দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

একটি নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা [সঙ্গে PDF]

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

 বর্তমান যুগে সাধারণ নৌকা চড়ে যাতায়াত শৌখিনতার সামিল মাত্র। তবুও আজও আমাদের নতুন প্রজন্মের মানুষের কাছে মাঝির হাতে দাঁড় বেয়ে নদীর বুকে বয়ে চলা নৌকা এক অপার রহস্য রোমাঞ্চের হাতছানি দেয়। অতি সম্প্রতি আমার এমনই এক নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের উপস্থাপন একটি নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা

নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

সভ্যতার আদিতে মানুষ জীবনধারণের জন্য যত প্রকারের যানবাহন ব্যবহার করত তার মধ্যে অন্যতম ছিল নানা প্রকারের জলযান। নদীপথ ছিল সভ্যতার সূচনা লগ্নে যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য মানুষের প্রধানতম অবলম্বন। আর এই জলযান বলতে সবার প্রথম মাথায় আসে নৌকার কথা। কালের বিবর্তনে সভ্যতার চরিত্র পাল্টেছে, বদলে গেছে যানবাহনও। যাতায়াতের জন্য নৌকার গুরুত্ব ক্রমশ কমে গিয়েছে।

বর্তমান যুগে সাধারণ নৌকা চড়ে যাতায়াত শৌখিনতার সামিল মাত্র। তবুও আজও আমাদের নতুন প্রজন্মের মানুষের কাছে মাঝির হাতে দাঁড় বেয়ে নদীর বুকে বয়ে চলা নৌকা এক অপার রহস্য রোমাঞ্চের হাতছানি দেয়। অতি সম্প্রতি আমার এমনই একটি নৌকায় চড়ে ভ্রমণের সুযোগ ঘটেছিল। নদীর বুকে নৌকা চলে ভেসে বেড়ানো সেই মায়াবী বিকেলের কথা এই প্রতিবেদনে ব্যক্ত করব।

ভ্রমণ পরিকল্পনা:

ইতিপূর্বে আমার কখনো দাঁড় বাওয়া ডিঙি নৌকায় চড়ার সুযোগ ঘটে নি। মামার বাড়ি যাওয়ার সময় নদী পারাপার অনিবার্য হওয়ার কারণে মোটর চালিত ভুটভুটি চড়া অব্দিই আমার দৌড়। তবে ছোটবেলা থেকে বরাবরই গল্পের বইয়ের পাতায় ডিঙ্গি নৌকায় চড়ার বর্ণনা আমায় রোমাঞ্চিত করত। কল্পনার সেই রোমাঞ্চ থেকেই আমার নৌকায় চড়ার ইচ্ছার জন্ম।

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

এই বছর শীতকালে একবার বাবা ঠিক করলেন আমরা সপরিবারে কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে বেড়াতে যাব। কলকাতায় বেশ কয়েকবার গেলেও ওই দিকটা আমার দেখা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট দিনে সপরিবারে সকাল সকাল বেরিয়েদেখে আমরা রওনা হলাম প্রিন্সেপ ঘাটের দিকে। প্রিন্সেপ ঘাটে গিয়ে হুগলি নদীর পাড়েবেলা বসে বাড়ি থেকে আনা খাবার-দাবার দিয়ে দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। খাওয়া-দাওয়ার পরপরই বাবা আমাদের কাছে নৌকা চড়ার প্রস্তাব করলেন। 

প্রথমবার নৌকা চড়ার আতঙ্ক:

ছেলেবেলার সেই রোমাঞ্চ ভরা স্বপ্ন হঠাৎ সত্যি হয়ে যাবার আকাঙ্ক্ষায় আমার মন আনন্দে নেচে উঠলো। বাবার প্রস্তাবে তৎক্ষণাৎ সায় দিয়ে আমি আর আমার বোন নৌকা চড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে রইলাম। মা একটু আপত্তি করলেও সে আপত্তি ধোপে টিকল না। তবে প্রথমবার নৌকা চড়ার স্বপ্ন পূর্ণ হবার আকাঙ্ক্ষায় আনন্দ যেমন হচ্ছিল, তেমনই মনে বেশ ভয়েরও সঞ্চার হয়েছিল।

তার কারণ, প্রথমত ইতিপূর্বে আমার নৌকা চড়ার কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা। আর দ্বিতীয়তঃ, আমি বা আমার বোন কেউই সাঁতার জানতাম না। সে কারণে প্রস্তাবে সায় দিয়েও খালি ভয় হতে লাগল যদি আমরা হঠাৎ ডুবে যাই। তবে বাবা সেই ভয় দূর করে বললেন তেমন কোনো চিন্তা নেই। অবশেষে একটি নৌকা ডেকে আমরা ভেসে পড়লাম নদীর বুকে। তবে নৌকার পাটাতনে প্রথমবার পা দেওয়ার সাথে সাথে যখন নৌকায় সামান্য দোলা লাগলো, আমার বুকটা আবার ভয়ে দুরু দুরু করে উঠলো।

নদীবক্ষে অলস বিকেল:

তবে যত ভয়ই লাগুক না কেন, নৌকায় চড়ে নদীর বুকে ভেসে পড়ার পরই মন থেকে সকল ভয় দূর হয়ে, এক অদ্ভুত মধুর আবেশে মনটা ভরে গেল। এ যেন এক অন্য কলকাতা। নদীপথে নৌকায় চড়ে শহরের চেনা ব্যস্ততার ছক থেকে বেরিয়ে কয়েক মুহূর্ত যাপন করেনি, তারা কেউ এই কলকাতাকে চেনে না।

নদীর বুক থেকে নৌকায় চড়ে আমার চোখে কলকাতা সত্যই হয়ে উঠলো তিলোত্তমা। যখন আমরা নৌকায় চড়লাম, যখন সূর্য মধ্যগগন থেকে প্রায় পশ্চিমে হেলে পড়েছে। আমি আর বোন নৌকার পাটাতনের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে বিকেলের রৌদ্রতাপহীন আকাশ মগ্ন হয়ে দেখতে থাকলাম।

দেখলাম পাখিরা দিনের কাজ সেরে দলবেঁধে কিচিরমিচির করতে করতে উঠে যাচ্ছে নিজের বাসায়। দেখলাম অনতিদূরে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু। তার উপর দিয়ে মুহুর্মুহু চলে যাচ্ছে কত শত গাড়িঘোড়া। নৌকায় শুয়ে চারপাশের পরিবেশ প্রাণ দিয়ে অনুভব করতে করতে মনে হল এমন বিকেল যেন ইতিপূর্বে আর কখনো আসেনি।

সূর্যাস্ত:

এমন এক মোহময়ী বিকেলের মাধুর্য প্রাণভরে উপভোগ করতে করতে সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ল। আমি আর বোন তখনও নৌকার পাটাতন ওর ওপর শুয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছি। আকাশের গায়ে তখন লেগেছে রঙের আবির, চলছে গোধূলি কালের রঙের খেলা। কোথাও লাল, আবার কোথাও বা কমলা রঙে মায়াবী আকাশ আরো বেশি মায়াবিনী হয়ে উঠেছে।

এমন সময় শুনতে পেলাম মা গেয়ে উঠেছেন রবীন্দ্র সংগীত- “আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে।” বহুকাল বাদে মায়ের কন্ঠে এমন উদার সুরে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে পেলাম। দাঁড় বেয়ে ভেসে চলা ডিঙি নৌকায় চড়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে দেখতে মায়ের গলায় এমন রবীন্দ্র সংগীত মনকে আবিষ্ট করে দিল।

উপসংহার:

সেদিন সূর্যাস্তের শেষে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামলে আমরা আবার ফিরে এসেছিলাম খেয়া ঘাটে। নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতার এখানে ইতি হলেও সেদিনের যে অনুভুতি আমার মন-প্রাণকে দোলা দিয়ে গিয়েছিল, তার স্মৃতিতে এখনো এতটুকুও ইতি আসেনি।

সারা জীবন সেই প্রথম নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার স্মৃতির পাতায় অক্ষুন্ন হয়ে থাকবে। আবার হয়তো কখনো বাবা মায়ের সাথে নৌকা চড়ার অমোঘ আকর্ষণে ছুটে যাব অন্য কোন নদীর বুকে, অন্য কোন বিকেলে অন্য কোন আকাশে সূর্যাস্তের সাক্ষী হতে।


একটি নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনাটি পড়ে আপনার কেমন লাগলো কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানান। আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি সবার থেকে সুন্দর ও আপনার মনের মতো করে একটি রচনা তুলে ধরার। এখানে নেই এমন রচনা পাওয়ার জন্য রচনাটির নাম আমাদের কমেন্ট করে জানান। দ্রুততার সঙ্গে আমরা উক্ত রচনাটি যুক্ত করার চেষ্টা করবো। সম্পূর্ণ রচনাটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

রাকেশ রাউত

রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট