দেখে নিন ইংরেজিতেও রচনা

একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা রচনা [সঙ্গে PDF]

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা অসংখ্য ঘটনাবলীর মধ্যে যুক্তি তারা সব সময় সকল ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়না। যেসব ঘটনাকে আমরা যুক্তি দ্বারা বিচার করতে পারিনা, সেগুলিকে সাধারণভাবে আমরা অলৌকিক বলে মনে করে থাকি। প্রতিটি মানুষের জীবনেই এমন কোনো না কোনো একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। অলৌকিক বিশ্বাস মানুষের মনে শ্রদ্ধা কিংবা ভয়ের উদ্রেক হয়তো করতে পারে কিন্তু তাতে মুক্তমনা সমাজ গড়ে ওঠা সম্ভব হয় না। এমনই একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আলোচনার উদ্দেশ্যেই আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনের উপস্থাপনা।

একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা রচনা বৈশিষ্ট্য চিত্র

ভূমিকা:

মানুষের জীবন বিভিন্ন প্রকার ঘটনা দ্বারা পরিপূর্ণ। ঘটনার ধারাবাহিকতা ছাড়া জীবনের প্রবাহমানতা উপলব্ধি করা যায় না। তবে আমাদের জীবনে যে সকল ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে সবকিছুরই যে কিছু না কিছু যুক্তি সম্মত ব্যাখ্যা রয়েছে এমনটা নয়। বড় জীবনে চলার পথে আমরা এমন অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি, সাধারন বুদ্ধিতে যেগুলির কোন যথাযথ ব্যাখ্যা হয় না।

আর আকস্মিক এইরকম ব্যাখ্যাহীন ঘটনাই মানুষের মধ্যে ভয়ের আবহ সৃষ্টি করে। তখন সেই প্রকার ঘটনাকে আমরা অলৌকিক ঘটনা বলে থাকি। বেশ কিছুদিন আগে আমার জীবনেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর যতক্ষণ অবধি আমি তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা উপলব্ধি না করেছিলাম, ততক্ষণ আমার মনে শিহরণ জাগানো ভয়ের রেশ বিরাজমান ছিল।

লৌকিক ও অলৌকিক:

আমার জীবনের এই অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা বলবার আগে সাধারণের বুদ্ধিতে লৌকিক এবং অলৌকিক আসলে কী সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রয়োজন। লৌকিক কথাটি এসেছে ‘লোক’ শব্দ থেকে। অর্থাৎ যা কিছু লোক বা মনুষ্য সমাজ সম্বন্ধীয় কিংবা পার্থিব তাইই হল লৌকিক। লৌকিক অভিজ্ঞতাকে আমরা জীবনের সাধারণ সামান্য অভিজ্ঞতা বলে মনে করে থাকি।

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত যেসব যুক্তিসংগত ঘটনা ঘটে সেগুলি হল লৌকিক ঘটনা। আর অন্যদিকে সহজ ভাষায় বলতে গেলে যা কিছু লৌকিক নয়, তাই হল অলৌকিক। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে লৌকিক অলৌকিকের সীমানা স্থির হয় যুক্তির গণ্ডি দ্বারা। এবং যুক্তির গণ্ডি প্রস্তুত হয় অর্জিত জ্ঞান দ্বারা। অতএব যা কিছুকে আমরা সাধারণভাবে অলৌকিক বলে মনে করি, তা প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট কার্যকারণ সম্বন্ধ সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞানতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।  

অলৌকিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারনা:

মানবজাতির মধ্যে অলৌকিকতা সম্বন্ধে ধারণার উদ্ভব অতি প্রাচীন কালে আদিম জীবন যাপনের কালে। সেই সময় পৃথিবীতে ঘটে যে সমস্ত ঘটনার অন্তরালে মানুষ সীমিত জ্ঞান দ্বারা নির্দিষ্ট কারণ বা যুক্তি খুঁজে পেত না সেগুলিকে তারা অলৌকিক বলে মনে করত। সে কারণেই এক সময় অবধি মানুষ বজ্রপাত, গ্রহণ, জোয়ার ভাটা ইত্যাদিকে অলৌকিক অভিজ্ঞতার তকমা দিয়েছিল।

নিয়মিত এই সকল যুক্তিহীন অলৌকিক অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করার ফলে সমাজে সময়ের সাথে সাথে গড়ে উঠেছিল নানা ধরনের কুসংস্কার। এইরকম বিভিন্ন প্রকার যুক্তিহীন অলৌকিকতা এবং কুসংস্কার সম্পর্কে ধারণা জন্মের অব্যবহিত পর থেকেই শিশুদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। আমিও তার ব্যাতিক্রম ছিলাম না। লৌকিকতা এবং অলৌকিকতার প্রগতিশীল সংজ্ঞা উপলব্ধির মতন বোধ আমার ছেলেবেলায় না থাকায় সমাজের সাধারণ অলৌকিকতার ধারণাকেই আমি সত্য বলে ধরে নিয়েছিলাম।

পটভূমি:

জীবনের সাধারণ পরিবেশে অলৌকিক অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে অনুভব করা যায় না। সাধারণ পরিবেশে ছক বাঁধা জীবনচর্যার মধ্যে ছোটখাটো অলৌকিক অভিজ্ঞতাকেও আমরা লৌকিক ছকে ফেলে দেই। সে কারণেই অলৌকিক অভিজ্ঞতার পূর্ণ অনুভবের জন্য প্রয়োজন একটি আদর্শ পটভূমির। কয়েক বছর আগে আমি গরমের ছুটিতে মা-বাবার সাথে গিয়েছিলাম আমাদের দেশের বাড়ি বর্ধমান জেলার একটি ছোট গ্রামে। গ্রামের বাড়িতে আমার ঠাকুরদা, ঠাকুমা, বড় জেঠু ও তার পরিবার এখনো বর্তমান। বর্ধমানের অজপাড়াগাঁয়ের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আমার জেঠুর পরিবার কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।

প্রথম দিন গ্রামে পৌঁছে আমি বাবা ও জেঠুর সাথে ধানক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পথে একটি বড় অশ্বত্থ গাছ এবং একটি পুরনো পচা ডোবা পেরিয়ে যেতে হয়। ওই গাছ ও ডোবার পাশ দিয়ে যাবার সময় আমার বড় জেঠুর ছেলে আমায় বলল এই জায়গায় সন্ধ্যের পর রাতের দিকে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটার কারণে এলাকায় কেউ রাতে এই স্থান দিয়ে যাওয়া-আসা করেন না। আমার কৌতুহলী শহুরে মন সেই মুহূর্তেই ওই স্থানের রহস্য জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলো।

অলৌকিক অভিজ্ঞতা:

ছেলেবেলা থেকেই আমি একটু ডানপিটে স্বভাবের। সেদিন রাতে একা একাই ওই ডোবা আর গাছের ধারে যাব বলে স্থির করে ফেললাম। তারপর রাতের বেলা খেয়ে উঠে মোটামুটি সবাই ঘুমিয়ে পরার পর একটা ছোট টর্চলাইট হাতে করে বেরিয়ে পড়লাম নির্দিষ্ট স্থানের উদ্দেশ্যে। খানিক দূর যাবার পরই বাঁদিকে মোড় নিলে পরে সেই অশ্বত্থ গাছ এবং তার পাশে ডোবা। সেই রাস্তা দিয়ে বাঁদিকে মোড় নিয়ে অশ্বত্থ গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালো মাত্রই সামনে যা দেখলাম তা দেখে মেরুদন্ড দিয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে গেল।

দেখতে পেলাম অনতিদূরে পচা ডোবার ওপর জ্বলছে একাধিক আগুনের মতন চোখ। তারা কখনও জ্বলছে, কখনো নিভে যাচ্ছে; কখনো কাছে এগিয়ে আসছে, আবার কখনো পিছিয়ে যাচ্ছে। আমার হাত পা এই দৃশ্য দেখে অবশ হয়ে গেছিল, এমন সময় না জানি কোথা থেকে বিভিন্ন কন্ঠে একটা চিৎকার শুনতে পেলাম। ভয়ে শিহরিত হয়ে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সেই স্থান থেকে হাতের টর্চ ফেলে দৌড়ে ফিরে এলাম বাড়িতে। 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

বাড়ি ফিরে আসার পর সবাই জেগে ওঠে আমায় একা রাতের বেলা ডোবার ধারে যাবার জন্য বকাবকি করলেন। সেই সময় চুপ করে ছিলেন শুধু বাবা। পরদিন সকাল বেলা বাবা আমায় ডেকে জিজ্ঞেস করলেন ডোবার ধারে আমি ঠিক কি দেখতে পেয়েছিলাম! আমি আমার অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে বলাতে তার কাছ থেকে জানতে পারলাম এটা আদৌ কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।

