ইন্টারনেট রচনা [Internet Essay in Bengali with PDF]

অনলাইনে বাংলা প্রবন্ধ রচনার এক অন্যতম ঠিকানা banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগত জানাই। নিয়মিত নতুন নতুন প্রবন্ধ রচনা পাওয়ার জন্য আমাদের follow করুন। আজকের রচনার নাম – “ইন্টারনেট”।

ইন্টারনেট রচনা

ভূমিকা:

আধুনিক সভ্যতা ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার গণমাধ্যমে এনেছে এক অকল্পনীয় পরিবর্তন।এর ফলে আমরা পেয়েছি বেতার , টেলিভিশন ও পরবর্তীতে ইন্টারনেটের মতো সর্বাধুনিক গণমাধ্যম।পৃথিবী জুড়ে সমস্ত যোগাযোগ ব্যাবস্থার এক অন্যতম যুগান্তকারী মাধ্যম ইন্টারনেট।মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ইন্টারনেটের রহস্যময় যোগসূত্র পৃথিবীকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়।বর্তমানে ব্যাপকভাবে বহুমুখী কাজে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে।ইন্টারনেট পরিষেবা ছাড়া বর্তমান আধুনিক সভ্যতা একপ্রকার অচল।

ইন্টারনেট কী:

ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক (আন্তর্জাতিক জাল) শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ইন্টারনেট।এই 
ইন্টারনেট বলতে বোঝায় এমন এক নেটওয়ার্ক, যা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোবাইল,কম্পিউটার ও বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে তথ্যের আদান প্রদানে সহায়তা করে।বিশ্বব্যাপী মাকড়সার জালের মতো মোবাইল, কম্পিউটার সংযোগের জন্য আমরা একমুহূর্তে তথ্যের আদান প্রদান করতে পারি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে।ইন্টারনেটে ঠিকানার পারিভাষিক নাম ওয়েব অ্যাড্রেস।এই ঠিকানা লিখলে যে সাইট খুলে যায় পরিভাষায় তার নাম ওয়েব সাইট।

ইন্টারনেটের ইতিহাস:

১৯৬২ খ্রিস্টাবে গ্যালকটিক নেটওয়ার্ক কনসেপ্টের ধারণা অধ্যাপক জে. সি. আর লিকলাইডের মাথায় প্রথম আসে।এর দশ বছর পর এই ধারণা বাস্তবায়িত হয়।১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সূচনা হয়। জনসাধারনের মধ্যে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটতে প্রথমে সময় লাগে বছর আটেক।এই সময় ইরাকের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় যুদ্ধ চলছিল,আর সেই যুদ্ধের খবর ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পচারিত হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।এর পর ইন্টারনেটের প্রসার ঘটতে আর একটুও সময় লাগেনি।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর এর কয়েক মাসের মধ্যেই হাজার হাজার নতুন সদস্য ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়।ইন্টারনেট আস্তে আস্তে ঢুকে যায় গৃহস্থের অন্তঃপুরে।এভাবেই সারা পৃথিবীকে ইন্টারনেট মাকড়সার জালের মতো জড়িয়ে ফেলেছে বর্তমানে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার:

শুরুতে প্রথম প্রথম তথ্যের আদান-প্রদান করার জন্য ইন্টারনেটের ব্যাবহার হলেও যতই দিন যাচ্ছে ইন্টারনেটের ব্যবহারের বহুমুখিতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেট আমাদের আধুনিক সময়ের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এক প্রযুক্তি যা ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল কাজেই অসম্পূর্ণ।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষা,ব্যাবসা,যোগাযোগ, ব্যাঙ্কিং,চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট বিশেষ প্রয়োজন।কিছু সাধারণ ব্যাবহার নীচে আলোচনা করা হলো —

  • শিক্ষা ক্ষেত্রে – বর্তমানে ইন্টারনেট যেনো শিক্ষার ভান্ডার।যেকোনো প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক তথ্য ইন্টারনেট থেকে খুব সহজেই পাওয়া যায়।এছাড়াও ফর্ম পূরণ,ফল প্রকাশ সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়।
  • তথ্য আদানপ্রদানে – বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট তথ্যের আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত। ই-মেইলের মাধ্যমে এক মুহূর্তে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে নূন্যতম খরচে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
  • বিনোদনে – বিনোদনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। বিনোদনের সমস্ত কিছুই আজ ইন্টারনেটে উপলদ্ধ। যেমন – রেডিও, টেলিভশন,বিভিন্ন ভিডিও, গেম,ম্যাগাজিন ইত্যাদি।এমনকি বন্ধুদের সাথে চ্যাট করে জমিয়ে আড্ডাও দেওয়া যেতে পারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
  • ব্যাবসা বানিজ্যে – ইন্টারনেট ব্যাবসা বাণিজ্যকে দিয়েছে এক নতুন দিশা।ব্যাবসা এখন অনলাইনে।প্রয়োজনের সব কিছু বেচা কেনা থেকে হোটেল বুকিং,গাড়ি বুকিং, খাওয়ার অর্ডার বিভিন্ন কাজে ইন্টারনেট বহুল ব্যবহৃত।

এছাড়াও আরো অনেক অনেক কাজে ইন্টারনেট বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত।

ইন্টারনেটের অপব্যাবহার:

দিন দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের সংখ্যা।সেই সাথেই বাড়ছে এর অপব্যাবহার।প্রযুক্তির জন্ম মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে হলেও এক শ্রেণীর মানুষ এর অপব্যাবহার করে থাকে।অনলাইনে ঝোঁক বাড়ছে শিশুদের। অনলাইনের অনিরাপদ ব্যবহার শিশুদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করছে। যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু।বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুরি হচ্ছে ব্যাক্তিগত তথ্য।ভুল খবর ছড়িয়ে পড়েছে মুহূর্তেই।এছাড়াও একাউন্ট হ্যাক করে অর্থ-সম্পদ চুরি নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।ইন্টারনেট অনেক ভাবে কাজে ব্যাবহার হলেও এই ক্ষতিকর দিকগুলোকেও এড়িয়ে যাওয়া যায়না।

উপসংহার:

ইন্টারনেটের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে অস্বীকার করে দূরে সরিয়ে রাখার অর্থ মূর্খের স্বর্গে বাস করা।গোটা দুনিয়া এখন মাকড়সার জালের মতো ইন্টারনেটের জলে বাঁধা এর থেকে মুক্তি পাওয়া রবিনসন ক্রুসো এর মতো সমাজ সংসার থেকে বঞ্চিত দুর্ভাগ্যের বলি হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।


“ইন্টারনেট” রচনাটি পড়ে কেমন লাগলো জানাবেন।আপনাদের কমেন্ট আমাদের লেখার জন্য উৎসাহিত করে তাই এই লেখা থেকে আপনি উপকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।ভবিষ্যতে এরকম আরও রচনা পাওয়ার জন্য আমাদের follow করুন।ধন্যবাদ।

আর পড়ুন

Paribesh Dushan o Tar Protikar
বাংলার উৎসব
বইমেলা
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার

উল্লেখ: WikiPedia

Print Friendly, PDF & Email
English Essay, Autobiography, Grammar, and More...

Rakesh Routh

আমি রাকেশ রাউত, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় থাকি। মেকানিকাল বিভাগে ডিপ্লোমা করেছি, বাংলায় কন্টেন্ট লেখার কাজ করতে ভালোবাসি।তাই বর্তমানে লেখালেখির সাথে যুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

 

Recent Content

link to জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বা সংবাদপত্র রচনা [PDF]

জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রবন্ধ রচনা বা সংবাদপত্র রচনা [PDF]

banglarachana.com এ আপনাকে স্বাগতম। পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা...