দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

তোমার দেখা একটি মেলার অভিজ্ঞতা বা তোমার দেখা একটি মেলার বিবরণ রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু pdf সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান রকমের মেলার আয়োজন হয়ে থাকে।মেলা দেখতে যেতে আমাদের সকলেরই খুব ভালো লাগে।মেলার উপলক্ষ ও অঞ্চল বিশেষে প্রতিটি মেলার একটি নিজস্ব রূপ থাকে।আজকের রচনার বিষয় তোমার দেখা একটি মেলার অভিজ্ঞতা বা তোমার দেখা একটি মেলার বিবরণ।

তোমার দেখা একটি মেলার অভিজ্ঞতা বৈশিষ্ট্য চিত্র

 ভূমিকা:

আমাদের গ্রামটির নাম পাটুলী। এটি পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমা বিভাগের পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম। আক্ষরিক দিক থেকে মেলা কথাটির অর্থ ‘মিলন’। বিশেষত গ্রাম বাংলার মানুষেরা বছরের শেষ অথবা প্রথম দিনে বা একটি বিশেষ দিনে একটি উৎসবের জন্য একত্রে মিলিত হয় সেটাই হলো মেলা।

গ্রামবাংলার মানুষের ধূসর নিরানন্দ জীবনে খুশির আমেজ নিয়ে আসে এই মেলা। আমাদের পাটুলি গ্রামের একটি মেলা হল উত্তরায়নের মেলা। মেলাটি হয় ১লা মাঘ। এই সময় মৌসুমী বায়ু উত্তরদিক থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়, সেই জন্য এই মেলার নাম হয়েছে উত্তরায়নের মেলা। 

মেলায় কীভাবে গেলাম:

এই মেলাটি হয় পাটুলী বয়েজ স্কুলের মাঠে। আমাদের বাড়ি থেকে মেলাটির স্থানে হেঁটে যেতে প্রায় কুড়ি মিনিট সময় লাগে। আমরা পরিবারের চারজন মিলে যাই ওই মেলাটি দেখতে। বাবা-মা, আমি এবং ভাই এই চারজন একসাথে যাই মেলার আনন্দ উপভোগ করতে।

বাড়ির সামনেই আমাদের মাটির রাস্তা। তারপর মাটির রাস্তা পার হয়ে পাকা রাস্তায় উঠলাম। পাকা রাস্তা ধরে চলতে শুরু করি। পাকা রাস্তার দুপাশে আছে গ্রামের গাছপালা, কোথাও আছে টিউবওয়েল কল, কোথাও বা আছে ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি। সব গুলো পেরিয়ে আমরা মেলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাই।

পথে অনেক চেনা মুখের মানুষের সাথে দেখা হয়। কেউবা মেলা থেকে কিনেছে ঝুড়ি, কেউ ঘর সাজানোর জিনিস, কেউ খাবার জিনিস কিনে খেতে খেতেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চা ছেলেগুলো তাদের বাবা-মায়ের সাইকেল চেপে হাতে ঘুরুন নিয়ে বাড়ি ফিরছে, বাচ্চা মেয়েরা হাতে পড়েছে লাল রঙের কাঁচের চুড়ি।

সবাই হাসিমুখে তাদের বাড়িতে ফিরছে। এইভাবে রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে দূর থেকে হাওয়ায় ভেসে এলো একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গান “তোমার খোলা হাওয়ায়”। তখনই বুঝতে পারলাম এই গানটি মেলায় বাজছে। পাটুলি গার্লস স্কুল পেরিয়ে নতুনপাড়া ভেতরের  কাঁচা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে পৌছালাম মেলার প্রাঙ্গণে। 

মেলার বর্ণনা:

পাটুলির এই উত্তরায়নের মেলায় গ্রামীণ জীবনের রূপবৈচিত্র্য সুন্দরভাবে ফুটে উঠে। এই মেলায় নতুন নতুন পণ্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে। গ্রাম্যমেলায় পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের ব্যাপারটি প্রাধান্য পায় বলে একে বার্ষিক বাজার বলা যায়।

এই মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য সামগ্রী নিয়ে দোকানদাররা  মেলায় দোকান করার উদ্দেশ্যে আসেন। অনেকে মেলায় বিক্রি করার জন্য সারা বছর পণ্য তৈরি করে সঞ্চয় করে রাখেন। শুধু ব্যবসায়ীগণই নয়, উৎপাদক, চাষীরাও বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে মেলায় বিক্রি করার জন্য হাজির হয়।

মেলায় কোথাও মাটির জিনিস, কোথাও কাঠের জিনিস, কোথাও ঘুড়ি আবার কোথাও খাবারের দোকান বসে। মেলার বিশেষ একটি অংশজুড়ে নানা ধরণের কৃষিদ্রব্যের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। এই মেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব ধরণের মানুষের সমাগম ঘটে।

আর এসব মানুষের জন্য নানা রকমের খাবারের আয়োজন করা হয়। নানা রকম মিষ্টি খাদ্য প্রিয় মানুষদের কাছে লোভনীয় ব্যাপার হয়ে উঠে। ছোট ছেলেমেয়েদের মনোরঞ্জনের জন্য নানা রকম খেলনা, মাটির, কাঠের বা প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন রকম পণ্য সামগ্রী মেলায় আসে।

এসব উপকরণের বৈচিত্র্যের শেষ নেই। প্রকৃতপক্ষে মেলাকে শিশুদের আনন্দের জগৎ বললেও ভুল হবে না। তাদের মুখে বাঁশির শব্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও মেলায় আগত দর্শকদের জন্য নাগর দোলা, কবিগান, বাউল গানের ব্যবস্থা থাকে। 

দু-একটি অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি:

এই মেলাটি হয় একটি স্কুলের মাঠে । আর এই মাঠের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী। মেলাটা পয়লা মাঘ হয়। ওই সময় শীতের প্রবাহ কিছুটা কম হয়। আবার কথাই বলে ওই সময় গঙ্গা স্নান করলে নাকি পূর্ণ অর্জন হয়।

সেই জন্য দূর-দূরান্ত গ্রাম থেকে বহু মানুষ গাড়ি বা বাস ভাড়া করে এসে গঙ্গা স্নান করে, তারপর মেলা দেখে বিকালে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এইসব মানুষদের এত উৎসাহ ও তৃপ্তি দেখে আমার মনে খুব আনন্দ হয়। 

 মেলায় ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম একটা শিশু তার বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে মেলার ভিড়ে। বাচ্চাটি কাঁদতে কাঁদতে বলছে মার কাছে যাবো! বাবার কাছে যাবো! তখন আমি বাচ্চাটিকে নিয়ে মেলা পরিচালনার যে ভলেন্টিয়ার্সরা আছেন তাদের কাছে গেলাম। সেখানে বাচ্চাটি যে তার মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে সেই কথাটি মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর তার মা-বাবা ওই ঘোষণা শুনতে পেয়ে বাচ্চাটিকে ভলেন্টিয়ার্সদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। 

উপসংহার:

মেলাকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বলা হয়ে থাকে। মেলার ফলে এক গ্রামের মানুষের সাথে অন্য গ্রামের মানুষের সংস্কৃতির আদান-প্রদান ঘটে। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে এই গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। তাই এই বিষয়ে সরকারকে সচেষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। 


তোমার দেখা একটি মেলার অভিজ্ঞতা বা তোমার দেখা একটি মেলার বিবরণ প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content