দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা [PDF]

আজকের ছাত্র সমাজ আমাদের দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।বর্তমান ছাত্র ছাত্রীরা কেউ শিক্ষক, কেউ মন্ত্রী, কেউ ডাক্তার কেউ বা একজন আদর্শ নাগরিক হয়ে আমাদের দেশকে পরিচলনা করবে আগামী একদিন।তাই দেশ গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা সবার উপরে।হিংসা,দুর্নীতি, লোভ নামক সামাজিক দূষণ থেকে সমাজকে মুক্ত করে দেশকে উজ্জ্বল ভবিষ্যত এনে দিতে পারে ছাত্র সমাজ।এ নিয়ে আজকের রচনা দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা।

দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

কবি নজরুল তাঁর ‘ছাত্রদলের গান’ কবিতায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন যে  

“মোদের চোখে বিশ্ববাসীর 

স্বপ্ন দেখা হোক সফল

আমরা ছাত্রদল।”

অর্থাৎ ছাত্রদল চায় বিশ্ববাসীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে। আমাদের এই ভারতবর্ষে অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এলেও, দেশের বহু মানুষ জীবনধারণের প্রাথমিক উপাদানগুলি থেকে এখনো বঞ্চিত।

তাই ছাত্রছাত্রীদের দুর্বার প্রাণশক্তিই পারে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা গ্রহণ করতে। কেননা,  তাদের মৃত্যুঞ্জয়ী সাহস, কর্মনিষ্ঠা, এগিয়ে চলার গতি ভারতের বিভিন্ন সমস্যাকে সমাধানের লক্ষে পৌঁছে দিতে পারে। স্বভাব বৈশিষ্ট্যে ছাত্রছাত্রীরা নব যৌবনের অগ্রদূত।

তারা তারুণ্যের প্রতীক। সেই তারুণ্য কোনো বাধা মানে না। কোনো পিছুটান তাদের নেই। জীবন- মৃত্যু তাদের পায়ের ভৃত্য। তাই দেশ গঠনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।

দেশ গঠনে ছাত্র সমাজের গুরুত্ব:

দেশ মানে তো কোনো মূর্তি বা অ্যাবস্ট্রাক্ট  পদার্থ নয়। দেশ মানেই দেশের মানুষ এবং প্রকৃতি। তাই মানুষের এবং প্রকৃতির সুরক্ষা হল দেশ গঠনের মূল কথা। দেশ গঠনে ছাত্রছাত্রীদের করণীয় গুলি হল:

ক) আগে দেশকে জানতে হবে। দেশ না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব যে বিপন্ন, সেটি উপলব্ধি করলে দেশ গঠনের উপযোগীতা ধরা পড়বে। 

খ) দেশের সাথে আমাদের মা ও সন্তানের মতো অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক না গড়ে তুললে, দেশের প্রকৃত উন্নতি ঘটানো সম্ভব না।  কারণ যেই মুহূর্তে সে জন্মগ্রহণ করে, সেই নিরিখে সে দেশের সন্তান। তাই দেশকে গঠন করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদের দেশসেবা করা উচিৎ। 

গ) দেশকে জানা এবং দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর, দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা এবং সমস্যা গুলিকে চিহ্নিত করতে হবে। 

ঘ) কথায় আছে, অস্ত্রের থেকে কলম শক্তিশালী। তাই ছাত্রছাত্রীদের দেশের উন্নয়নে যে কোনো সমস্যার প্রতিকারে কলম ধরা উচিত।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজ:

অন্ধ লোক যেমন প্রকৃতির আলো থেকে বঞ্চিত, তেমন নিরক্ষর লোকেরাও সমাজের অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত। ভারতের এখনো দুই-তৃতীয়াংশ লোক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তাই ছাত্র এবং যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এই সমস্যার সমাধানে।

তাদেরকে জ্ঞানের মশাল ছড়িয়ে দিতে হবে। নিরক্ষর মানুষরা যাতে শিক্ষার আলো দেখতে পায়, তার জন্য তাদেরকে বিনা মূল্যে শিক্ষা দিতে হবে। দেশের মাটি থেকে নিরক্ষরতার কলঙ্ক মুছে দিতে হলে, বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের বিশেষ দায়িত্ব আছে। তারা নিজেরা শিক্ষিত হবে, আর তাদের চারপাশের মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে থাকবে, তা হয় না। সুতরাং, তাদের উচিৎ নিজেদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি অন্যদেরও স্বাক্ষর করে তোলা। ছাত্ররা সচেষ্ট হলে স্বাক্ষরতা অভিযান সফল হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

