Gach-Amader-Bondhu-Rachana-photo

গাছ আমাদের বন্ধু রচনা (Gach Amader Bondhu Rachana with PDF)

আবার এক নতুন রচনা নিয়ে আমি রাকেশ চলে এসেছি , আজ্কের রচনার নাম Gach Amader Bondhu Rachana, চল তবে শুরু করা যাক| আশা রাখ্ছি সবার ভালো লাগবে|

অনুসরণে লেখা যায় :
১)
গাছ আমার বন্ধু

ভূমিকা:

একমাত্র গাছ-ই হলো আমাদের অকৃত্তিম বন্ধু। জন্মের পর থেকেই এই বন্ধুত্ব, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই বন্ধুর সাহায্য নিয়েই আমাদের জীবনের পথ চলা। গাছপালা ছাড়া জীবন অচল। আমাদের সবার পরমবন্ধু গাছ আমাদের দিয়েছে ক্ষুন্নবৃত্তি নিবারণের ফলমূল, বসনের বল্কল, অলংকরণের পুষ্প ভান্ডার,যজ্ঞের সমিধ পরবর্তী কালে বাসগৃহের উপাদান কাঠ – লতা -পাতা, আসবাবপত্রের প্রয়োজনীয় কাঠ।এই সমস্ত কিছুর উর্ধে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প হয় না।তাই গাছ আমাদের বন্ধু এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

গাছের অবদান:

গাছের অবদান নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে লেখা সহজ ব্যাপার নয়।

আমাদের প্রত্যেক নিশ্বাসে রয়েছে গাছের অবদান। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আমরা পেয়ে থাকি আমাদের পরম বন্ধু গাছ থেকে। গাছপালা না থাকলে অক্সিজেন একসময় শেষ হয়ে যেত আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তাম। কাজেই এই বন্ধুর সাহায্য ছাড়া আমরা অচল।গাছ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা রকম খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে থাকে।নানা রকম ফলমূল যেমন আম,জাম, আপেল,কলা, লেবু, পেয়ারা,ইত্যাদি আমরা গাছ থেকে পাই। প্রতিদিনের রান্নার মশলা শাক সবজি সবকিছুতেই গাছের অবদান অপরসীম।চা কফি ইত্যাদি পানীয় থেকে খেজুর রস ,ডাবের জল সবই গাছের অবদান।

গাছ আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে।গাছ থেকে প্রাপ্ত কাঠ হলো আমাদের ভীষণ প্রয়োজনীয় বনজ সম্পদ।গাছ থেকে প্রাপ্ত কাঠ দরজা জানালা আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দেশলাই কাঠি তৈরী করতে কাজে লাগে। শাল গাছ থেকে ধুনো,পাট থেকে দড়ি সব কিছুর সাথেই জড়িয়ে রয়েছে আমাদের পরমবন্ধু গাছ।রোগ নিরাময়ে ভেষজ উদ্ভিদ গুলির অবদান এড়িয়ে যাওয়া যায় না।গাছ থেকে প্রাপ্ত ফুল আমাদের উৎসব গুলোকে রঙিন করে তোলে। এসমস্ত কিছু ছাড়াও গাছ আমাদের পরিবেশ রক্ষায় এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।আমাদের জেনে না জেনে করা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গাছ সর্ব্বোচ ভূমিকা পালন করে।

বন্ধুত্ব পালনে আমাদের দায়িত্ব:

একটি গাছ, একটি প্রাণ_ হয়তো তারও বেশি।

গাছ থেকে আমরা যেভাবে উপকৃত হই তাতে গাছের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব রক্ষায় আমাদেরও বেশ কিছু দায়িত্ব থাকে। বর্তমানে মানবসভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে আমরা গাছের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট করছি।নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রচুর গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।পুরাকালে পৃথিবীর স্থল ভাগের শতকরা ৫০ ভাগ ছিল বৃক্ষে ভরা।লোক বসতির বিস্তার ও কৃষি – শিল্প এর প্রসারের ফলে অরণ্য উচ্ছেদের কাজে কোমর বেঁধে কুঠার ধরলো মানুষ।হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত ভূখণ্ডের বনস্পতির দল প্রাণ দিল মানুষের হাতে।শেষ পর্যন্ত যে অরণ্য পরিত্রাণ রক্ষা পেয়েছে তার পরিমাণ পৃথিবীর মোট স্থল ভাগের শতকরা মাত্র ২৭ ভাগ।

যে বিশাল ক্ষতি আমরা করেছি তা পূরণের দায় আমাদের তাই আমাদের সকলের গাছ লাগানো এবং গাছের যত্ন নেওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় ভাবে মাত্রাতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে, বৃক্ষ রোপন ও অরন্য সংরক্ষণে আমাদের সকলের দায়িত্বশীল হতে হবে। আর এভাবেই আজীবন গাছের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকার সংস্থা বা কোনো ব্যক্তি বিশেষের নয়, তা আমাদের সকলের।

গাছ ছাড়া আধুনিক সভ্যতার সংকট:

একদিন শুরু হয়ে ছিল প্রকৃতিকে জয় করার সাধনা।মানুষ সেই সংঘামে অনেকাংশেই জয়ী।নদীকে বাঁধ দিয়ে বেঁধেছে। পাহাড় কেটে পথ প্রশস্ত করেছে, সমুদ্রকে বেঁধেছে সেতু বন্ধনে। উচ্ছেদ করেছে একের পর এক অরণ্যকে। বিস্তৃত করেছে কলকারখানা,জনপদ, কৃষিক্ষেত্রকে।কিন্তু বিজয়ী মানুষ সভ্যতার শীর্ষ লগ্নে দাঁড়িয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা শুনতে পেয়েছে। তাঁরা বলেছেন এক ভয়ংকর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা।সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্যে স্থলভূমির এক তৃতীয়াংশ বনভূমি থাকা দরকার।

উপসংহার:

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন পরিবেশ রক্ষার প্রাথমিক শর্ত হল অরণ্যের বিস্তার।
নগরজীবনের দূষিত পরিবেশ মানুষকে আজ ভীষণভাবে মনে করিয়ে দেয় আরন্যক সভ্যতার উদার প্রশান্ত জীবনের কথা।কিন্তু নগরের এই যান্ত্রিক জীবন বর্জন করে অরণ্যে ফিরে যাওয়া আজ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই অরণ্যের পূণ্যচ্ছায়া ফিরে পাওয়া সম্ভব।বাড়ির আঙিনায়, আশপাশের রাস্তার ধারে, পার্কে,শহরের উপকণ্ঠে আমরা যদি বৃক্ষরোপণ করি, তাহলে আমাদের পরম বন্ধু গাছ আমাদের দেবে প্রানদ বায়ু, পরমা শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি।


আশা রাখ্ছি তোমাদের ভাল লেগেছে, এরকম আর রচনা পেতে Follow কর BanglaRachana.Com, আর তোমাদের মতামত Comment Section a জানিও|

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব

উল্লেখ: বৃক্ষ – উইকিপিডিয়া

Print Friendly, PDF & Email
লেখক পরিচিতি

Rakesh Routh

Facebook

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

এই লেখকের কাছ থেকে আরও পড়ুন

Post টি Share করতে ভুলবেন না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।