আমি আসলে যা দেখেছি তা হলো আলেয়া। বাবা বললেন গাছপালা পচনের ফলে যে মার্চ গ্যাসের সৃষ্টি হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম হল ফসফরাস ডাইহাইড্রাইট। এই গ্যাস গরমকালে বায়ুর সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। ফলে পচে যাওয়া গাছপালা ভরা সেই সকল জায়গায় অবস্থিত মিথেন কিংবা ফসফিনের মতন অন্যান্য গ্যাসগুলি একই সাথে নীল শিখায় জ্বলতে থাকে। আর বায়ু প্রবাহের ফলে সেই প্রজ্বলিত শিখাগুলিকে গতিশীল এবং চোখের মতন দেখায়।

পচা জলাভূমি কিংবা খোলা জায়গায় বিশেষ করে আর্দ্র গ্রীষ্মকালে আলেয়া দেখা যায়। এটা আদৌ কোনো ভৌতিক ব্যাপার নয়, বরং পদার্থ বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সম্বন্ধিত একটি ঘটনা। আর আমি যে চিৎকারটি শুনেছিলাম সেটি আসলে রাতচরা কোন পাখির ডাক ছাড়া আর কিছুই নয়। সেদিন রাতে বাবা আমায় নিজে নিয়ে গিয়ে চোখের সামনে আবার আলেয়া দেখিয়ে তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

উপসংহার:

সেই দিনের পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম অলৌকিক বলে প্রকৃতপক্ষে কিছু হয় না। যাকে আমরা অলৌকিক বলে মনে করি তা আসলে আমাদের যৌক্তিক জ্ঞানহীনতা। পৃথিবীতে সব কিছুরই কার্যকারণ সম্বন্ধ আছে। তাই আকস্মিক কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলে ভয় পাবার অর্থ অন্ধবিশ্বাসকেই প্রশ্রয় দেওয়া। সে কারণে যে কোন ঘটনাকে বিশ্বাস করে না নিয়ে যুক্তির কষ্টিপাথরে প্রথমে তাকে যাচাই করা প্রয়োজন। তবেই মুক্তচিন্তার আবহে অন্ধবিশ্বাস দূরীভূত হয়ে একটি সমাজ গড়ে উঠবে।


উপরিউক্ত প্রবন্ধটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সম্ভাব্য সবকটি দিক আমরা যথাযথ ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে অলৌকিক অভিজ্ঞতা সাথে সাথে সমাজে সেগুলির প্রভাব, মানুষের মূল্যবোধ এবং অলৌকিকতার কার্যকারণ সম্বন্ধ সম্পর্কেও যথাসম্ভব আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে। আশাকরি, পরীক্ষার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শব্দসীমার বন্ধনীতে আবদ্ধ আমাদের এই প্রয়াস আপনাদের ভাল লেগেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা যথাযথভাবে আপনাদের সহায়তা করতে পারবে।

উপরিউক্ত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত কমেন্টের মাধ্যমে বিশদে আমাদের জানান। আপনাদের মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের মতামত অনুযায়ী আমাদের লেখনীকে আরও উন্নত করে তোলার। তাছাড়া যদি এমনই অন্য কোন রচনা পড়তে চান সে বিষয়েও আমাদের অবগত করুন। আমরা অতি সত্বর সেই রচনাটি আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

 

বাংলা রচনা নিয়ে এসেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ই-বুক। একান্ত নির্ভরযোগ্য প্রবন্ধ রচনার উত্তরসহ সাজেশন। অতি সামান্য মূল্যে এই বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন

রাকেশ রাউত

রাকেশ রাউৎ বাংলা রচনা ব্লগের নির্বাহী সম্পাদক। ইনি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার। ইনি বাংলা রচনার সম্পাদকীয় দলকে লিড করেন। রাকেশ দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ বাংলা কনটেন্ট এডিটিং এর সাথে যুক্ত আছেন। ইনি বাংলা রচনা ছাড়াও নামকরণ এবং বাংলা জীবনীর মতো নামকরা সাইটের সম্পাদকীয় দলের একজন অন্যতম সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট