দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

একটি ছুটির দিনের অভিজ্ঞতা রচনা [সঙ্গে PDF]

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

একটি ছুটির দিন আমাদের সকলের কাছে পরম কাঙ্ক্ষিত বিষয়। একঘেয়ে জীবনে কাজের ফাঁকে এমন একটি ছুটির দিন কে না চায়! ছুটির দিনে আমরা সেইসব কাজ করি যা সাধারন দিনগুলিতে করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এমনই একটি ছুটির দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের আজকের এই প্রবন্ধের উপস্থাপনা।

একটি ছুটির দিনের অভিজ্ঞতা রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

আমরা যারা স্কুলে পড়ি তাদের কাছে একটি ছুটির দিন মানে অনেকখানি প্রাপ্তি। তার অর্থ এই নয় যে স্কুলে যেতে আমরা পছন্দ করি না। নিজের ক্ষেত্রে অন্তত আমি বলতে পারি স্কুল আমার সবচেয়ে ভালো লাগার একটি জায়গা। কিন্তু তবুও ছুটি পেতে কার না ভালো লাগে। তবে ছুটি তো আর এমনি এমনি পাওয়া যায় না। আর সহজলভ্য নয় বলেই একটি ছুটির দিন এত কাঙ্খিত।

বহুদিনের অপেক্ষার পর যখন এমনই একটি দিন আমাদের কাছে ধরা দেয় তখন সেই দিনটি আমাদের স্মৃতিপটে পরবর্তী অনেকদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকে। অতি সম্প্রতি আমার এমনই একটি ছুটির দিন কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। সেই ছুটির দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবার উদ্দেশ্যেই এই প্রবন্ধের উপস্থাপনা।

ছুটির দিনের সকাল:

আমার কাছে ছুটির দিনে সকাল হয় অন্যরকমভাবে। এইসকল দিনগুলোর সকালের মধ্যে কোন তাড়াহুড়ো থাকেনা, থাকেনা মায়ের স্কুলে যাওয়ার জন্য তাড়া দেওয়া। এমনকি আমার কাছে ছুটির দিনের সকালে জানালা দিয়ে বিছানায় এসে পড়া রোদটুকুও অন্যদিনের তুলনায় আলাদা, যেন অনেক বেশি স্নিগ্ধ আর সুন্দর। অন্যান্য ছুটির দিনের মতন এই দিনও আমার বিছানা ছেড়ে সকাল বেলা উঠতে ইচ্ছে করছিল না। অভ্যাসবশত ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল ভোর বেলায়। কিন্তু তবুও ঘুম থেকে উঠে খোলা জানালা দিয়ে বাইরের প্রকৃতির দিকে অলস ভাবে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ।

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

তারপর মায়ের বকা খেয়ে বিছানা থেকে নেমে মুখ হাত ধুয়ে সকালের খাবার খেয়ে খানিকক্ষণ পড়াশোনা করলাম। পড়াশোনা করে উঠে সকাল-সকাল স্নান সেরে ছুটির দিনটিকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার নিমিত্ত বসলাম গল্পের বই নিয়ে। তারপর কখন জানিনা বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়ে শংকর এবং আলভারেজের সঙ্গে আফ্রিকার অরণ্যে হারিয়ে যেতে যেতে দুপুর হয়ে গেছে।

একটি অলস দুপুর:

এই দিন আমাদের স্কুল ছুটি ছিল গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে। ফলে আমার সাথে বাবারও এইদিন অফিস ছুটি। আর বাবা এবং আমি একসাথে বাড়ি থাকলেই দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়ার পর আমরা দুজন নানা বিষয় নিয়ে গল্প করে থাকি। এই দিনও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। অনেকদিন পর দুপুরবেলা বাড়ির সবার সঙ্গে একসাথে বসে মায়ের হাতের রান্না যেনো এইদিন অমৃত স্বরূপ মনে হয়েছিল। খেয়েদেয়ে ওঠার পর শীতের দুপুরে ছাদে রোদ পোহাতে বসে আমার আর বাবার গল্প শুরু হলো।

কখনো আমি বলছিলাম স্কুলে আমার বন্ধু আর শিক্ষকদের গল্প, আবার কখনো বাবা বলছিলেন তার স্কুল জীবনে বন্ধুদের সাথে পিকনিকে গিয়ে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী। মা ছাদের উপরেই খানিক দূরে বসে আমাদের গল্প শুনছেন, আর আপন-মনে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে রুমালের উপর নকশা করছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলবেলা:

কোন ছুটির দিনেই দুপুরবেলা ঘুমানোর অভ্যাস আমার নেই। বরং ছুটির দিনগুলিতে যতটা সম্ভব বেশি আনন্দ করতেই আমি ভালোবাসি। সেই দিন দুপুর গড়িয়ে যখন প্রায় বিকেল, তখন ছাদ থেকে ঘরে এসে আমি বন্ধুদের সঙ্গে গঙ্গার ঘাটের দিকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম। আগে থেকেই আমার তিন বন্ধুকে নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে আসতে বলা ছিল। ওরা আসবার পর আমরা চারজনে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

গঙ্গার ঘাট আমাদের বাড়ি থেকে একেবারেই কাছে। প্রতিটি ছুটির দিনের বিকেলেই আমি আমার বন্ধুদের সাথে এই ঘাটে আসি। সেই দিন বিকেল বেলা সেই ঘাটে বসে আমরা চার বন্ধু চুপচাপ পড়ন্ত বিকেলের আলোয় গঙ্গার বুকে নৌকোর আনাগোনা দেখতে লাগলাম। দূর থেকে শুনতে পেলাম কারখানার ভোঁ বাজছে। গঙ্গার ওপারে মেঘের গায়ে চোখে পড়ল ইট ভাটার ধোয়া। হঠাৎ অস্তমিত সূর্যের গায়ে রক্তিম আকাশে দেখলাম পাখিরা দলবেঁধে ফিরে যাচ্ছে নিজেদের বাসার দিকে।

কেনাকাটার আনন্দ:

সন্ধ্যে হলে আমি আবার বাড়ি ফিরে এলাম। বাড়ি ফেরার পর বাবা বললেন আজ পরিবারের সবাই মিলে দলবেঁধে আমরা কেনাকাটা করতে যাবো। এই কথা শুনেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। খানিকক্ষণ পর তৈরি হয়ে আমরা সবাই মিলে গাড়ি করে একসাথে কেনাকাটা করতে গেলাম।

বাজার থেকে মা কত কিছু কিনলেন; কিছু সুন্দর সুন্দর বাসনপত্র, ঠাকুরের ধূপদানি, একখানি মাদুর। বাবা আমায় কিনে দিলেন একটি সুন্দর পাঞ্জাবি আর জুতো। আমার কেনাকাটা করতে আসা মানেই আমি বাবার থেকে একটি গল্পের বই অন্তত আদায় করে নেব। এই দিন বাবা নিজেই আমায় গল্পের বইয়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ বইটি কিনে দিলেন। 

পরিবারের সঙ্গে একটি সন্ধ্যে:

আমার পরিবার খুব বড় না হলেও একেবারে ছোটও নয়। একান্নবর্তী পরিবারে একটি বাড়ির মধ্যে আমরা মোট নয়জন মানুষ থাকি। আমার নিজের কোন সহোদর ভাইবোন না থাকলেও  আমার জেঠুর দুই ছেলেমেয়ে কোন অংশেই আমার নিজের ভাই-বোনের থেকে কম নয়। সকলে মিলেই এদিন সন্ধ্যেবেলা আমরা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। কেনাকাটা শেষ হবার পর দেখতে পেলাম এই বাজারের অনতিদূরেই একটি মেলা হচ্ছে।

সেই মেলায় গিয়ে আমরা সকল ভাই বোন মিলে খুব আনন্দ করলাম। আমাদের পরিবারে সকলের চেয়ে ছোট হলাম আমি। তাই আমার দাদা-দিদিরা আমার অত্যন্ত স্নেহ করে ও আগলে রাখে। দাদা দিদিদের সাথে এই দিন ওই মেলাতে আমি বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটালাম, বাউল গান শুনলাম, আর বাবার দেওয়া হাতখরচ থেকে কিনে খেলাম জিলিপি। 

ছুটির দিনের ভুরিভোজ:

ভালো ভালো খাওয়া-দাওয়া ছাড়া একটি ছুটির দিন কখনো সম্পূর্ণ হতে পারে না। প্রতিটি ছুটির দিনে আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন হয়ে থাকে। মা এবং জেঠিমা মিলে আমাদের জন্য রান্না করেন। তবে এই ছুটির দিন কোন এক অনিবার্য কারণবশত আমাদের বাড়িতে তেমন কোন ভালো রান্নাবান্না হয়নি।

সে কারণে এই দিন কেনাকাটা করে মেলায় ঘুরাঘুরির পর বাবা আমাদের সকলকে নিয়ে গেলেন কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে গিয়ে আমরা মাংসের কাবাব, বিরিয়ানি, ফিরনি ইত্যাদি সহযোগে রাতের খাওয়াদাওয়া সারলাম। আমার দিদি আবার সবাইকে খাওয়া-দাওয়ার পর আইসক্রিম খাওয়ালো। এইভাবে একটি সুন্দর সন্ধ্যা পরিবারের সাথে কাটিয়ে আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

উপসংহার:

একটি ছুটির দিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়ে জীবনচর্যায় আমরা নিজেদের সাথে তথা নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পাইনা। জীবনে ছুটির দিনগুলি আমাদের কাছে এই সুযোগ এনে দেয়। হয়তো সে কারণেই ছুটির দিন এতই কাঙ্খিত।

ছুটির দিনে পরিবারের সাথে কাটানো সেই মুহূর্তগুলি আমাদের স্মৃতিপটে চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকে; ওই মুহূর্তগুলি দৃঢ়তর করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সাথে আমাদের বন্ধন। এই বন্ধনীর মধ্য দিয়েই একটি একান্নবর্তী পরিবার বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকে আমাদের মধ্যেকার নির্মল শাশ্বত মানবসত্ত্বা।


একটি ছুটির দিনে একজন সাধারণ ছাত্র যা যা করে তার মোটামুটি সবকটি দিক সম্বন্ধে উপরিউক্ত প্রবন্ধে আমরা আলোচনার চেষ্টা করেছি। প্রবন্ধটি রচনার ক্ষেত্রে জটিল রচনাধর্মী লেখনীর পরিবর্তে আমরা সাধারন সরল লেখনীর সাহায্য নিয়েছি। এছাড়া পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী উক্ত প্রবন্ধটিতে আমরা একটি সাধারণ শব্দসীমা বজায় রাখারও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। আশাকরি আমাদের এই প্রয়াস আপনাদের ভাল লেগেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা যথাযথভাবে আপনাদের সহায়তা করতে পারবে।

উপরিউক্ত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত কমেন্টের মাধ্যমে বিশদে আমাদের জানান। আপনাদের মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের মতামত অনুযায়ী আমাদের লেখনীকে আরও উন্নত করে তোলার। তাছাড়া যদি এমনই অন্য কোন রচনা পড়তে চান সে বিষয়েও আমাদের অবগত করুন। আমরা অতি সত্বর সেই রচনাটি আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

রাকেশ রাউত

রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট