দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম।পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু PDF সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

বর্তমানে উন্নয়নের পথে এক বিরাট বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি।আমাদের ভবিষ্যতকে সুন্দর করতে ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে দুর্নীতি প্রতিকার করা খুব দরকার।আজকের বিষয় প্রবন্ধ রচনা – দুর্নীতি ও তার প্রতিকার

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

আজ আমাদের দেশে যত রকমের সামাজিক সমস্যা রয়েছে প্রতি মুহুর্তে মানুষ যেটার সম্মুখীন হচ্ছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধী হল দুর্নীতি। এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এই ধরনের অদ্ভুত এক ব্যাধিকে দূরে সরানো খুব একটা সহজ কাজ নয়।

সমাজের প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনেই এটি এখন নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে। কারোর জীবনে হয়তো বেশী, কারোর জিবনে একটু কম। সমাজের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বা উচ্চ স্তরের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের একদম নীচু স্তরের মানুষ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি তার গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

এক কথায় বলতে গেলে মূলত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সমস্ত ভাগে এই সামাজিক ব্যাধি নিজের থাবা ফেলেছে এবং ধীরে ধীরে তার প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। আর এই বিষাক্ত ব্যাধি যে কোনো মানুষ তথা দেশ বা জাতির উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

দুর্নীতি কি:

দুর্নীতি বলতে প্রধানত কূটনৈতিক বুদ্ধিকে বোঝানো হয়। আমাদের সমগ্র দেশ এই কূটনৈতিক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এটি প্রায় সর্বত্র লক্ষ্য করা যায়।

সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ করা, আয়কর-বিক্রয়কর ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া, বিদ্যুৎ জল গ্যাস চুরি, কারোর কাছ‌ থেকে ঋন নিয়ে তার শোধ না করা, চাকরির নামে ভুল ভাল কোনো কোম্পানি‌ খোলা ও পরে তার মাধ্যমে মানুষদের দুর্ভোগে ফেলা, নিজ স্বার্থে শেয়ার বাজারে ফাঁকি দেওয়া, চোরাচালানি, কালোবাজারি, ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস সবই অত্যন্ত বাজে কাজ যা সমাজে খুবই বাজে প্রভাব ফেলে।

এক কথায় এমন কোনো এক কাজ যা সমাজের পক্ষে হানিকারক এবং যা নিয়ম বিরোধী তাই দুর্নীতি।

দুর্নীতির সর্বগ্রাসী রূপ:

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় মাপের যে দুর্নীতির দৃষ্টান্ত রয়েছে যা সাধারণ মানুষের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে সেটা হল সরকারি চাকরি প্রদান। এখনকার দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি সরকারি চাকরি পেতে সক্ষম নয়।

কারণ বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি প্রদান করা হয়  ঘুষের বা অন্য ভাষায় টাকার উপরে ভিত্তি করে। আপনি যদি যোগ্যতাসম্পন্ন ও প্রচুর মেধাবী এবং কর্মঠ ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবুও আপনি চাকরি পাবেন না যদি আপনি ঘুষ প্রদান করতে ব্যর্থ হন।

তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আপনাকে চাকরি পাওয়ার জন্য ব্যর্থ প্রমাণ করবে এবং একজন অযোগ্য ব্যক্তি কে তার নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করার মাধ্যমে চাকরি প্রদান করবে। সেই ব্যক্তি ক্রমে ভবিষ্যতে দুর্নীতির মত কূটনৈতিক খাতকে আরো বড় করে তুলবে এবং তার বিস্তার ঘটাবে। এটাই সমাজের মূল চিত্র।

দুর্নীতির কারণ:

দুর্নীতির কারণ এক দিকে যেমন দৈনন্দিন জীবনের অভাব অন্য দিকে লোভ। বহু সংখ্যক গরীব মানুষ আছে যারা খাবারের জোগান‌ দিতে পারে না। তারাই পরে চুরি, ডাকাতি এসব কাজ করতে বাধ্য হয়।

বেকারত্ব বৃদ্ধিকেও দুর্নীতির একটি বিশেষ কারণ বলা যেতে পারে কারণ শিক্ষা অর্জনের পর যুবসমাজ যখন চাকরি পায়না তখন অনেকেই অর্থের অভাবে খারাপ পথকে বেছে নেয়। অনেক সময় দেখা যায় আবার কিছু লোভী মানুষ আছে যারা অতিরিক্ত পাওয়ার আশায় এমন কাজ করে।

সমাজে দুর্নীতির প্রভাব:

বর্তমান যুগের সমাজে সামান্য দুর্যোগে গরীব বা অভাব গ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণ দান করা হয় যেমন চাল, ডাল,গম ইত্যাদি। কিন্তু এই ধরনের পবিত্র কাজের উপর ও দুর্নীতির কূট প্রভাব পড়েছে। এই সামান্য ত্রাণ দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  জনগণের নিকট সঠিক ভাবে পৌঁছায় না এবং সেই সরকার প্রদত্ত অন্ন পৌঁছানোর আগেই সেটা চুরি হয়ে যায়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও আইনের সীমাবদ্ধতা:

দুর্নীতি প্রতিরোধে লড়াই করতে ও তার বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়াতে আমাদের দেশের সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে।  তবে শুধুমাত্র আমাদের দেশের সরকারের একার পক্ষে একদিকে যেমন দুর্নীতি কোনো ভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় ঠিক একইভাবে তেমনই শুধুমাত্র জনগণ কখন দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবে না।

এর জন্য চাই জনগণ এবং সরকারের এক সম্মিলিত প্রচেষ্টা‌ যা পারে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে। এখানে আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে এক মূল মন্ত্রে আবদ্ধ হতে হবে যে আমরা নিজেরাও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকব  এবং অন্যকেও দুর্নীতি করতে বিরত রাখব। তাই অবিলম্বে সরকারকে এই সব দুর্নীতি প্রতিরোধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সেটা কড়া ভাবে কায়েম রাখতে হবে।

দুস্থ মানুষদের অন্ন বস্ত্র পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে তবেই সকল মানুষ সৎ উপায়ে উপার্জনের রাস্তা বেছে নেবে। প্রতি মানুষের অভাব তথা গরীবত্ব যত শীঘ্র সম্ভব দূর করতে হবে তবেই চুরি, ডাকাতি এসব দুর্নীতি কমবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা:

দুর্নীতির এই কূট থাবা থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের অবশ্যই সকলকে সচেতন হতে হবে। একদিকে যেমন আমরা দুর্নীতির সাথে যুক্ত হবো না। ঠিক তেমনি অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে দেখলে তাতে বাধা প্রদান করব।

কোনো একটি দেশের সরকার চাইলে এবং সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে তবে অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করা সম্ভব। কারণ এক দেশের সকল শক্তির মূলে রয়েছে দেশের সরকার। তাই  যদি এখন প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব না হয় তাহলে কোন ভাবে ডিজিটাল দেশ গড়া সম্ভব হবে না।

উপসংহার:

দুর্নীতি আমাদের সমগ্র দেশকে যেভাবে গ্রাস করছে যদি দ্রুত এটির  বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে দেশ অবনতির দিকে অগ্রসর হবে। তাই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য মানুষকে দুর্নীতির ক্ষতিকর দিকগুলো জানান এবং দেশের তরুণ সমাজকে সচেতন করতে হবে ।

তাদের সর্বদা দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করতে হবে। তবেই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে আমাদের পক্ষে এবং সত্যিই পরে আমরা আমাদের দেশকে সোনার দেশে পরিণত করতে পারব ।


দুর্নীতি ও তার প্রতিকার রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content