দুর্নীতি দমনে ছাত্রসমাজ:

রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই দারিদ্রের মোকাবিলার কথা সোচ্ছার কণ্ঠে সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, ইত্যাদির প্রতিশ্রুতিও বিঘোষিত হয়েছে। কিন্তু, এর জন্য ন্যায়সঙ্গত বন্টনের প্রয়োজন। এই কর্মসূচি রূপায়ণের জন্য দুর্নীতিমুক্ত সমাজ আবশ্যিক। এই ব্যাপারে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব অপরিসীম। 

সমাজসেবার কাজে ছাত্রসমাজ:

ছাত্র সমাজকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভারতের মতো দেশে যেখানে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দারিদ্রতার অন্ত নেই। নিরক্ষরতা ও  অশিক্ষা-কুশিক্ষার শুষ্ক তাপে যেখানে নিরানন্দ মরুভূমি তার স্থায়ী আসন পেতে বসেছে, যেখানে প্রাকৃতিক দৈব-দূর্বিপাকে কোটি কোটি মানুষের জীবন প্রতি বছর অসহায় ও বিপন্ন হয়ে পরে, সেখানে ছাত্র সমাজের ভূমিকা অসামান্য। 

বন্যা-প্লাবন, ভূমিকম্প ও ধসের ফলে ভারতের জনগণের ওপর নেমে আসে দুঃখের পাহাড়। দেশবাসী হয়ে পরে অসহায়। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রসমাজকে দেশ তথা সমাজ সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রসমাজ:

সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় ও উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর এই জন্য ছাত্রছাত্রীদের অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। সেই জন্য যা যা করতে হবে, তা হল :

ক) পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে নিজেদের সচেতন করা। 

খ) নিজেদের বাড়িতে পয়ঃপ্রণালী ঠিক রাখা। 

গ) যে সব কারণে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বিঘ্নিত হয়, সেসব কাজ না করা। আহার, নিদ্রা, পরিষ্কার -পরিছন্নতা, সুষম খাদ্য, এসব বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা। 

ঘ) অবৈজ্ঞানিক মানসিকতা ও কুসংস্কার দূরীকরণে সচেষ্ট হওয়া। 

ঙ) স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, প্রভৃতি জায়গা সব সময় পরিষ্কার রাখা। 

চ) ধূমপান, মদ্যপান, ড্রাগ সেবন প্রভৃতি থেকে বিরত থাকা। 

ছ ) রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা গড়ে  তোলার জন্য  গাছপালার বিশেষ ভূমিকা আছে। সেই জন্য গাছ লাগানো ও পুরোনো গাছ না কাটার বিষয়ে সকলকে সচেতন করা।

রাজনীতি ও ছাত্রসমাজ:

বর্তমান সমাজের ছাত্র রাজনীতিকে বলা হয় মূলত নেতৃত্ব তৈরির বাতিঘর। এই ক্ষেত্রেও ছাত্র সমাজের বিশিষ্ট গুরুত্ব আছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছাত্র রাজনীতিকে বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।

কিংবা তারা গঠনমূলক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে বেশ কিছু আলোচিত নেতিবাচক ঘটনাকে‌ তারা বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন। এই সব প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্ত মানুষ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব জানাচ্ছেন।

উপসংহার:

ছাত্রছাত্রীরা তাই দেশসেবা বা দেশগঠনে তাদের জাতীয় সত্তাকে মেলে ধরবে, সেই কথা খুব সহজেই বলা যেতে পারে। কিন্তু সেই কথাগুলি বাস্তবায়িত করা এত সহজ কাজ নয়।

এর জন্য দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং ছাত্রদের সহযোগিতা করতে হবে। সমস্ত ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে দেশসেবা করার জন্য। তবেই এক মাত্র দেশের উন্নতি সম্ভব।


দেশ গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো আপনার ব্যাক্তিগত মতামত কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানান।আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি সবার থেকে সুন্দর ও আপনার মনের মতো করে একটি রচনা তুলে ধরার।

এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনাটির নাম কমেন্ট করে জানান।দ্রুততার সঙ্গে আমরা উক্ত রচনাটি যুক্ত করার চেষ্টা করবো।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content