষ্ঠের জল ব্যবহার করে থাকি, যা আমরা দৈনন্দিন গৃহস্থলী এবং শিল্পের কাজে ব্যবহার করে থাকি।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জল হল অত্যাবশক প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আমাদের নিত্যদিন খাবার না খেলেও যদিও বা চলে যেতে পারে,  কিন্তু,  জল ছাড়া আমাদের জীবনধারণ অসম্ভব। আমরা একটা দিনও জল না খেয়ে থাকতে পারবোনা। এই কারণের জন্যই জলের অপর নাম জীবন।

প্রাত্যহিক জীবনে জলের প্রয়োজনীয়তা:

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জলের ব্যবহার ব্যাপক। পানীয় হিসেবে, যে কোনো খাদ্য দ্রাব্যাদি প্রস্তুতিতে, পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার জন্য এবং সেচের কাজের জন্য প্রচুর পরিমানে জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এমনকি শিল্প এবং শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রের অনেক কাজে প্রচুর জল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন  কলকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে,  অধিক চাপে জলীয় বাষ্প উৎপাদন করার জন্য, শীতলীকরণের জন্য এবং বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য প্রচুর জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

শুধু তাই নয়,  জলের ব্যবহারের প্রকৃতি বিচার করলে দেখা যাবে যে, কৃষিক্ষেত্রেই অধিক পরিমানে জল ব্যয় করা হয়। যার পরিমান প্রায় ৭৩%।  গৃহস্থালির কাজে প্রায় ৩.৫% জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শিল্পের কাজে প্রায় ৩.২% এবং অন্যান্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে প্রায় ১৩.৭% জল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

জলদুষণ ও তার প্রতিকার:

আমাদের নিত্যদিন জীবনে জলের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে এবং নানারকমের প্রাকৃতিক কারণের দরুন জলের রাসায়নিক এবং জৈব উপাদানগুলির অবনমন ঘটছে। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দূষণ। এই জলদূষণের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যথা:

  • রাসায়নিক সার, কীটনাশক জলে মিশ্রণ। 
  • ঘর তথা গৃহস্থালীর নানারকমের দৈনন্দিন আবর্জনা জলে মিশে যাওয়া। 
  • শিল্পের আবর্জনা এবং বর্জ্য পদার্থ জলে মিশে যাওয়া। 
  • অতিরিক্ত ডিটারজেন্টের ব্যবহার করা। 
  • অ্যাসিড বৃষ্টি। 
  • শহর এলাকা গুলির নর্দমার জলের মিশ্রণ। 
  • শিল্পাঞ্চলের ছাই এবং তৈলাক্ত পদার্থ জলে মিশে যাওয়া। 
  • এছাড়াও জলে আর্সেনিক দূষণও জলদূষণের অন্যতম আরেকটি কারণ।  

প্রাত্যাহিক জীবনে জলদূষণ যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। মানব শরীরে জলদূষণের ফলে বেশ কিছু রোগ দেখা দিচ্ছে। যেমন – জন্ডিস,  কলেরা, আন্ত্রিক,  নানারকমের চর্মরোগ ইত্যাদি। এসকল রোগই জলদূষণের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, জলে অতিরিক্ত মাত্রায় যদি ক্লোরিন থাকে,  তবে তা অ্যালার্জি, মূত্রথলির নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করছে। লৌহ, সায়ানাইড, তামা প্রভৃতির জন্য পেটের বিভিন্ন রোগ এবং চর্মরোগ হচ্ছে।

শুধু মানব দেহে নয়, পরিবেশের ওপরেও ব্যাপক হারে এই দূষণের প্রভাব বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। কারণ এই দূষনের ফলে মাটির উর্বরতা ব্যাপক পরিমানে হ্রাস পাচ্ছে। ভৌম জলের ক্ষারের পরিমান বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। ফসলের গুণগত মান এবং স্বাদগত পরিবর্তন হচ্ছে। এমনকি উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হচ্ছে। 

জল ব্যবহারের ফলে যে দূষণ হচ্ছে তার প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত, প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। ব্যক্তিগত স্তরে জলের যথাযথ ব্যবহার  সম্পর্কে সকলকে ধারণা প্রদানের মাধ্যমে জলের অপচয় রোধ করতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দূষিত জলকে শোধন করতে হবে। এমনকি প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে জলদূষণ রোধ করতে। 

উপসংহার :

একমাত্র চেতনার উন্মেষই যেকোনো অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে সক্ষম। শুধু নিয়ম বা আইন করলেই হবেনা, সেই আইন যাতে সবাই মান্য করে চলে, সেদিকেও খেয়াল রাখার ভীষণ জরুরি। তবেই একমাত্র জলদূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এর জন্য চাই মনোভাব এবং সদিচ্ছা। কারণ মনে রাখতে হবে যে জল ছাড়া জীবন অচল।


প্রাত্যহিক জীবনে জল প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content