দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

গ্রন্থাগার প্রবন্ধ রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম।পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা সিলেবাসের সমস্ত ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ রচনা ভাবসম্প্রসারণ সমস্ত কিছু PDF সহ পাওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।পরীক্ষায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত প্রবন্ধ রচনা তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।তাই এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনার নাম অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট পরিষেবার মাধ্যমে এক মুহূর্তেই আমরা আমাদের প্রয়োজনের সমস্ত বই খুব সহজেই পেয়ে যায়।আগামী দিনে গ্রন্থাগার গুলির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।সেই নিয়ে আজকের বিষয় গ্রন্থাগার প্রবন্ধ রচনা।

গ্রন্থাগার প্রবন্ধ রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

প্রাচীন যুগ থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানব জাতির ইতিহাস লুকিয়ে আছে গ্রন্থাগারে। সমস্ত রকমের জ্ঞান সংরক্ষিত রয়েছে গ্রন্থের ভিতরে। সীমাহীন জ্ঞানের আঁধার হলো গ্রন্থ, আর গ্রন্থের আবাসস্থল গ্রন্থাগার। আর এই গ্রন্থাগারে থাকে মানুষের চিন্তা ভাবনা। সেটি‌ পুঁথির লেখায় মানুষকে চিরজীবী করে রাখে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ” মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যেন সে ঘুমন্ত শিশুটির মতো চুপ‌‌ করিয়া থাকিত। তবে সেই নীরব মাহশব্দের সহিত এই কারাগারের তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে।”

প্রাচীন শিলালিপি থেকে আধুনিক লিপির গ্রন্থিক স্থান হলো গ্রন্থাগার। একটি গ্রন্থাগার মানব জীবনকে পাল্টে দেয়। গ্রন্থাগার হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ আত্মীয় যার সাথে সবসময় ভালো সম্পর্ক স্থাপিত থাকে। আর জ্ঞানচর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার এক আলাদা ভূমিকা পালন করে।

গ্রন্থাগারের ইতিহাস:

বাংলা ভাষায় গ্রন্থাগার শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ করলে ‘গ্রন্থ+আগার’ পাওয়া যায় তার অর্থ হলো গ্রন্থ সজ্জিত পাঠ করার আগার বা স্থান। বর্তমান সময়ে পৃথিবীকে জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করেছে যে গ্রন্থাগার তা প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।

সভ্যতার ক্রমশ অগ্রসর হওয়ার পথে মানুষ তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করতে শুরু করল। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া, ইরাকের বাগদাদ, দামেস্ক, প্রাচীন গ্রিস ও রোমে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের নিদর্শন পাওয়া যায়। এছাড়া অন্যান্য সব উপমহাদেশের তক্ষশীলা ও বিশ্ব বিখ্যাত নালন্দায় সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছিল।

আব্বাসীয় ও উমাইয়ার শাসনকালে ‘দারুল হকিমা’ নামক গ্রন্থাগার সমগ্র ইউরোপকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। সমকালীন মিশরের ‘বাইতুল হিকমা’ও সেই সময়ে অনুরূপ ভূমিকা পালন করেছে। যুগ যুগ ধরে গ্রন্থাগারগুলো গড়ে উঠেছিল রাজদরবার ও ধর্মীয় উপাসনালয়কে ঘিরে।

গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা:

দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান। প্রতিটা সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার তেমনি তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

গ্রন্থাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী গ্রন্থ সরবরাহ করে থাকে। আর তাই সচেতন মানুষ সর্বদাই গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সাহিত্য-শিল্প, বিজ্ঞান, ইতিহাস সংস্কৃতি সহ সব ধরণের জ্ঞানের উৎস হতে পারে গ্রন্থাগার।

এটি একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদন্ড। বই পড়ার যে অভ্যাস তা গড়ে তোলা ছাড়া জাতীয় চেতনার জাগরণ সম্ভব নয়। আর তাই জীবনে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পৃথিবীর বহুদেশ পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে তুলেছে অগণিত গ্রন্থাগার।

শিক্ষার আলো বঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষার বাতিঘর বলা হয় গ্রন্থাগারকে। গ্রন্থাগার ছাড়া কোনো দেশেরই সমাজ বা রাষ্ট্র তার নাগরিককে পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।

বর্তমান গ্রন্থাগার:

গ্রন্থাগার বা প্রকৃত অর্থে পাঠাগার হলো বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রির একটি সংগ্রহশালা যেখানে পাঠক গ্রন্থপাঠ, গবেষণা ও তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন। সভ্যতার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানুষ ধন-সম্পদের পাশাপাশি গ্রন্থ সংগ্রহের মতো কাজ করে আসছে।

মানুষের এই মহান উদ্যোগের কারণে পৃথিবীর নানা প্রান্তে গড়ে উঠেছে উন্নতসব গ্রন্থাগার। বিখ্যাত গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে প্রথমেই আসে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিখ্যাত গ্রন্থাগার ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে’র নাম। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ বইয়ের এক বিশাল সমাহার।

লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামও পৃথিবীর বিখ্যাত লাইব্রেরির মধ্যে অন্যতম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বডলিন লাইব্রেরি’তে রয়েছে ১ কোটিরও বেশি গ্রন্থ। এছাড়া পৃথিবীর প্রাচীনতম লাইব্রেরির মধ্যে রয়েছে ‘ভ্যাটিকান লাইব্রেরি’।

এ ছাড়াও ফ্রান্সের বিবলিওথিক লাইব্রেরি, মস্কোর লেনিন লাইব্রেরি ও কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি উল্লেখযোগ্য। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিও পৃথিবীর বহু প্রাচীন লাইব্রেরির মধ্যে অন্যতম যা এক সময়ে পৃথিবীর সপ্তাচার্যের মধ্যেও ছিল।

গ্রন্থাগারের ভবিষ্যত:

জ্ঞানের আঁধার হলো গ্রন্থ আর গ্রন্থের আবাসস্থল হলো গ্রন্থাগার। পৃথিবীর যতো মহান মনীষী আছেন তাদের সবাই জীবনের একটা বড় সময় গ্রন্থাগারে কাটিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে মানুষরা জ্ঞান অর্জন করতে আর গ্রন্থাগারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়। ইন্টারনেট পরিষেবা আজ মানুষকে যে কোনো মুহূর্তে জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করে।

উপসংহার:

জীবনে পরিপূর্ণতার জন্য জ্ঞানের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। জ্ঞান তৃষ্ণা নিবারণ করতে প্রতি মুহুর্তে সঙ্গ দেয় গ্রন্থাগার। একটি সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। মনকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে গ্রন্থাগারের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামেও গ্রন্থাগার গড়ে তোলা অত্যন্ত আবশ্যক।


গ্রন্থাগার প্রবন্ধ রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।আপনার একটি কমেন্ট আমাদের অনেক উৎসাহিত করে আরও ভালো ভালো লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় জন্য।বানান ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিন।সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content